খুঁজুন
সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কার স্বার্থে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কার স্বার্থে?

প্রদীপ চৌধুরী : চলতি সপ্তাহটি পাহাড়-সমতলে অপরাধের প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে বলেই মনে হয়। অন্তত: মূলধারার গণমাধ্যমে চোখ বুলালে সেটিরই প্রমাণ মেলে। এক সপ্তাহে এতো বীভৎস ও অমানবিক নারী নিপীড়নের ধারাবাহিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে জাতি দেখেনি। প্রতিটি ঘটনাই এতো বেশি হৃদয়বিদারক যে, মনে হতে পারে ধর্ষক-নিপীড়করা একই রক্তের বশংবদ। এরিমধ্যে সরকারি উদ্যোগে প্রশাসনিক তৎপরতায় খুব দ্রুততার সাথে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করার কাজ শেষ পর্যায়ে।

দেশের প্রচলিত আইনে বদমাশদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখার প্রত্যাশায় সারাদেশের বিবেকবান মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠন রাজপথে হাজির হয়েছেন।
একই সাথে খোলা চোখে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়-সমতলে সমানভাবে সংঘটিত অপরাধগুলোকে কোন কোন পক্ষ বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ করে চলেছেন।

মূলধারার গণমাধ্যমগুলো একটু রয়েসয়ে এসব রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যকে উপস্থাপন করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণহারে তা উস্কানিমূলক ও অস্বস্তিকরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
অস্বীকার করার কোনই কারণ নেই যে, আমাদের দেশে কখনো কখনো রাজনীতি ও ধর্মীয় উন্মাদনার সুযোগে দুর্বলের প্রতি এক ধরনের অবিচার সবসময় সংঘটিত হয়ে আসছে। নানা প্রকার ভয়ভীতি-প্রভাব বিস্তার-সাক্ষী প্রমাণের অভাবে অনেক অপরাধের বিচার হিমঘরে চলে যাবার নজিরও অনুসন্ধানে মেলবে। এমন অভিযোগ দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখনো অব্যাহত আছে। এটা আমাদের দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থার দীর্ঘ সময়ের চলমান একটি সীমাবদ্ধতা।

দেশের কোথাও কোথাও এখনো এমন সমাজব্যবস্থা পাওয়া যাবে; যেখানে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রকাশের মতো পরিবেশ পর্যন্ত নেই। ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দেয়া, টাকার পরিমাণে অপরাধকে ধামাচাপা অথবা কথিত সমঝোতার গল্প উঠে আসে সংবাদ মাধ্যমেও।

কিন্তু অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কখনো কোন অপরাধের বিচারকে ত্বরান্বিত করেছে; এমন উদাহরণ দেয়াটা কষ্টকর। আর তা যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়ে থাকে তাহলে তার পরিণাম ভিকটিম এবং সৎ ও নির্মোহ প্রতিবাদকারীদের জন্য রীতিমতো বিব্রতকর হয়ে উঠে।

দেশে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। সবকটি যথাসময়ে যথামাত্রায় সবিস্তারে পাঠকের চোখে ধরা পড়ে না। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারের লোকজন যদি অপরাধের সাথে জড়িত হোন তাহলেও বিচার নিয়ে এক ধরনের সংশয়-শংকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে নব্বই দশক থেকে দেশের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মোটামুটি গণতান্ত্রিক একটি অবস্থা বিরাজ করায় মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠ যেমন উচ্চকিত হয়েছে; তেমনি গণমাধ্যমগুলোও যেকোন অপরাধের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুসন্ধানী ভূমিকা পালন করতে পারছে। ফলে ভয়াবহ কোন অপরাধ এখন আর চাপিয়ে রাখার পথ অনেকটাই সংকুচিত।

একটি অপরাধপ্রবণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর ওপর যতো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তাঁর অনেকটাই সমাজের নীতি-নির্ধারকদের চোখে গৌণ অপরাধ হিশেবেই বিবেচিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে চলতি পথে সব ধর্মের নারী ও মেয়ে শিশুদের অবস্থা ও অবস্থান প্রায় সমান। এসব বিষয়ে কথা বলা দুরুহ বলেই দেশে নারীর উন্নয়নে যেকোন রাজনৈতিক ও সরকারি উদ্যোগ মাঝপথে চোঁচট খেয়ে পড়ে।

