খুঁজুন
, ,

জিয়া’ই ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ‘আসল খলনায়ক’: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2020, 10:08 pm
জিয়া’ই ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ‘আসল খলনায়ক’: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ‘আসল খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কয়েক বছর পর একইভাবে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মতো আরেকটি নারকীয় হত্যাযজ্ঞে একই চরিত্রে আবির্ভূত হন।

প্রধানমন্ত্রী দু’টি ঘটনার তুলনা করে বলেন, প্রথম ঘটনায় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হত্যা পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল আমিসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পিছনে আসল খলনায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান।’

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কলঙ্কজনক ঘটনার সবচেয়ে সুফল ভোগকারী ছিলেন জিয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পরই তিনি সেনাপ্রধান এবং খন্দকার মোস্তাক আহমেদের উচ্ছেদের পরই রাষ্ট্রপতি হন। দন্ডপ্রাপ্ত খুনি ফারুক ও রশিদ বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে এই ষড়যন্ত্রে জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আইএমএলআই) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া, রশিদ, ফারুক, ডালিম ও অন্যান্যের সহায়তায় জাতির পিতাকে হত্যার পর পরই খন্দকার মোস্তাক স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি হয়ে জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াকে সেনা প্রধান হিসেবে মোস্তাকের নিয়োগ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততার আরেকটি প্রমাণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেতৃত্বশূন্য করতে খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ ও বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা ঘটায়।

তিনি বলেন, হত্যাকারীরা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েও তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ যে জন্য স্বাধীন হয়েছে, তা নস্যাৎ করে দেয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনী ফারুক ও রশীদ বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তারা বঙ্গবন্ধুকে জনবিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে তারা তাঁকে হত্যা করেন।

অনুষ্ঠানে আইএমএলআই থেকে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, এমপি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আবু মো. দেলোয়ার হোসেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসররা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির জয়কে মেনে নিতে পারেনি এবং তখন থেকেই তারা মূলত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে।

আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঠান্ডা মাথায় তারা বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল-শেখ কামাল ও শেখ জামালের স্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর নিকটাত্মীয়দের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে সফল হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা বাদে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্য অশ্রু বর্ষণ করেছে। ‘খুনিরা ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্খ হয়েছে তার নাম এখন বিশ্বে জ¦লজ¦ল করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরে জিয়াউর রহমান একের পর এক অভ্যুত্থানে প্রায় ২০০০ মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা ও সৈন্যদের হত্যা করেছিলেন এবং এভাবে হত্যার রাজনীতি শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি (জিয়া) পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর স্থানীয় দোসর শাহ আজিজ, আবদুল আলীম, মাওলানা মান্নানকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা করেছিলেন যারা দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মে জড়িত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া তার স্বামী জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজামী, মুজাহিদ এবং অন্য যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করেছেন যারা সরাসরি বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় জড়িত ছিল।

খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ এবং হুদাকে সংসদ সদস্য করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রশিদকে সংসদের বিরোধী নেতা করা হয়েছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি তাদের সাথে কোনো যোগসূত্র না থাকে তাহলে খালেদা জিয়া কেন ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে তাদের সংসদে বসার সুযোগ তৈরি করলেন?’ তিনি বলেন, তারা সব সময় (জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া) সন্ত্রাস ও হত্যার সাথে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

বিএনপি সরকার এবং খালেদা জিয়া নিজেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের লাঠিপেটা করেছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) দোষীদের পালানোর সুযোগ তৈরি করতে ঘটনাস্থল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বহু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন করার লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা এ লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছিলেন, কিন্তু করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সেগুলো সীমিত আকারে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পালন করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা এই শুভ উপলক্ষে শপথ নিয়েছেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না এবং সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করবেন।

