খুঁজুন
, ,

অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কার স্বার্থে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 27 September, 2020, 10:04 pm
অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কার স্বার্থে?

প্রদীপ চৌধুরী : চলতি সপ্তাহটি পাহাড়-সমতলে অপরাধের প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে বলেই মনে হয়। অন্তত: মূলধারার গণমাধ্যমে চোখ বুলালে সেটিরই প্রমাণ মেলে। এক সপ্তাহে এতো বীভৎস ও অমানবিক নারী নিপীড়নের ধারাবাহিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে জাতি দেখেনি। প্রতিটি ঘটনাই এতো বেশি হৃদয়বিদারক যে, মনে হতে পারে ধর্ষক-নিপীড়করা একই রক্তের বশংবদ। এরিমধ্যে সরকারি উদ্যোগে প্রশাসনিক তৎপরতায় খুব দ্রুততার সাথে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করার কাজ শেষ পর্যায়ে।

দেশের প্রচলিত আইনে বদমাশদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখার প্রত্যাশায় সারাদেশের বিবেকবান মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ছাত্র-যুব সংগঠন রাজপথে হাজির হয়েছেন।
একই সাথে খোলা চোখে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়-সমতলে সমানভাবে সংঘটিত অপরাধগুলোকে কোন কোন পক্ষ বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ করে চলেছেন।

মূলধারার গণমাধ্যমগুলো একটু রয়েসয়ে এসব রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যকে উপস্থাপন করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণহারে তা উস্কানিমূলক ও অস্বস্তিকরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
অস্বীকার করার কোনই কারণ নেই যে, আমাদের দেশে কখনো কখনো রাজনীতি ও ধর্মীয় উন্মাদনার সুযোগে দুর্বলের প্রতি এক ধরনের অবিচার সবসময় সংঘটিত হয়ে আসছে। নানা প্রকার ভয়ভীতি-প্রভাব বিস্তার-সাক্ষী প্রমাণের অভাবে অনেক অপরাধের বিচার হিমঘরে চলে যাবার নজিরও অনুসন্ধানে মেলবে। এমন অভিযোগ দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখনো অব্যাহত আছে। এটা আমাদের দেশের সরকার ও শাসন ব্যবস্থার দীর্ঘ সময়ের চলমান একটি সীমাবদ্ধতা।

দেশের কোথাও কোথাও এখনো এমন সমাজব্যবস্থা পাওয়া যাবে; যেখানে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রকাশের মতো পরিবেশ পর্যন্ত নেই। ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দেয়া, টাকার পরিমাণে অপরাধকে ধামাচাপা অথবা কথিত সমঝোতার গল্প উঠে আসে সংবাদ মাধ্যমেও।

কিন্তু অপরাধের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকীকরণ কখনো কোন অপরাধের বিচারকে ত্বরান্বিত করেছে; এমন উদাহরণ দেয়াটা কষ্টকর। আর তা যদি উদ্দেশ্যমূলক হয়ে থাকে তাহলে তার পরিণাম ভিকটিম এবং সৎ ও নির্মোহ প্রতিবাদকারীদের জন্য রীতিমতো বিব্রতকর হয়ে উঠে।

দেশে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। সবকটি যথাসময়ে যথামাত্রায় সবিস্তারে পাঠকের চোখে ধরা পড়ে না। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে সরকারের লোকজন যদি অপরাধের সাথে জড়িত হোন তাহলেও বিচার নিয়ে এক ধরনের সংশয়-শংকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে নব্বই দশক থেকে দেশের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মোটামুটি গণতান্ত্রিক একটি অবস্থা বিরাজ করায় মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠ যেমন উচ্চকিত হয়েছে; তেমনি গণমাধ্যমগুলোও যেকোন অপরাধের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুসন্ধানী ভূমিকা পালন করতে পারছে। ফলে ভয়াবহ কোন অপরাধ এখন আর চাপিয়ে রাখার পথ অনেকটাই সংকুচিত।