প্রায় একযুগের বেশি সময় ধরে দেশে একটি নারীবান্ধব রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরাজ করছে। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে নারীর অগ্রগতির জন্য অনন্য এক বিশ্বজনীন নেতা হিশেবে সমাদৃত। এই সময়কালে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদ থেকে সচিব, সংসদ সদস্য থেকে মন্ত্রীসভাসহ রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে নারী সমাজের যোগ্যতার যে বর্হিপ্রকাশ; সেটি জাতি আগে কখনো দেখেনি।

আবার এটাও সত্য যে, আমাদের দেশের বাস্তবতায় সারাদেশে সমসংখ্যক ইএনও, জেলা প্রশাসক, এসপি, এমপি, মন্ত্রী নিযুক্ত থাকলেও রাতারাতি নারীর প্রতি বৈষম্য-নিপীড়ন কমে আসবে সেটি আমি মনে করিনা। কারণ, আমাদের দেশের মূলধারার প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক দল নারীর শক্তিমত্তাকে পুরুষের সমান ভাবতে একেবারে অনভ্যস্ত। আমি পেশাগত জীবনে প্রতিনিয়ত উপলদ্ধি করি, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি নারী হন; তাঁর প্রতি সংশ্লিষ্ট পুরুষদের একটু অনমনীয় ভাব অনুভব করেন। জেলা প্রশাসক বা সম-মর্যাদার কর্মকর্তা যদি নারী হোন, তাও একই পরিস্থিতি লক্ষনীয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত দুটি জঘন্যতম ঘটনার উদাহরণ টানছি। সিলেট এমসি কলেজে গৃহবধুকে দলগত ধর্ষণের ঘটনাটির সাথে কারা জড়িত, এটি দিনের মতো পরিষ্কার। সরকারি দলের অনুগত এই ছাত্র সংগঠনটি নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত অনেক ভয়াবহ অপরাধের কথা বহুল প্রচারিত। আবার এসব অপরাধে দন্ডিত হয়ে অনেকে সাজা ভোগ করছেন। কেউ কেউ সাজার মুখে অথবা বিচারের মুখে আছেন। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে সরকারের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো অতীতেও এ ধরনের অপরাধ করেছে। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ একেবারেই কম। কিন্তু এই সরকারের সময়ে অপরাধ করে দলের অনেক শক্তিমান নেতাও পার পারছেন না। এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

বিপরীত পক্ষের একটি ছাত্র সংগঠন সিলেটের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলছেন পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত গালগল্প। সমতলের মতো একই চিত্র পাহাড়েও।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বেশকটি রোমহর্ষক নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত তা ইতিমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে ধরেছে। কিন্তু একটি পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই অপরাধকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করে চলেছেন।

অথচ অতীতে এই ধরনের ঘটনার বিচারের আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িকী ও রাজনৈতিকীকরণের ফলে প্রকৃত দোষীরা আড়াল হবার সুযোগ পেয়েছেন। পাল্টাপাল্টি আন্দোলন আর বাদ-বিবাদের ব্যত্যয়ে অনেক নির্মোহ প্রতিবাদ চুপসে গেছে সাম্প্রদায়িকতার তোড়ে।
অপরাধ এবং অপরাধীর গায়ের বর্ণকে চিহ্নিত করে অপরাধের বিচার এবং অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করার এই মানসিকতা কোনভাবে ন্যায়সাপেক্ষ হতে পারেনা। পুরনো অপরাধের অনেক ছবি সামনে এনে সাম্প্রতিক ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরছেন কেউ কেউ। কিন্তু সেসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত হয়েছে কীনা বা সেব ঘটনার বিচারিক কাজে অথবা ওইসব ভিকটিমের পরিবারের পাশে কেউ দাঁড়িয়েছেন কীনা; সে প্রশ্নটিও উঠতে পারে।

‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ উত্তর পাহাড়ের পরিবেশ প্রত্যাশামাফিক এগিয়ে যায়নি। এটির দায়দায়িত্ব রাজনীতি ও রাজনীতিকদের। কিন্তু যেকোন অপরাধের বিচার চাইতে গিয়ে উপুর্যপরি একটি জনগোষ্ঠিকে উদগ্রভাবে দোষারোপ মূলত অপরাধকে এবং অপরাধীদের ‘কালার ব্র্যান্ড’-ই করা হয়।

তারপরও দেশে নীরবে একটি নারী-পুরুষের ভারসাম্যপূর্ন অগ্রগতি ঘটে চলেছে। দৈশিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, সর্বোপরি বর্তমান সরকারের প্রত্যক্ষ প্রণোদনায় নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রগতি প্রতিদিন প্রতিমুর্হুতে দেশ-সমাজের অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যেতে বাধ্য হচ্ছে আমাদের দর্শন দোদুল্যমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গীও।