‘এ লক্ষ্যে আমরা বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছি, তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের অগ্রগতি থেমে গেছে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দেশকে আবারও উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:27 am
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন আজ ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হচ্ছে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর কণ্ঠভোটে গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাস হয়। তার আগে সোমবার অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বাজেটে তিন বছর মেয়াদি রোড ম্যাপ দিয়েছেন। এর আওতায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠনের কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার। ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সোমবার সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। এ বিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা। অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দাখিলের শর্ত থেকেও ফিরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবেন। বহুল আলোচিত আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনসহ বেশকিছু পরিবর্তন এনে সোমবার সংসদে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও বেশকিছু ছাড় দেওয়া কিংবা নতুন আরোপিত কর বা শুল্ক বাতিল করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা সংসদে পাস হয়েছে। অবশ্য বিস্তর ছাড় দেওয়ার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। তবে অপেক্ষাকৃত বড়দের ওপর এই প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। দাবিগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:11 am
এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ফুটবল মাঠে দাপট ধরে রেখেছে গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ভেন্যু নিউজার্সি স্টেডিয়ামে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারাল। চলতি আসরে দ্বিতীয়বার জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির পাশে বসলেন তিনি। তার সঙ্গে মাইকেল অলিসের দুরন্ত পারফরম্যান্সে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে মনে হচ্ছিল সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্স হয়তো বিরতিতে যাওয়ার আগে গোল করতে পারবে না। অফসাইডের কারণে এমবাপের গোল বাতিল হওয়ার পর দুইবার গোলপোস্টে আঘাত। আর কয়েকটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে গেছে কয়েকবার।

ফ্রান্সের মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোল না হওয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ৪৫ মিনিটে এমবাপে গোলমুখ খোলেন। বক্সের বাম প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার পায়ের কাজে তার মার্কারকে পরাস্ত করেন, তারপর বেশ কাছ থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান। তারপরই দৌড়ে যান মা হারিয়ে কঠিন সময় পার করা কোচ দিদিয়ের দেশমকে সান্ত্বনা দিতে। প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সুইডেন কয়েকটি সুযোগ পেলেও ফরাসি গোলকিপার মাইক মাইগনানের সত্যিকারের পরীক্ষা নিতে পারেনি।

১৭ মিনিটে এমবাপে প্রথম আক্রমণে যান। তার দুর্বল শট সহজেই সুইডিশ কিপার হাতে নেন। তিন মিনিট পর বারকোলার শক্তিশালী শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। ২১তম মিনিটে অলিসের বাড়ানো বলে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে জালে বল ঠেলে দেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

হাইড্রেশন ব্রেকের পর ফিরে রাবিওর একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সুইডেন কিপার জেটারস্ট্রম। ৩৩ মিনিটে অলিসের পাস থেকে দূরের পোস্টে দাঁড়ানো এমবাপের দারুণ একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করে। পরের মিনিটে রাবিও আবার বল গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন।

৩৭ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে চোখ ধাঁধানো এক গোলের খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু তার ওভারহেড কিক গোলপোস্টে লাগে। ফিরতি বলে শট নিতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। বিরতির দুই মিনিট আগে অলিসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। তারপরই হতাশা দূর করা এক গোল করেন এমবাপে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৭তম এবং এই আসরে পঞ্চম গোল করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের পাশে বসেন।

বিরতির পরও মাঠে ফিরে আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে বারকোলা গোলদাতার খাতায় নাম লিখেন। এবারও গোল বানিয়ে দেন অলিস। তারই অ্যাসিস্টে ৭৪ মিনিটে এমবাপে নিজের জোড়া গোলের দেখা পান। প্রথম গোলের মতো এবারও বক্সের একই প্রান্ত থেকে জালে বল আছড়ে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এমবাপে তার ১৮তম গোলের দেখা পান, সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা মেসির (১৯) চেয়ে এক গোল পেছনে তিনি।

এমবাপের দ্বিতীয় গোলের আগে তাকে ও অলিসকে রুখে দিয়েছিলেন জেটারস্ট্রম। দুজনই ৮৬ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ২৫টি শট নিয়েছে, বিপরীতে সুইডিশদের শট ছিল ৮টি। ১২টি শট টার্গেটে রেখেছিল ফরাসিরা, ৯টি সেভে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি সুইডেন কিপার।

শেষ ষোলোতে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ের। ১৯৯৮ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পথে ফরাসিরা শেষ ষোলোতে এই দক্ষিণ আমেরিকানদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল। আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে করে প্যারাগুয়ের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:00 am
আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের রূপকথা শেষ ৩২ এ ফুরিয়ে যায়নি। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা আইভরি কোস্টকে হারিয়েছে। আর্লিং হালান্ডের গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে তাদের কঠিন পরীক্ষা।

