খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেগমগঞ্জের লোমহর্ষক ধর্ষনের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে: বক্কর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
বেগমগঞ্জের লোমহর্ষক ধর্ষনের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে: বক্কর

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীর উপর ভয়াবহ পাশবিকতা, সারাদেশে নারী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

তিনি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সরকারী দলের ছত্রছায়ায় সারাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবী জানান।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যে লোমহর্ষক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শুধু নোয়াখালীর ঘটনাই নয়, গত কয়েক মাসে দেশে ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। নারীর শ্লীলতাহানি, নারীর ওপর নির্যাতন এটি এখন এই অবৈধ সরকারের নিয়মিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

দেশের মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আজকে এই দেশে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন আমাদের মা-বোনেরা। প্রতি মুহূর্তে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তাই এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই।

তিনি অবিলম্বে বেগমগঞ্জ, সিলেট,খাগড়াছড়িসহ সারাদেশে সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনার সাথে জডিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবী জানান। সমাবেশ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মো: আসলাম চৌধুরী সহ সরকারের প্রতিহিংসায় গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিঃ সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, করোনা মহামারীর শুরু থেকেই এই সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে। আমরা বারবার সরকারকে বলেছি, কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। কারণ এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা রাতের আধারে জোর করে জনগণের ভোট ডাকাতি করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমরা যারা জনগণের ক্ষমতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি শামসুল আলম, নাজিমুর রহমান, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, সিঃ যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক আলম, ইসকান্দার মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম রাসেল, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মন্জুর আলম চৌধুরী মন্জু, সম্পাদকবৃন্দ এড,সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হামিদ হোসাইন, জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী, শেখ নুরউল্লাহ বাহার, শহীদুল ইসলাম, আবদুল বাতেন, থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মো: সালাউদ্দিন আবদুল্লাহ আল হারুন, সহ সম্পাদকবৃন্দ এ কে এম পেয়ারু, আবদুল হালিম স্বপন, মো: সেলিম, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ শাহাজাহান, খোরশেদ আলম কুতুবী, জেলি চৌধুরী, আমলগীর নূর, আবু মুসা, রঞ্জিত বড়ুয়া, আবুল খায়ের মেম্বার, শফিক আহমদ, আলী আজম, থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ জাকির হোসেন, আফতাবুর রহমান শাহীন, আবদুল কাদের জসিম, নুর হোসাইন, হাজী বাদশা মিয়া, হাবিবুর রহমান, নগর বিএনপির সদস্য ইউসুফ সিকদার, আখি সুলতানা, আবদুর রহিম , আতিকুর রহমান, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শহীদুল্লাহ চিশতি, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান জিলানী, তাঁতী দলের আহবায়ক মনিরুজ্জাম টিটু, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ, মৎসজীবি দলের আহবায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব এড. আবদুল আজিজ, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, এস এম মফিজ উল্লাহ, রফিক চেধুরী, হাজী মো: ইলিয়াছ, কাজী শামছুল আলম, ইলিয়াছ চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলী নুর, মো: বেলাল, রাসেল পারভেজ সুজন, মো: আজম, মো: মহসিন, মো: সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান রিপন, এম এ হালিম বাবলু, সিরাজুল ইসলাম মুন্সি, আবুল কালাম আবু, জাহেদ উল্লাহ রাসেদ, ইয়াকুব চৌধুরী নাজিম, হাজী আবু ফয়েজ, হাজী মো: ইমরান, ফরিদুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক,আবু সাঈদ হারুন, সৈয়দ আবুল বসর, মামুন আলম, জিয়াউর রহমান জিয়া, জসিম মিয়া, কামরুল ইসলাম, শফিউল্লাহ, হাসান ওসমান, অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এম এ গফুর বাবুল, নাছিম চৌধুরী, মো: মুছা, তোফাজ্জল হোসেন, শহীদুল্লাহ বাহার, মজিবুল হক, আলী মুর্তোজা খান, হুমায়ুন কবির, মো: সেলিম, এরশাদ হোসেন, এম এ ইউসুফ, খায়রুল আলম দিপু, মো: আসলাম, মে: হারুন, মাঈনুদ্দিন রাসেদ, এমদাদুল হক বাদশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, জমির উদ্দিন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, জহিরুল হক টুটুল, মো: সরওয়ার, তানভীল মল্লিক, নওশাদ প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।