তাই আসুন, নারীর প্রতি সংঘটিত অপরাধকে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার চোখে না দেখে প্রতিবাদের ভাষাকে সার্বজনীন অবয়বে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলি। একটি অপরাধবিহীন দেশ-সমাজ তাবৎ পৃথিবীতে এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিইলতভাবে উচ্চকণ্ঠ থাকার কোনই বিকল্প নেই। পাহাড় এবং সমতলে সংঘটিত সব অপরাধকে ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু’ বিবেচনায় না নিয়ে সবলের ওপর দুর্বলের অত্যাচার-অবিচার হিশেবেও আমরা দেখতে পারি। সাহস ও সংঘবদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গ্রহণযোগ্য সার্বজনীন আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের সব বিবেকবান মানুষের ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।
আর এ ধরনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতেই দেশে একাত্তরের স্বপ্নাদ্য ‘অসাম্প্রদায়িক’ বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের চেতনা সঞ্চারিত হবে।

প্রদীপ চৌধুরী: পাহাড়ের সংবাদকর্মী ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক।

Feb2

মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফ্যামিলি কার্ডের মতো মা-বোনেদের হাতে এলপিজি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার। যেন রান্নাবান্নার কাজে তাদের আর কষ্ট করতে না হয়।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‌‘রান্নার কাজে মা-বোনেদের খুব কষ্ট হয় আমি জানি। এ কষ্ট গ্রামের মা-বোনেদের ও শহরের মা-বোনেদেরও। আমরা যেভাবে সারাদেশের মা-বোনোদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি সেভাবে এলপিজি কার্ডও পৌঁছে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন। আমরা চার কিলোমিটারের এই খাল পুনঃখনন করবে। এই খাল খনন করলে এলাকার মানুষ পানি পাবে। এতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষক উপকৃত হবে। ১৪০০ টনের মতো খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। খালের পানিতে ৭২ হাজারের মতো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। খাল খনন শেষ হলে এই খালের পাড়ে তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা সরকার গঠন করলে শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করতে চাই। যাতে গ্রামে বসবাসকারী মানুষ সেখান থেকে আয় করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। আমরা নারীদের পড়াশোনা উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করে দিতে চাই। পাশাপাশি মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদেরকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি এলাকা ছিল, যাকে অনেকে ‘স্টেট উইথিন স্টেট’ বলতেন। সেখানে সন্ত্রাসীরা নিজেদের মতো করে জমি বরাদ্দ দিত, বিদ্যুৎ–সংযোগ নিত, বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলত। সবকিছুই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি এবং সফলভাবে তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ধরনের প্রাণহানি ছাড়াই আমরা অভিযান সম্পন্ন করেছি।’

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সবার মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে একধরনের আশঙ্কা ছিল। কখন কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই শঙ্কা কাজ করত। অতীতের ঘটনাপ্রবাহও সুখকর ছিল না। বহুবার দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ড্রোনের মাধ্যমে আগেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সব বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সফলতা এসেছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার নিরপরাধ ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। সলিমপুরে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও পরিচালিত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সলিমপুরের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। আগে অনুমোদিত হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি—এমন কিছু সরকারি স্থাপনাও এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা কারাগার, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা স্থাপনের আবেদন নিয়েও কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন,
মানুষের সুবিধার্থে সেখানে একটি ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জমি–সংক্রান্ত সিন্ডিকেট বন্ধ করা যায়। খুব শিগগির এর কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত মানুষকে আইনানুগ কাঠামোর মধ্যে পুনর্বাসনের বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, এখন সলিমপুরের সাধারণ মানুষ নিজেদের অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছেন। তাঁরা ভয়মুক্তভাবে জীবনযাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ আর চাঁদাবাজির অভিযোগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, সলিমপুরের এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়। ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে ফের রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। তিন দিনের ব্যবধানে উপজেলায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাছির। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নাছির বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় মাটিকাটা, পাহাড় কাটা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেইবার আশঙ্কাজনক হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন।

এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামের এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাউজান। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে উপজেলাটিতে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চলছেই। এ সময়ে রাউজানে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। বাকিগুলো ঘটেছে পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র ধরে।