প্রথমার্ধে আর্লিং হালান্ডের কপাল খারাপই বলতে হয়। তৃতীয় মিনিটে বক্সের সেন্টার থেকে তার একটি হেড ব্লকড। বিরতির তিন মিনিট আগে পা বাড়িয়ে দিয়ে তার নিশ্চিত গোল ঠেকালেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। মাঝে তার একটি ট্রেডমার্ক হেড সেভ করেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।

নরওয়ের গোলমেশিন গোল না পেলেও শেষ ৩২ এর ম্যাচে আইভরি কোস্ট পেছনে পড়েছে। মার্টিন ওডেগার্ডের অ্যাসিস্টে ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাম দিকে বল পেয়ে পায়ের কাজ দেখিয়ে কিছু জায়গা বের করেন। তারপর ডান পায়ের কোণাকুনি শটে ফোফানাকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন তিনি। নুসার একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি।

আর ওডেগার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন। তার আগে ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে যথাক্রমে এই রেকর্ড গড়েন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগোর বেলানোভ ও জার্মানির মাইকেল বালাক।

আইভরি কোস্টও নরওয়ের বক্সে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল না বল। ২১ মিনিটে ঘিসলাইন কোনানের ডানপায়ের শট কাছের পোস্ট দিয়ে বাইরের জালে জড়ায়। সাত মিনিট পর নিকোলাস পেপের ডান পায়ের শট বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে এমানুয়েল আগবাদুর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার ওরহান নাইলান্ড। শেষ মুহূর্তে তার একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৫৫তম মিনিটে পেপে বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ে শট নেন। নাইলান্ড সেটি ডানদিকের নিচু কোণা দিয়ে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। আইভরি কোস্টের এটিই ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সুযোগ। নরওয়ের বক্সে হেগেম একটি শট ব্লক করার পর বলটি ফাঁকায় পেপের কাছে চলে আসে, কিন্তু নাইলান্ড কাছের পোস্টে দুর্দান্তভাবে বলটি আটকে দেন।

দুই মিনিট পর ফ্রাঙ্ক কেসির বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট নাইলান্ড ডানদিকের নিচু কোণায় রুখে দেন। এই শটটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন পেপে।

৬৭তম মিনিটে একেবারে গোলমুখ থেকে নরওয়ের সুযোগ ফিরে আসে। হেগেমের বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শটটি প্রতিহত হয়। গোলটা না হওয়া ছিল বিস্ময়কর। কর্নার থেকে সরলথ বলটি ফ্লিক করে হেগেমের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং হেগেম মাত্র চার গজ দূর থেকে একটি নিচু ভলি মারেন। কিন্তু গোল লাইনের ওপর থাকা আমাদ দিয়ালো বলটি আটকে দেন এবং শেষ মুহূর্তে বিপদমুক্ত করে আইভরি কোস্ট।

৭৪তম মিনিটে নরওয়েকে ধাক্কা দেয় আফ্রিকানরা। দিয়ালো ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেপের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢোকেন। কিছুক্ষণ আগে গোললাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচানো ম্যানইউ তারকা একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে গোলরক্ষক নাইলান্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮৬তম মিনিটে হালান্ড ঠিক সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় হাজির হয়ে যান। অস্কার ববের ডিফেন্স-চেরা পাসের পর প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাক থেকে একদম কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। নরওয়ের হয়ে এটি তার ৫৩ ম্যাচে ৬০তম গোল এবং এই বিশ্বকাপের পঞ্চম গোল।

একেবারে শেষ মুহূর্তে নরওয়ের রক্ষাকর্তা হন নাইলান্ড। ৯৬তম মিনিটে দিয়ালো ফ্রি কিকে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ে শট নেন। ডানদিকে দুই কদম সরে উড়ে গিয়ে বাম হাতে বল বাম কোণার ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দিয়ালোর নেওয়া শটে বল নিশ্চিতভাবেই উঁচু কোণা দিয়ে জালে জড়াতো। কিন্তু নাইলান্ড ত্রাতা হয়ে এসে রুখে দিলেন।

নরওয়ে জিতলেও আইভরি কোস্ট মোট শট নিয়েছিল ১৪টি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের শট ছিল ৯টি। মূলত গোলকিপার নাইলান্ড চার সেভে দ্য এলিফ্যান্টদের রুখে দিয়েছেন। আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান দেশটি।

এর আগে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে উঠেছিল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে তারা ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ওই আসরেই ব্রাজিলকে গ্রুপ ম্যাচে পরাজিত করেছিল তারা।