খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় সরকারী অনুদানের তালিকায় নাম তুলতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পূজা কমিটির বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ণ
লোহাগাড়ায় সরকারী অনুদানের তালিকায় নাম তুলতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পূজা কমিটির বিরুদ্ধে

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পূজা উদযাপন কমিটির বিরুদ্ধে আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসবের পূজামন্ডপ কমিটির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে।

সরকারী অনুদানের তালিকায় নাম তুলতে দূর্গাপূজার মন্ডপ কমিটির তালিকা জমা নেয়ার নামে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের একাধিক পূজামন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের।

জানা যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার খোকন কান্তি নাথ ও অর্থ সম্পাদক কাঞ্চন অাচার্য্যের নেতৃত্বে উপজেলার প্রতিটি পূজামন্ডপ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে সরকারী অনুদানের তালিকা থেকে পূজামন্ডপের নাম বাদ দেয়া হবে বলেও মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দেয়া হয়। পশ্চিম কলাউজান মনমহাজন পাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পল্লী চিকিৎসক খোকন কান্তি নাথ বলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার খোকন কান্তি নাথ ও অর্থ সম্পাদক কাঞ্চন আচার্য্য আমার চেম্বারে এসে গত বছরের বকেয়াসহ দিতে হবে বলে ৬০০ টাকা নিয়ে গেছে। টাকা না দিলে সরকারী অনুদান প্রাপ্তির তালিকা থেকে পূজামন্ডপের নাম বাদ দেয়ার কথা বলায় আমি বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

একই ইউনিয়নের আদারচর শান্তিরাম সিকদার পাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সভাপতি উৎপল কান্তি দেব পিন্টু বলেন, মাষ্টার খোকন কান্তি নাথ আমাকে ফোন করে কমিটির তালিকা ও ৬০০ টাকা জমা দিতে বলেন। তবে আমি গত বছর উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃংখলা মিটিং এ গিয়ে জানতে পারি সরকারী অনুদানের টাকা পেতে কোন চাঁদা নেয়া হয় না। তাই আমি এখনো কমিটিও জমা দিইনি এবং টাকা দিইনি।

উপজেলার উত্তর বড়হাতিয়া রুদ্র পাড়া সর্বমঙ্গলা কালীমন্দির সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সভাপতি পরিমল রুদ্র জানান, বড়হাতিয়ার ডা: রাজিব রুদ্র পূজা পরিষদের কথা বলে অামাকে ফোন করে কমিটির তালিকার সাথে ৬০০ টাকা নিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন। টাকা না দিলে সরকারী অনুদানের তালিকা থেকে আমাদের পূজামন্ডপের নাম বাদ দেয়া হবে বলে জানান।

চরম্বা বিবিবিলা নাথপাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ শীল জানান, মাষ্টার লিটন বিশ্বাস আমাকে ফোন করে টাকা ও কমিটির তালিকা জমা দিতে বলেন। আমি চট্টগ্রাম শহরে থাকায় মধু দেবনাথের মাধ্যমে কমিটির তালিকা পাঠালে তাঁর কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়েছে।

পুটিবিলা নাথপাড়া জাগ্রত যুব পরিষদ সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সভাপতি আশুতোষ দেবনাথ জানান, পূজা কমিটি থেকে ফোন করে গত বছরের ৩০০ টাকাসহ দুই বছরের ৬০০ টাকা নিয়ে কমিটির তালিকা জমা দিতে বলেন। তবে আমরা এখনও কমিটির তালিকা জমা দিইনি।

পূর্ব কলাউজান ধরপাড়া সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির সভাপতি সজল ধর জানান, আমাদের কমিটির অর্থ সম্পাদক রাসেল ধরকে ফোন করে ৬০০ টাকা নিয়ে তালিকা জমা দিতে বলেন। যেহেতু আমরা গত বছরও পূজা কমিটিকে চাঁদা দিইনি তাই এখনও কমিটির তালিকা জমা দেইনি।

এ অভিযোগের সত্যতা জানতে লোহাগাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার খোকন কান্তি নাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মন্ডপ কমিটির সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক হলেন উপজেলা কমিটির কাউন্সিলর। তাই তাদের কাছ থেকে এগুলো রশিদের মাধ্যমে বার্ষিক সদস্য চাঁদা নেয়া হচ্ছে। প্রতি ঘট পূজা ২০০ টাকা ও প্রতিমা পূজা ৩০০ টাকা চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাঁদার টাকা না দিলে সরকারী অনুদানের তালিকায় পূজামন্ডপের নাম দেয়া হবে না- মন্ডপ কমিটির এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: তৌছিফ আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পূজামন্ডপে সরকারী অনুদান পাওয়ার জন্য পূজা কমিটি কর্তৃক চাঁদা নেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে যথাযথভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/আজাদ

Feb2

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।