খুঁজুন
, ,

দুর্যোগে যারা মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন তারাই শ্রেষ্ঠ মানুষ : চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2020, 11:56 pm
দুর্যোগে যারা মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন তারাই শ্রেষ্ঠ মানুষ : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের পরিশ্রমের টাকায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রবাসীরাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রক্ত সঞ্চালন করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়নে তাদের অবদান অপরিসীম। এই দুর্যোগকালীন সময়ে জুন মাসে রেমিটেন্স আদায়ের হার ছিল সর্বোচ্চ। প্রবাসী বাংলাদেশীরা সারাবিশ্বে মেধা ও মানবিকতার স্বাক্ষর রাখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী রয়েছে, তারা তাদের শ্রম আর মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারছে বলেই সেখানে তারা সাফল্যের সাথে থাকতে পারছে। আমেরিকায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীরা অনেকেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সেখানকার অবস্থা আমাদের চেয়েও খারাপ। সে অবস্থায়ও দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসার টানে যারা ত্রাণ উপহার দেয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছেন সত্যিকার অর্থে তারা অনেক মহৎ। দুর্যোগ মহামারীতে যারা মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন তারাই শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি আজ শনিবার সকালে নগরীর চান্দগাঁওস্থ খাজা রোডে নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে চট্টগ্রাম সমিতি উত্তর আমেরিকার উদ্যোগে গৃহহীন হতদরিদ্র ও এতিমদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ‘সামাজিক দূরত্ব’ নিশ্চিতকল্পে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে করোনা মোকাবেলায় আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি। বিভিন্ন নিয়মনীতি অনুসরণ ও ছুটি থাকার দরুন অনেক দরিদ্র লোকের পক্ষে খাবার জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। সরকার তাঁদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ যথাসম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে আমেরিকা-চট্টগ্রাম সমিতি এগিয়ে আসায় তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চট্টগ্রাম সমিতি উত্তর আমেরিকার উপদেষ্টা কমরুদ্দিন আহমদ, মুজিবুদ্দৌলা চৌধুরী, গোলাম রব্বানী, সভাপতি আবদুল হাই, সহ সভাপতি খোকন কে চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, এনাম চৌধুরী, সামসুল আলম চৌধুরী, মাসুদ হোসেন সিরাজী, মতিউর রহমান, আশরাফ আলী খান লিটন, মহিউদ্দিন লাবু, জাফর শফি, শফিউল আজম সিকদার, পরিমল কান্তি চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন চৌধুরী লিটন, তারেক ইকবাল চৌধুরী, ফয়সাল বাপ্পী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ করোনা যোদ্ধাদের দোয়া মাহফিল ও স্মরণ অনুষ্ঠানে মেয়র
যারা জীবন বিলিয়ে করোনাকাল
মোকাবেলা করেছেন তাঁরা জাতীয় বীর

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, যারা মরণঘাতি করোনাকালে প্রতিরোধ যুদ্ধে হারিয়ে গেছেন তাঁরা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তবে এই দুর্যোগের মাঝেও সমাজ ও সভ্যতা বিরোধী নষ্ট মানুষের কালো কারবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি জনযুদ্ধ শুরু হওয়া সময়ের দাবী। কারণ এরা সমাজ-সভ্যতার অশুভবোধের বিপরীত কলংকের চিহ্ন। এ চিহ্নকে নির্মূল করতেই হবে। যারা ভয়কে জয় করে জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি জাতির সহস্র সালাম।

তিনি আজ বিকালে দারুল ফজল মার্কেটস্থ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড কার্যালয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কামান্ডের উদ্যোগে করোনায় (কোভিড- ১৯) আক্রান্ত এ সময়ের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও প্রসাশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় মেয়র এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে করোনা যুদ্ধে আমরা অভিন্ন যৌথ বাহিনী। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুধু দখলদারিত্বের জন্য হলেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো মানব, প্রাণি-প্রকৃতি, জগৎ রক্ষায়। সম্মিলিত সহযোগে এই যুদ্ধে সকল প্রাণি-প্রকৃতি একাকার। এই যুদ্ধ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির জন্য নয়, প্রাণি-প্রকৃতি জগতে সাম্য প্রতিষ্ঠার। তাই আমরা কেউ-ই নিরাপদ নয় জেনে শুধু প্রাণ রক্ষার জন্য নয়, বিশ্ব সামাজিক সাম্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়ায়ের মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি করোনা আগ্রাসনে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের রুহের শান্তি কামনা করে বলেন, আল্লাহ’র রহমত আছে বলেই যতক্ষণ প্রাণশক্তি আছে জীবন বাঁচিয়ে জীবিকার জন্য লড়াই করবো। ভিক্ষা ও ত্রাণ কখনো জীবনের জন্য অপরিহার্য ও দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং তা সাময়িক। এই বোধ আমাদের ভেঙে না পড়ার উজ্জীবন শক্তি। যারা জীবন বিলিয়ে করোনাকাল মোকাবেলা করেছেন তাঁরা জাতীয় বীর এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করি।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি কমান্ডার শহিদুল হক চৌধুরী সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা সৌরেন্দ নাথ সেন, চান্দগাও থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, পাঁচলাইশ থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ মিয়া, বন্দর থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা কামরুল আলম, আকবরশাহ থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুর উদ্দিন, ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ, হালিশহর থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হোসেন, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী জাফর আহমদ, খুলশী থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ, বাকলিয়া থানা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউসুফ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্বাক্ষী কাজী নুরুল আবছার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের পক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক ও শাহেদ মুরাদ সাকু প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ করোনাকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন সাহসের সাথে যে ভূমিকা পালন করেছেন এজন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান। এছাড়া ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে বাড়ী নির্মাণ করে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের যে ব্যবস্থা করেছেন এ জন্যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বাকী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য বাড়ীগুলো নির্মাণ কাজ শিঘ্রই উদ্বোধন করে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।