খুঁজুন
, ,

টিভি নাটক : ৮ প্রজন্মের সেরা অভিনেত্রী যারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2020, 11:59 pm
টিভি নাটক : ৮ প্রজন্মের সেরা অভিনেত্রী যারা

টেলিভিশন নাটকের প্রথম প্রজন্মের অভিনেত্রীর কথা উঠতেই সবার প্রথম যার নাম জোরে সোরে উঠে আসে তিনি হচ্ছেন ফেরদৌসী মুজমদার। কেবল প্রথম প্রজন্ম বললেও কম বলা হবে। টেলিভিশনের প্রথম নাটকের অভিনেত্রীও তিনি। নাটকটির নাম ছিল ‘একতলা দোতলা’। এরপর বহু বছর তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। বর্তমানে তাকে তেমন নাটকে দেখা যায় না। কেবল টেলিভিশন নাটকেই নয়, থিয়েটারেও তিনি সরব। বেতারেও প্রচুর নাটক করেছেন। কিছু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। বিটিভির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নাটক সংশপ্তক-এ হুরমতি চরিত্রে অভিনয় করে সব মানুষের মনে জায়গা করে নেন অভিনেত্রী হিসেবে।

টেলিভিশন নাটকের প্রথম প্রজন্ম:

প্রথম প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে ফেরদৌসী মজুমদার ছাড়াও ডলি আনোয়ার, আলেয়া ফেরদৌসী, শরমিলী আহমেদ, আজমেরী জামান রেশমা, দিলশাদ খানমের নাম উঠে আসে অনায়াসে। ওই সময়ে সুজাতা ও রোজী সামাদও টিভি নাটকে অভিনয় করেন। যদিও পরে তারা সিনেমায় ঝুঁকেন। ডলি আনোয়ারও সিনেমায় অভিনয় করেন। ডলি আনোয়ারের বিখ্যাত সিনেমার নাম সূর্য দীঘল বাড়ি। ডলি আনোয়ারের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে-বকুলপুর কত দূর, জোনাকি জ্বলে। ডলি আনোয়ার আত্নহত্যা করেন।

নিধুয়া পাথার কান্দে নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন আলেয়া ফেরদৗসী। শরমিলী আহমেদ অভিনীত ওই সময়ের আলোচিত নাটক মালঞ্চ। এছাড়া বিটিভির ইতিহাসে প্রথম ধারাবাহিক নাটক দম্পতিতে অভিনয় করেন শরমিলী আহমেদ। আজমেরী জামান রেশমা আলোচনায় আসেন মুখরা রমণী বশীকরণ, ধূপছায়া, বিষুবরেখা, শেষের কবিতাসহ আরও বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে। দিলশাদ খানম ব্যাপক পরিচিতি পান রক্তকরবী নাটকে অভিনয় করে। অন্যদিকে সমালোচকরা দিলশাদ খানমকে প্রথম প্রজন্মের একটু পর এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের একটু আগের শিল্পী বলে অভিহিত করেন।

দ্বিতীয় প্রজন্ম:

টেলিভিশন নাটকের দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে সুবর্ণা মুস্তাফা, মিতা চৌধুরী, রিনি রেজা, শম্পা রেজা, সারা যাকের, প্রিসিলা পারভীন, আফরোজা বাণু প্রমুখের নাম বলতেই হবে। বিশেষ করে টিভি নাটকের দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিনেত্রীদেরকে বলা হয়ে থাকে সবচেয়ে আলোচিত জেনারেশনের একটি। সমসাময়িক এই অভিনেত্রীদের প্রত্যেকেই যার যার নামে জনপ্রিয়, পরিচিত এবং আলোচিত। কেবল মাত্র সুবর্ণা মুস্তাফার উদাহরণ দিলেই অনেক হয়ে যায়।

মিতা চৌধুরী বরফ গলা নদী নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। রিনি রেজা আলোচনায় আসেন রক্তে আঙুরলতা নাটকে অভিনয় করে। একটি মাত্র নটকে অভিনয় করেই তারকা বনে যান শম্পা রেজা। নাটকটির নাম ইডিয়ট। তারপর চার বছর অভিনয় করেননি শম্পা রেজা। চার বছর পর ফিরে আসেন অশ্রুত গান্বার নাটকে অভিনয় দিয়ে। প্রিসিলা পারভীন আলোচনায় আসেন মারিয়া আমার মারিয়া নাটকে অভিনয় করে। আফরোজা বাণু আলোচনায় আসেন কুমুর নিজের জীবন নাটকে অভিনয় করে। অন্যদিকে সকাল সন্ধ্যা ধারাবাহিকে শিমু ভাবী চরিত্রটিতে অভিনয় করে নাটকের জগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন আফরোজা বাণু।

দ্বিতীয় প্রজন্মের এইসব আলোচিত অভিনেত্রীদের সঙ্গে একটা সময়ে এসে অভিনয় শুরু করেন নায়লা আজাদ নুপুর। তারও পরে এসে নাম লেখান শান্তা ইসলাম, তারানা হালিম, লুতফুন নাহার লতা, শায়লা নেসার, আন্নি বেগ। তারানা হালিম শিশু শিল্পী হলেও দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পীদের সাথে সম্পৃক্ততা ঘটান নিজেকে নতুন করে। স্নেহ, যত দূরে যাই, ঢাকায় থাকি, তারানা হালিমের ক্যারিয়ারের আলোচিত নাটক।

লুতফুন নাহার লতার আলোচিত নাটক বহুব্রীহি। এদিকে সুবর্ণা মুস্তাফার কিছুটা পরে এসে অভিনয়ে নাম লেখান ডলি জহুর। ডলি জহুরের আলোচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে এইসব দিনরাত্রি, কুসুম, দৃষ্টিদান। তবে, সেই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে যার নাম উঠে আসে, তিনি সুবর্ণা মুস্তাফা। তার সমসাময়িক অভিনেত্রীদের তালিকায় উঠে আসে কেয়া চৌধুরী ও রেহনুমার নামও।

দ্বিতীয় প্রজন্মের পথচলা শুরু মূলত ৭০ দশক থেকে আশির দশকের প্রায় শেষ নাগাদ। এই দশকের শিল্পীরা টিভি নাটককে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এসময়ের আরও কিছু শিল্পীর নাম উঠে আসে। তারা হলেন রুবিনা, তানি আহমেদ, রোকসানা শিরিন, ইলোরা গহর, সাজিয়া আফরিন, উমি রহমান, জলি নাসরিন প্রমুখ।

তৃতীয় প্রজন্ম:

টেলিভিশন নাটকে তৃতীয় প্রজন্মের আগমন নব্বই দশকে। এই সময়ের অভিনেত্রীরা হলেন শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত, আফসানা মিমি, নুসরাত ইয়াসমিন টিসা, দীপা ইসলাম, উমি হাসিন, সাবিনা বারী লাকী, মুনিরা ইউসুফ মেমী, ত্রপা মজুমদার। এই জেনারেশনের আরও অভিনেত্রীরা হলেন ফারজানা অপি, তাহমিনা, তমালিকা, আবিদা আলী, বিজরী বরকত উল্লাহ, মিতা নূর, সিতিমা এনাম, রুবিনা পারভীন রুনা প্রমুখ।

তৃতীয় প্রজন্মের অন্যতম অভিনেত্রী বিপাশা হায়াতের প্রথম নাটক প্রচার হয় ১৯৮৭ সালে। বিবাহ নামের নাটকটির নাট্যকার ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। নাটকটির প্রযোজক ছিলেন নওয়াজীশ আলী খান। এরপর বিপাশা হায়াত আলোচনায় আসেন সুপ্রভাত ঢাকা নাটকে অভিনয় করে।

১৯৮৯ সালে প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন শমী কায়সার। নাটকের নাম কে বা আপন কে বা পর। শমী কায়সার আলোচিত হন যত দূরে যাই নাটকে অভিনয় করে। এরপর দর্শকপ্রিয়তা পান কোন কাননের ফুল, ছবি শুধু ছবি নয়, অন্ব শিকারি, ছোট ছোট ঢেউ নাটকে অভিনয় করে। তমালিকা আলোচনায় আসেন কোথাও কেউ নেই নাটকে অভিনয় করে। একই নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন আফসানা মিমি ও বিজরী বরকতউল্লাহ অভিনয় করে। অবশ্য আফসানা মিমি বউ কথা কও নাটকে অভিনয় করে সবার ভালোবাসা পান।

চতুর্থ প্রজন্ম:

টিভি নাটকের চতুর্থ প্রজন্মের শুরুটা হয় তারিন ও ঈশিতাকে দিয়ে। তারিন ও ঈশিতার অভিনয়ের এক বছরের মধ্যে টিভি নাটকে নাম লেখান অপি করিম। তারপর আসেন রিচি সোলায়মান। কিছুদিন পর আগমন ঘটে জয়া আহসান এর। যদিও তারিন, ঈশিতা, অপি ও রিচি শিশু শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন। কিন্তু শমী-মিমি-বিপাশার পরের জেনারেশনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন তারিন ও অপি করিম। একটা সময়ে এসে জয়া আহসানও নিজের আসন শক্ত করে নেন।

পাত্রী সংবাদ নটকটি দিয়ে তারিন নায়িকা হিসেবে টিভি নাটকে উপস্থিত হন। এর অন্ব শিকারি ধারাবাহিক দিয়ে তারিনের ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হয়। ঈশিতা লাইম লাইটে আসেন আবদুল্লাহ আল মামুনের শীর্ষবিন্দু নাটকটি দিয়ে। যদিও তারিন ও ঈশিতার আরও অনেক আলোচিত নাটক আছে। অপি করিম শিশু শিল্পীর ইমেজ ছেড়ে বড় হয়ে নাটকে অভিনয় শুরু করার পর, পেছনে সবুজ গ্রাম নাটকটি দিয়ে আলোচনায় আসেন। জয়া আহসান সংশয় নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর যদিও জয়াকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একটার পর একটা ভালো নাটকে অভিনয় করে জয়া তার অবস্থান শক্ত করেন। অপি করিমও ভালো ভালো নাটকে অভিনয় করে সবার মন জয় করে নেন।

পঞ্চম প্রজন্ম:

টিভি নাটকের পঞ্চম জেনারেশনের শুরু মেহের আফরোজ শাওন, সুমাইয়া শিমু, দীপা খন্দকার, নাদিয়া আহমেদ, চাঁদনী, সানজিদা প্রীতি, গোলাম ফরিদা ছন্দা প্রমুখ অভিনেত্রীদের দিয়ে। এরা প্রত্যেকেই প্রায় বিশ বছর ধরে অভিনয় করছেন এবং এখনো অভিনয়ে সরব সবাই। প্রত্যেকের রয়েছে জনপ্রিয় নাটক। এই জেনারেশনের কাজ জনপ্রিয়তা পাবার পর অভিনয়ে আসেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিশা একটা সময়ে নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন। অসংখ্য ভালো নাটকে তিশা অভিনয় করেন। সিনেমায়ও ক্যারিয়ার গড়েন। দুই মাধ্যমেই তিশার জনপ্রিয়তা। এই জেনারেশনের আরেকজন আলোচিত অভিনেত্রীর নাম শ্রাবন্তী।

ষষ্ঠ প্রজন্ম:

টিভি নাটকের ষষ্ঠ জেনারেশনের শুরু খুব বেশি আগে নয়। জাকিয়া বারী মমকে এই জেনারেশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ধরা হয়। শ্রাবস্তী তিন্নিও এই সময়ের আরেকজন আলোচিত অভিনেত্রী। যদিও পরে নিজের ক্যারিয়ার ধরে রাখতে পারেননি। এই জেনারেশনের আরও অভিনেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সোহানা সাবা, বিদ্যা সিনহা মিম, বাঁধন, বিন্দু, মুনমুন, প্রভা, নওশীন, সারিকা, নোভা, প্রমুখ।