একটি অপরাধপ্রবণ সমাজ ব্যবস্থায় নারীর ওপর যতো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, তাঁর অনেকটাই সমাজের নীতি-নির্ধারকদের চোখে গৌণ অপরাধ হিশেবেই বিবেচিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে চলতি পথে সব ধর্মের নারী ও মেয়ে শিশুদের অবস্থা ও অবস্থান প্রায় সমান। এসব বিষয়ে কথা বলা দুরুহ বলেই দেশে নারীর উন্নয়নে যেকোন রাজনৈতিক ও সরকারি উদ্যোগ মাঝপথে চোঁচট খেয়ে পড়ে।

প্রায় একযুগের বেশি সময় ধরে দেশে একটি নারীবান্ধব রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরাজ করছে। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে নারীর অগ্রগতির জন্য অনন্য এক বিশ্বজনীন নেতা হিশেবে সমাদৃত। এই সময়কালে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদ থেকে সচিব, সংসদ সদস্য থেকে মন্ত্রীসভাসহ রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে নারী সমাজের যোগ্যতার যে বর্হিপ্রকাশ; সেটি জাতি আগে কখনো দেখেনি।

আবার এটাও সত্য যে, আমাদের দেশের বাস্তবতায় সারাদেশে সমসংখ্যক ইএনও, জেলা প্রশাসক, এসপি, এমপি, মন্ত্রী নিযুক্ত থাকলেও রাতারাতি নারীর প্রতি বৈষম্য-নিপীড়ন কমে আসবে সেটি আমি মনে করিনা। কারণ, আমাদের দেশের মূলধারার প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক দল নারীর শক্তিমত্তাকে পুরুষের সমান ভাবতে একেবারে অনভ্যস্ত। আমি পেশাগত জীবনে প্রতিনিয়ত উপলদ্ধি করি, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি নারী হন; তাঁর প্রতি সংশ্লিষ্ট পুরুষদের একটু অনমনীয় ভাব অনুভব করেন। জেলা প্রশাসক বা সম-মর্যাদার কর্মকর্তা যদি নারী হোন, তাও একই পরিস্থিতি লক্ষনীয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত দুটি জঘন্যতম ঘটনার উদাহরণ টানছি। সিলেট এমসি কলেজে গৃহবধুকে দলগত ধর্ষণের ঘটনাটির সাথে কারা জড়িত, এটি দিনের মতো পরিষ্কার। সরকারি দলের অনুগত এই ছাত্র সংগঠনটি নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত অনেক ভয়াবহ অপরাধের কথা বহুল প্রচারিত। আবার এসব অপরাধে দন্ডিত হয়ে অনেকে সাজা ভোগ করছেন। কেউ কেউ সাজার মুখে অথবা বিচারের মুখে আছেন। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে সরকারের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো অতীতেও এ ধরনের অপরাধ করেছে। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ একেবারেই কম। কিন্তু এই সরকারের সময়ে অপরাধ করে দলের অনেক শক্তিমান নেতাও পার পারছেন না। এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

বিপরীত পক্ষের একটি ছাত্র সংগঠন সিলেটের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলছেন পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত গালগল্প। সমতলের মতো একই চিত্র পাহাড়েও।

সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বেশকটি রোমহর্ষক নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত তা ইতিমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুলে ধরেছে। কিন্তু একটি পক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই অপরাধকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করে চলেছেন।

অথচ অতীতে এই ধরনের ঘটনার বিচারের আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িকী ও রাজনৈতিকীকরণের ফলে প্রকৃত দোষীরা আড়াল হবার সুযোগ পেয়েছেন। পাল্টাপাল্টি আন্দোলন আর বাদ-বিবাদের ব্যত্যয়ে অনেক নির্মোহ প্রতিবাদ চুপসে গেছে সাম্প্রদায়িকতার তোড়ে।
অপরাধ এবং অপরাধীর গায়ের বর্ণকে চিহ্নিত করে অপরাধের বিচার এবং অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করার এই মানসিকতা কোনভাবে ন্যায়সাপেক্ষ হতে পারেনা। পুরনো অপরাধের অনেক ছবি সামনে এনে সাম্প্রতিক ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরছেন কেউ কেউ। কিন্তু সেসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত হয়েছে কীনা বা সেব ঘটনার বিচারিক কাজে অথবা ওইসব ভিকটিমের পরিবারের পাশে কেউ দাঁড়িয়েছেন কীনা; সে প্রশ্নটিও উঠতে পারে।

‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ উত্তর পাহাড়ের পরিবেশ প্রত্যাশামাফিক এগিয়ে যায়নি। এটির দায়দায়িত্ব রাজনীতি ও রাজনীতিকদের। কিন্তু যেকোন অপরাধের বিচার চাইতে গিয়ে উপুর্যপরি একটি জনগোষ্ঠিকে উদগ্রভাবে দোষারোপ মূলত অপরাধকে এবং অপরাধীদের ‘কালার ব্র্যান্ড’-ই করা হয়।

তারপরও দেশে নীরবে একটি নারী-পুরুষের ভারসাম্যপূর্ন অগ্রগতি ঘটে চলেছে। দৈশিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, সর্বোপরি বর্তমান সরকারের প্রত্যক্ষ প্রণোদনায় নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রগতি প্রতিদিন প্রতিমুর্হুতে দেশ-সমাজের অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যেতে বাধ্য হচ্ছে আমাদের দর্শন দোদুল্যমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গীও।

তাই আসুন, নারীর প্রতি সংঘটিত অপরাধকে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার চোখে না দেখে প্রতিবাদের ভাষাকে সার্বজনীন অবয়বে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলি। একটি অপরাধবিহীন দেশ-সমাজ তাবৎ পৃথিবীতে এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিইলতভাবে উচ্চকণ্ঠ থাকার কোনই বিকল্প নেই। পাহাড় এবং সমতলে সংঘটিত সব অপরাধকে ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু’ বিবেচনায় না নিয়ে সবলের ওপর দুর্বলের অত্যাচার-অবিচার হিশেবেও আমরা দেখতে পারি। সাহস ও সংঘবদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গ্রহণযোগ্য সার্বজনীন আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের সব বিবেকবান মানুষের ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।
আর এ ধরনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতেই দেশে একাত্তরের স্বপ্নাদ্য ‘অসাম্প্রদায়িক’ বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের চেতনা সঞ্চারিত হবে।

প্রদীপ চৌধুরী: পাহাড়ের সংবাদকর্মী ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক।

Feb2

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:13 am
দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।

শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 11:08 pm
শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

“একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?”

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এভাবেই শিশুশ্রমের ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম কেবল শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন, মানবিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—”শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কৈশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলো এই সহায়তাকে শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের জীবনেও কতটা পৌঁছেছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির গল্প শুনে বড় হবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিবার ও সমাজে সেই পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে শিশুশ্রম নির্মূল করাও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি শিশু যদি শৈশব থেকেই কারখানা, ইটভাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে সে তার জীবনের সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানারই সুযোগ পাবে না। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

একটি উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি মাছকে যদি গাছে উঠতে বলা হয়, সে কখনোই তা পারবে না।” একইভাবে একটি শিশুকে তার বয়স ও সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঠেলে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক মানুষ এমন একটি জীবনযাপনের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখানে সুস্থ চিন্তা করার সুযোগও তারা পান না। তাদের সামনে সুস্থ সমাজের উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে পরিবর্তনও আসবে না। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘জোবায়দা’ নামে এক মেধাবী শিশুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে জোবায়দার মতো আরও অসংখ্য মেধাবী শিশু রয়েছে। কিন্তু সমাজ তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারেনি। তিনি ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোবায়দার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এ ধরনের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব, ভবিষ্যৎ ও জীবনকে কিনে নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রত্যেক উদ্যোক্তার উচিত যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না; সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, মানবিকতা ও বিবেকে। তাই সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকেও পর্যায়ক্রমে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস ও কিডস কালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়।

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।