সীতাকুন্ডে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ, দাম বেশীতে হতাশ ক্রেতা
কামরুল ইসলাম দুলু চট্টগ্রাম, সীতুকুন্ড (চট্টগ্রাম): মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় অনেকটা হতাশায় ভুগছিলেন জেলেরা। তবে হটাৎ করে সাগরে কাংক্ষিত রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের জেলেদের মুখে।প্রথমদিকে মাছ না পাওয়ায় হতাশ হযে পড়েছিল জেলেরা কিন্তু বর্তমানে জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ।
ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের প্রচুর ইলিশ পেয়ে খুশি জেলেরা। প্রবাল জলদাস জানান, প্রচুর ইলিশ ধরা পরতে শুরু করেছে। অনেক ছোট বড় ইলিশ ধরা পড়ছে এবং দাম ও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এখন জেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে পারবে। মহামারী করোনাভাইরাস ও অবরোধের কারণে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে সময় কাটিয়েছেন জেলেরা।সীতাকু- ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে ঝাকে ঝাকে রুপালী ইলিশ। দাম না কমায় হতাশা বিরাজ করছে ক্রেতা সাধাণের মাঝে।
মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় অনেকটা হতাশায় ভুগছিলেন জেলেরা। তবে হটাৎ করে সাগরে কাংক্ষিত রুপালি ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। সেই সাথে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলে, আড়ৎদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন, আবার কেউ কেউ সেই প্যাকেট দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামিম আহম্মদ বলেন, এই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১২৫.৫০ মেট্রিকটন ইলিশ মাছ আহরণ করা হয়েছে। তবে অনান্য বছরের তুলনায় এইবছর মাছ একটু কম আটক হচ্ছে। তবে মাছের আকার বড়। বাজারে বড় ইলিশ ১কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬শ টাকা থেকে ৮টাকায়, ৫শ গ্রাম থেকে ১কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪শ টাকা থেকে ৫শ টাকায়। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে ৩শ টাকায়। সবাই আশা করছে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ইলিশের পরিমান বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ইলিশ মাছের বংশ বিস্তারে প্রধান প্রজনন মৌসুমে সাগরে ২২ দিন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। ১৪ অক্টোবর দিনগত রাত অর্থাৎ ১২টা থেকে ২২ দিন (৪ নভেম্বর পর্যন্ত) ইলিশ ধরা ও বিক্রির উপর এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ১ থেকে ২ বছর মেয়াদে জেল বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ভোগ করতে হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে। ১৯৮৫ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধি (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস, ১৯৮৫) অনুযায়ী নিষিদ্ধের এ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ১ থেকে ২ বছর মেয়াদে জেল বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ভোগ করতে হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমদ।
২৪ঘণ্টা/এন এম রানা


আপনার মতামত লিখুন