অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য মিরসরাই উপকূলীয় অঞ্চল,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা
আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে উঠতি বয়সের পাতি নেতার দল। এসব পাতি নেতারা চুরি, চিন্তাই, ইয়াবা ব্যাবসায় থেকে শুরুকরে ডাকাতির সাথেও জড়িয়ে পড়ছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে উপকূলিয় এলায় বসবাসকারী অতিসাধারণ জনজীবন। এরা কখনো গোয়াল থেকে পাল সহ গরু-মহিষ চুরি করছে আবার কখনো খোলামাঠে ঘুরে বেড়ানো ছাগল হাওয়া করে দিচ্ছে। পুকুরের মাছ, খোয়াড়ের হাস-মুরগি, জমির ফসল কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না তাদের চুরির তালিকা থেকে।জেলেদের জাল, নৌকার ইঞ্জিন, দোকানিদের মালামাল লুট করে নিচ্ছে রাতের আধারে অথবা প্রকাশ্য দিবালোকে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসব পাতি নেতাদের আশ্রয় পশ্রয় দেয়ার কারনে এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহসও পাচ্ছেন না ভুক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ গুলো।
বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকলেও রাজনৈতিক ইশারায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার সাহস করছেনা বলেও অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থদের। পুলিশ তাদের ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করলেও গোপন সূত্রে আগ থেকেই খবর পেয়ে গহীন বনাঞ্চলে গা- ঢাকা দেয় এসব পাতি নেতা ছিচকে চোরের দল। মাঝে মধ্যে পুলিশ আটক করতে পারলেও রাজনৈতিক নেতাদের ফোন পেয়ে থানা পর্যন্ত নেওয়ার আগেই ছেড়ে দিতে হয় তাদের। মাঝ পথ থেকে ছেড়ে দেওয়ার এমন কান্ডে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ থেকে ছাড়া পেয়ে এসেই এই সব পাতি নেতারা নির্যাতন চালায় অভিযোগ কারিদের উপর। তাই নিজেদের উপর নির্যাতন বেড়ে আতঙ্কে ও ভয়ে কোথাও অভিযোগ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছেন নির্যাতিতা উপকূলবাসি।
সাহেরখালী এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নিজামপুর ফাড়ির ইনচার্জ এসআই হাসেম এই প্রতিনিধিকে জানান, চুরির ঘটনাগুলো সম্পর্কে পুলিশ অবগত নয়, কেউ অভিযোগও দেয় নাই। তবে যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাহেরখালী উপকূলিয় এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানিয় ব্যবসায়ি, সাধরণ জনগন, ভূক্তভোগি ও ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে আলোচনা করে এলাকায় ব্যাপক চুরি, চিনতাই, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা কারি ভুক্তভোগিদের চোখে মুখে আতঙ্ক, ভয় আর শঙ্কা দেখা গেছে। নির্যাতন, চুরি, হামলা ও হুমকি ধমকির ঘটনা প্রকাশ করলেও অপরাধিদের নাম মুখে আনতে চান না কোন নির্যাতিতা।
নাম প্রকাশের কারনে গত ৬মাস পূর্বে একটি দোকান পুড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বেড়িবাধ এলাকায়। নির্যাতনের অভিযোগ করায় রাতের আধারে পথ রোধ করে শাষানোর নজির রয়েছে প্রতিনিয়ত। তাই নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে- আতঙ্কে অপরাধিদের নাম মুখে আনাও পাপ মনে করেন নির্যাতিত অনেকেই।
তবে তথ্য সূত্র গোপন রাখার শর্তে তিন পাতি নেতার নেতৃত্বে সাত সদস্যের উপকূলিয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের নাম প্রকাশ করেন তারা। এরা হলো ১) মামুন(২৫) পিতা-মৃত নুরুজ্জামান, ২) কাজি আব্দুর রহমান(২৬) পিতা-আনোয়ার, ৩) ইয়াবা মানিক ( উপকূলিয় এলাকায় ইয়াবার গড়ফাদার নামে পরিচিত) (২৮) পিতা-মহিউদ্দিন
এই তিনজনের নেতৃত্বে তাদের দলে কাজ করে আরো চার জন এরা হলো ৪) নয়ন (২৬) পিতা-মনা দাস, ৫) আবু নুর (২৮) পিতা-চুট্টু মিয়া, ৬) মোশাররফ (২৭) পিতা-জয়নাল ও ৭) শরীফ চৌধুরী (২৮) পিতা-মফিজুর রহমান।(চলবে)
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন