খুঁজুন
, ,

ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদবাজারে সক্রিয় জালটাকার ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2020, 5:42 pm
ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদবাজারে সক্রিয় জালটাকার ব্যবসায়ীরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বত্র জাল টাকার একটি চক্র আবারও সক্রিয় হওয়ায় ঈদ বাজারকে টার্গেট করে নতুন করে মাঠে নেমেছে। ঈদসহ যেকোনো উৎসবে সাধারণ মানুষের নতুন টাকার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পাওয়ায় জাল টাকার কারবারীরা এ সুযোগকে কাজে লাগায়। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন
সাধারণ জনগণ বিশেষ করে বিচাকেনায় ব্যস্ত দোকানীরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রভাবশালীরা জাল টাকা ব্যবসার মূলহোতা। বিভিন্ন কৌশলে জালনোট চক্রটি সাধারণ

জনগণসহ তাদের সদস্যদের মাধ্যমে হাটবাজার, পাইকারি দোকান ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এদিকে জাল চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন সুন্দরী রমণীরাও জড়িত বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা শহরের বিভিন্ন মাকের্টের ও বাজারে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা। যে দোকানে ভিড় সে দোকানেই হানা দেয় জালনোট চক্রের সদস্যরা। দশ থেকে পনেরো হাজার টাকার মালামাল ক্রয় করে অর্ধেক আসল আর বাকিটা জাল টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে সটকে পড়ে তারা।

জাল সিন্ডিকেটের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য নিয়ে বিভিন্ন কায়দায় তারা জাল টাকাগুলো ছড়িয়ে এর বিনিময়ে কাপড়, কসমেটিক, জুতা, স্বর্ণালঙ্কার, খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করে বিক্রেতার হাতে কৌশলে ধরিয়ে দিচ্ছে নতুন জাল নোট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাল টাকার সঙ্গে জড়িত এক ব্যবসায়ী জানান, বিভিন্ন দিক ম্যানেজ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাল টাকা অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ৫শ টাকার জালনোট কেনা হয় ১শ টাকায়, ১হাজার টাকার জালনোট ৩শ থেকে ৪শ টাকায়, ১শ টাকার জালনোট ২০ থেকে ৩০ টাকায় ও
৫০ টাকার জালনোট ১০ টাকায় কেনা হয়।

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বাংলাদশ-ভারত সীমান্তবর্তী পয়েন্টে বিজিবির টহল কম থাকলে সেদিক দিয়ে জাল টাকার চালান আসে।

তিনি আরও জানান, জালনোট বিক্রেতার চক্রটি এবং এর সদস্যরা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে বেশি। রাতের অন্ধকারে ও বৈদ্যুতিক বাতির কারণে অনেক সময় জালনোটের নিরাপত্তা সুতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ও জলছাপ বোঝা যায় না। তাই কোনটি নকল আর কোনটি আসল না বুঝেই ব্যবসায়ীরা জাল টাকা রাখছেন। জাল টাকাগুলো এমনভাবে ছাপানো যে
অনেক সময় আসল টাকাকেই জাল মনে হয়।

কাপড় ব্যবসায়ি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সারা দিনের বেচাবিক্রি শেষে টাকাগুলো যখন ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সন্ধান পাই জাল নোটের, তখন ভীষণ আফসোস হয় আর লোকশানের কথা মাথায় ঘোরে। জাল নোটের ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলার সোনালী, মার্কেন্টাইল, এমটিবি, অগ্রণি সহ আরো কয়েকটি ব্যাংক এর সিনিয়র কর্মকতার্রা জানান, জাল টাকা চক্রের খপ্পরে পড়ে নিরীহ, সাধারণ ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম জানান, জাল টাকার নোট বিক্রি বন্ধে অনেক আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেচাকেনার স্থান গুলিতে আমাদের বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট
অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/গৌতম

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।