সপ্তম প্রজন্ম:

এই জেনারেশনের সবচেয়ে আলোচিত মুখ মেহজাবীন। অনেক ভালো ভালো কাজ মেহজাবীনের ক্যারিয়ারে জমা হচ্ছে। দিন দিন তার ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হচ্ছে। এছাড়া অপর্ণা, মৌসুমী হামিদ, শবনম ফারিয়া, স্পর্শিয়া, সাফা কবির, নাদিয়া নদীদেরও এই প্রজন্মের কাতারে রাখা যায়।

অষ্টম প্রজন্ম:

এই প্রজন্ম বা মেহজাবিনদের পরের কাতার ধরলে সবচেয়ে আলোচনায় তাসনিয়া ফারিন। যদিও সপ্তম প্রজন্মের দৌরাত্বই চলছে এখনো। সেখানে পঞ্চম, যষ্ঠ থেকেও অনেকে সমানতালে অভিনয় করে যাচ্ছেন। তবে গেল দুয়েক বছরের হিসাব ধরলে সবচেয়ে আলোচনায় তাসনিয়া ফারিন। লাক্সের নাদিয়া মিম, মিম মানতাশা, নাবিলা ইসলামরাও ভালো করছেন। তানজিন তিশা মিউজিক ভিডিওতে অনেকদিন আগে আসলেও অভিনয়ে তাকে এই প্রজন্মেরই হিসাব করা যায়। খুব বেশিদিন হয়নি তিনি অভিনয়ে আলোচিত হয়েছেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 9:11 am
নিলামে পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস

অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে ৫৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

এর মধ্যে গত দেড় বছরেই আয় হয়েছে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা নিলাম রাজস্বে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য সরানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার খালি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় নিলামযোগ্য পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে এবং নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ২৪টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিলামে ১ হাজার ৮১৪টি লট বিক্রি করে ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়।

২০২২ সালে ৪২টি নিলামের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৮১টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ২৩টি নিলামে ৬৩২টি লট বিক্রি করে রাজস্ব আসে ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২০২৪ সালে ৫৫টি নিলামের মাধ্যমে ৫১১টি লট বিক্রি করে ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় হয়। ২০২৫ সালে ৬০টি নিলামে ১ হাজার ৪০টি লট বিক্রি করে আয় হয় ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪৫টি অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩৮৩টি লট বিক্রি করে ১৫৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কে এম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম ব্যবস্থাপনা, পণ্যের তালিকা প্রস্তুত (ইনভেন্টরি) এবং নিলামকৃত পণ্য বুঝিয়ে দেওয়ার কাজে তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে ২৮৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা এত স্বল্প সময়ে নিলাম থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালাস না হওয়া পণ্য অনলাইন ও প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নিলামের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা পণ্য বিক্রি থেকে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, নিলামের উপযোগী নয়-এমন পণ্য সরিয়ে বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 September, 2026, 8:34 am
ইতালিতে হামলার শিকার অভিনেত্রী বাঁধন, লাইভে যা বললেন

ইতালিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিক হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন।

অভিনেত্রী জানান, ইতালির একটি স্থানীয় পার্কে তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল ব্যক্তি হুট করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কোল্ড ড্রিংকস (কোক) ও ডিম ছুড়ে মারে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তা ছাড়া তার হাত থেকে মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। বাঁধন দাবি করেন, আক্রমণকারীরা তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে এবং পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পুরো সময় জুড়ে তার সঙ্গে অত্যন্ত গালমন্দ ও অসংগত আচরণ করা হয়।

ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন ও সহিংস আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। এভাবে উদ্দেশ্য হাসিল বা নিজেদের অবস্থান ফেরানো সম্ভব নয়।’’

ভিডিওটিতে তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেও বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন। আশা করি আপনারা বিষয়টি তার কাছে পৌঁছে দেবেন।’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল লোক নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করছে এবং বারবার তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করা আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।