খুঁজুন
সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৩ বছর পর সৈয়দপুর আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন:পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
১৩ বছর পর সৈয়দপুর আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন:পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব প্রত্যাশা

দীর্ঘ ১৩ বছর পর সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার।

সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা রমেশ চন্দ্র, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি সহ নীলফামারী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।

সম্মেলনকে ঘিরে সর্বত্র সরব আলোচনা চলছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে জেলা পুলিশ ক্লাবসহ পুরো শহরকেই সাজানো হয়েছে নতুন সাজে।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের মত সৈয়দপুরেও দলের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের নতুনদের আগমনের সুযোগ সৃষ্টিতে সারা পড়েছে। দল পরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা নিবেদিত প্রাণ ও একনিষ্ঠ তাদের সমন্বয়ে ঢেলে সাজাতে প্রস্তুত কাউন্সিলররা। একদিকে তারা যেমন নতুনত্ব আনতে আগ্রহী, তেমনি নবীন-প্রবীনের যৌথ নেতৃত্বও প্রত্যাশা করছেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খাঁটি আওয়ামীলীগার ও দেশপ্রেমিক নেতাকেই তাদের আগামী দিনের কর্নধার হিসেবে নির্বাচিত করতে চায় তারা।

এখন পর্যন্ত কাউন্সিলে প্রার্থীতা করার জন্য যারা প্রস্তুতি নিয়েছেন তাদের মধ্যে সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল। তিনি সর্বশেষ ২০০৫ সালে ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সাথে সভাপতি হয়েছিলেন আব্বাস আলী সরকার। তিনি ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী মারা যাওয়ার পর থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগকে এককভাবে পরিচালিত করে আসছেন আখতার হোসেন বাদল। তিনি ২০০৪ সালে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আখতার হোসেন বাদল

তিনি বলেন, সাধারণ তৃণমূলের নেতা কর্মীরা এখন অনেক সচেতন। তারা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। তবে যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যারা টাকার জোরে নেতৃত্ব পেতে চায় তাদেরকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দিলে তা দলের জন্য কতটুকু ভালো হবে সে বিষয়ে সকলকে ভাবতে হবে। তবে যেই আসুক দলের প্রয়োজনে তারা যেন নিবেদিত প্রাণ হয় সেটাই আমার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমার কোন প্যানেল নেই আমি এককভাবেই সভাপতি পদপ্রার্থী।

এদিকে ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী ও মোখছেদুল মোমিন এর প্যানেল এর সভাপতি প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী।

ইঞ্জি:সেকান্দর আলী

তিনি বলেন, দলকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করতে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকলকে অতীত ও ভবিষ্যৎ ভাবনায় রেখেই বর্তমান নেতৃত্ব নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের নাম মুখে মুখে। তিনি রেলওয়ে শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পূর্বে তিনি সে পদ ছেড়ে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ তৈরী করেছেন। এ কারণে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার প্রতি একটা ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি তৈরী হয়েছে বলে প্রচারণা রয়েছে।

মোখছেদুল মমিন

এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের সাথে। তিনি জানান, এটি দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্মেলন। এখানে একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা হচ্ছে মাত্র। প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। আমরা সবাই প্রতিযোগি এবং সবাই আওয়ামী পরিবারের সদস্য। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ থাকবেন। তারা যেভাবে পরামর্শক্রমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে কাউন্সিলরদের সুযোগ দেবেন সেভাবেই হবে। আশা করি নেতা-কর্মীরা সার্বিক দিক বিশ্লেষন করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

তিনি বলেন, যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে তাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কোন অপ্রীতিকর কথা প্রচার করে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। যাদের কর্মকান্ডই নেতিবাচক বা যাদের ইতোপূর্বে গন্ডগোল করার রেকর্ড আছে তারাই সম্মেলনকে ঘিরে ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। সকলের সহযোগিতায় সম্মেলন সফল করার মাধ্যমে আগামীর নেতৃত্ব যেন দলের সার্বিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে পারে সে প্রত্যাশাই করছি।

এর পাশাপাশি সাবেক এমপি মরহুম আলীম উদ্দিন ও বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা এমপি রাবেয়া আলীম এর ছেলে পেট্রো মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোঃ রাশেদুজ্জামানের নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু তিনি সভাপতি না সম্পাদক পদের প্রার্থী তা সুনির্দিষ্ট করে বলেননি। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দেখেন কি হয়।

হিটলার চৌধুরী ভুলু

এদিকে একটি সূত্র মতে, রাশেদুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী না হলে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জিকো আহমেদ প্রার্থী হবেন। পাশাপাশি সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র হিটলার চৌধুরী ভলুও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।

জিকো

সম্মেলনে উপজেলার ২৫৪ জন কাউন্সিলর তাদের মতামত দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন। এর মধ্যে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৮৬ জন, উপজেলা কমিটির ৫২ জন এবং অন্যান্য ১৫ জন। তবে গত ২০ অক্টোবর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলী মারা যাওয়ায় মোট ২৫৩ জন কাউন্সিলর রয়েছে।

Feb2

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনএমসিটি) প্রকল্পের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি (ড্রাফট কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) পর্যালোচনার জন্য আরও সময় চেয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়সূচিতে হাতে রয়েছে মাত্র দুই কার্যদিবস। এ অবস্থায় আলোচনাটি আসন্ন নির্বাচন পেরিয়ে পরবর্তী সরকারের সময়েও চলতে পারে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার বর্তমান ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অংশীদারিত্ব সঠিক পথেই এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আশিক মাহমুদ বলেন, এনএমসিটি প্রকল্পটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে উদ্ভূত। এই প্রকল্পভিত্তিক অংশীদারিত্বে প্রধান সংশ্লিষ্ট সংস্থা হলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ড।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ আলোচনাকে সহজ ও কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়— এ কথা উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই তাদের ভূমিকা।

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এনএমসিটি প্রকল্পটি গত এক মাসে আলোচনার একটি চূড়ান্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমানে এসব আলোচনা চলমান রয়েছে, যাতে সফলভাবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা যায়।

আশিক চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন্দর সক্ষমতা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বন্দর উন্নয়নের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা হয়, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অগ্রগতি দেখা যাবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো বিদ্যমান প্রকল্প পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজধানীতে নিজের বিরুদ্ধে ডাকা এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনার সাক্ষী হয় উপস্থিত জনতা ও সংবাদকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব ও আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত এই বিক্ষোভ শুরু হয়। যখন সবাই স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন নাসীরুদ্দীন নিজেই।

পরে তিনি উপস্থিত সবার কাছে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে সমাবেশস্থলের সামনেই তাকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে নাসীরুদ্দীনের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার এই সাহস ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

যদিও পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ‘‘আমার কথায় বা আচরণে যারা মনঃকষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

নাগরিকদের প্রতি শতভাগ দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। যে কোনো কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা। মানুষের আস্থা ফিরে আসছে, যা সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শুরুর পরেই জেলা প্রশাসক আগত সকল প্রতিনিধির নিকট থেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া হন। পরবর্তীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিকট জানতে চান—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে কিনা সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।