খুঁজুন
, ,

শান্তিতে বসবাস করতে চায় মিরসরাই উপকূলের জনগণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2020, 11:43 pm
শান্তিতে বসবাস করতে চায় মিরসরাই উপকূলের জনগণ

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী উপকূলিয় এলাকায় বসবাস করে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত জেলে সমাজ। সংসারে অভাব অনটন তাদের নিত্য সঙ্গি। জীবন বাজি রেখে ধাদনে টাকা নিয়ে নৌকা ও জাল ক্রয় করে জীবনের ঝুকি নিয়ে উত্তাল সাগরে জাল ফেলে মাছ ধরে জিবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এই নিরীহ জেলে সমাজের উপরও চলে এসব পাতি নেতাদের অন্যায় অত্যাচার জোল জুলুল ব্যাবিচার। নিরবে সব সহ্য করে কোন প্রকারে জীবন যাপন করতে পারলেও এত টুকু মুখ খুললেই তাদের উপর নেমে আসে অমানবিক অত্যাচার। জেলেদের জাল চুরি, নৌকার পাটতন, ইঞ্চিন চুরি, পাখা চুরি মাছ চিনতাই কোন কিছুই বাদ যায় না।

বেড়িবাধ এলাকার জসিম উদ্দিন মাষ্টার সওদাগর বলেন, তার দোকান থেকে জেলেদের জাল ও নৌকার ইঞ্জিনের যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যায়। যন্ত্রপাতির তেমন দাম না থাকলেও জেলেদের অনেক টাকা মূল্যের জাল গুলির জন্য খারাপ লাগে। দরিদ্র জেলেরা জালগুলি হারিয়ে নদিতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে এতে তাদের পরিবার গুলো বিপাকে পড়েছে খাবারের অভাবে।

রিপন সওদাগর বলেন, তার দোকানের সৌর-বিদ্যুতের ব্যাটারি, জেলেদের ইঞ্জিন চালিত নৌকার পাখা ও অন্যান্য মালামাল সহ প্রায় ১৬হাজার টাকার জিনিস চুরি হয়ে যায়।

স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার জয়নাল আবেদিন দুলাল জানান, বেড়ি বাধ এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ভুক্তভোগিরা বিভিন্ন সময় জানিয়েছে তবে কেউ বাদি হচ্ছে না, দুষ্কৃতিকারিদের নাম সরাসরি বলতে সাহস পাচ্ছে না। কেউ বাদি না হলে দুষ্কৃতিকারিদের নাম না বললে আমরা কার বিচার করবো। মানিক ও মামুনের ব্যাপারে জানত চাইলে তিনি বলেন, তারা এলাকার চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারি।

পুলিশ কয়েক বার গ্রেফতার করলেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় আরো বেশি অত্যাচার শুরু করে। মানিককে পুলিশ একবার গ্রেফতার করলেও থানা পর্যন্ত না নিয়ে ছেড়ে দেয়। তবে রাজনৈতিক কোন ফোনে নয়, পুলিশ টাকা খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে আমরা জানি।

১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে, তিনি এসবের কিছুই জানেন না বলে অস্বীকার করেন।

অভিযোগকারীদের নাম ও মেম্বারের রেফারেন্স দিলে তিনি বলেন, আমার কাছে সরাসরি লিখিত কেউ অভিযোগ করেনি। যদি চুরি হয়ে থাকে থাকায় জিড়ি করুক আমি থানাকে সহযোগিতা করবো আসামীদের গ্রেফতার করতে। গরু চুরির ব্যাপারে গরুর মালিক কে থানায় জিড়ি করতে বলা হলেও তিনি তা করেননি।

স্থানিয়দের অভিযোগ আপনার নিরবতায় আষ্কারা পেয়ে অভিযুক্তরা এসব অপকর্ম করছে এমন কথায় তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পুনরায় ফোন করা হলে তিনি ৬ নং ওয়র্ড মেম্বার জয়নাল আবেদিন দুলাল কে ফোন ধরিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে ভীত-তটস্থ অনিচ্ছুক ভূক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্থরা স্থানিয় চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরীর নিরবতাকেই দায়ি করছেন সকলেই। চেয়ারম্যানের নিরবতাকে দায়ি করলেও সরাসরি কথা বলতে সাহস পান না । তবে ফোনালাপে অনেকেই চেয়ারম্যান সহ স্থানিয় রাজনৈকি কয়েকজন নেতাকেই দায়ি মনে করে তাদের অভিমত প্রকাশ করেন। এসব ভূক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্ত নির্যাতিত মানুষ মনে করেন স্থানিয় রাজনৈতিক নেতারা একটু সদয় হলেই উপকূলিয় এলাকার পরিবেশ বাস যোগ্য হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এসব পাতিনেতাদের কারনে বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে উঠেছে এই উপকূলিয় জনপদ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।