নুরের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে হওয়া ধর্ষণ মামলায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে, মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। সব আমাদের নলেজে রয়েছে। যেভাবে অ্যাড্রেস করা দরকার পুলিশ সেভাবেই তদন্ত করছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলার পর এবার ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে কতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নুরসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। লালবাগ থানায় করা ধর্ষণ মামলার বাদীই নতুন এই মামলাটি করেন।
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং হেয়প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে নুরদের বিরুদ্ধে।
কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নুরসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। নুর ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, একই সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহহিল কাফি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, ‘‘এটা আসলে আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কারসাজী। কে এই মামলার বাদী আর কে কে আসামি তা আমি জানি না, জানতে চাইও না। এখন এদেশে ন্যায় বিচার নাই, কিন্তু একদিন তো ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। সেদিন এই মিথ্যা মামলার বিচার হবে।’’
নুর আরও বলেন, ‘‘মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি করছিলাম, সেখানে আক্রমণ করা হলো। আমি বুঝলাম না কেনই বা গ্রেপ্তার করা হলো, আবার কেন ছেড়ে দেয়া হলো। রাষ্ট্রযন্ত্রের কারো সাথে কারো মিল নাই। একজন মারধর করে, আরেকজন ছেড়ে দেয়। আমি আগেও বলেছি এদেশে ন্যায় বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই।’’
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
সমাবেশ থেকে নুরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক মামলা হিসেবে দাবী করা হয়। নেতাকর্মীরা এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান এবং কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানান।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত সাবেক ভিপি নুরকে নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা। তাকে দুই দফা আটক করে পুলিশ, পরে মুচলেকা দিয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে মুক্ত হন নুর।
ধর্ষণের অভিযোগে পুরান ঢাকার লালবাগ থানায় গত রোববার রাতে নুরুল হক নুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রী। এতে প্রধান আসামি করা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। আর ধর্ষণে সহযোগিতা করায় মামলার তিন নম্বর আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয় নুরের।
মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক দাবী করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার রাতে ঢাবির টিএসসি এলাকায় নুরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এরপর মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা টিএসসি থেকে মৎসভবন এলাকায় যায়। সেখানে পুলিশের সাথে নুরদের গোলযোগ বাঁধে। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরসহ সাতজনকে সেখান থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে নুরসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
এর ঘন্টাখানেক পর রাত ১০টার দিকে নুরকে অসুস্থ অবস্থায় একটি মাইক্রোবাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসে ডিবি পুলিশ। পুলিশের হামলায় আহত বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদিকে নেতাকর্মীদের হামলায় আহত ৫ জন পুলিশ সদস্যও ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সোমবার রাত ১১ ৩৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতাল থেকে আবারও নুরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা মেডিকেলের পকেট গেট দিয়ে নুরকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সময় তার সমর্থকরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে মুচলেকার মাধ্যমে নুরকে রাত পৌনে ১টায় মিন্টুরোডের ডিবি কার্যালয় থেকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, নুরসহ সকলকেই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে নুর একটু অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল, সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে এনে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন