খুঁজুন
, ,

বেগমগঞ্জের লোমহর্ষক ধর্ষনের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে: বক্কর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2020, 7:04 pm
বেগমগঞ্জের লোমহর্ষক ধর্ষনের ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে: বক্কর

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীর উপর ভয়াবহ পাশবিকতা, সারাদেশে নারী ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

তিনি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সরকারী দলের ছত্রছায়ায় সারাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবী জানান।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যে লোমহর্ষক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শুধু নোয়াখালীর ঘটনাই নয়, গত কয়েক মাসে দেশে ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। নারীর শ্লীলতাহানি, নারীর ওপর নির্যাতন এটি এখন এই অবৈধ সরকারের নিয়মিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

দেশের মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আজকে এই দেশে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন আমাদের মা-বোনেরা। প্রতি মুহূর্তে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তাই এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই।

তিনি অবিলম্বে বেগমগঞ্জ, সিলেট,খাগড়াছড়িসহ সারাদেশে সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনার সাথে জডিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবী জানান। সমাবেশ থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মো: আসলাম চৌধুরী সহ সরকারের প্রতিহিংসায় গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিঃ সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, করোনা মহামারীর শুরু থেকেই এই সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে। আমরা বারবার সরকারকে বলেছি, কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। কারণ এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা রাতের আধারে জোর করে জনগণের ভোট ডাকাতি করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমরা যারা জনগণের ক্ষমতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি শামসুল আলম, নাজিমুর রহমান, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, সিঃ যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক আলম, ইসকান্দার মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম রাসেল, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মন্জুর আলম চৌধুরী মন্জু, সম্পাদকবৃন্দ এড,সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হামিদ হোসাইন, জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী, শেখ নুরউল্লাহ বাহার, শহীদুল ইসলাম, আবদুল বাতেন, থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মো: সালাউদ্দিন আবদুল্লাহ আল হারুন, সহ সম্পাদকবৃন্দ এ কে এম পেয়ারু, আবদুল হালিম স্বপন, মো: সেলিম, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ শাহাজাহান, খোরশেদ আলম কুতুবী, জেলি চৌধুরী, আমলগীর নূর, আবু মুসা, রঞ্জিত বড়ুয়া, আবুল খায়ের মেম্বার, শফিক আহমদ, আলী আজম, থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ জাকির হোসেন, আফতাবুর রহমান শাহীন, আবদুল কাদের জসিম, নুর হোসাইন, হাজী বাদশা মিয়া, হাবিবুর রহমান, নগর বিএনপির সদস্য ইউসুফ সিকদার, আখি সুলতানা, আবদুর রহিম , আতিকুর রহমান, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শহীদুল্লাহ চিশতি, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান জিলানী, তাঁতী দলের আহবায়ক মনিরুজ্জাম টিটু, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ, মৎসজীবি দলের আহবায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব এড. আবদুল আজিজ, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, এস এম মফিজ উল্লাহ, রফিক চেধুরী, হাজী মো: ইলিয়াছ, কাজী শামছুল আলম, ইলিয়াছ চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলী নুর, মো: বেলাল, রাসেল পারভেজ সুজন, মো: আজম, মো: মহসিন, মো: সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান রিপন, এম এ হালিম বাবলু, সিরাজুল ইসলাম মুন্সি, আবুল কালাম আবু, জাহেদ উল্লাহ রাসেদ, ইয়াকুব চৌধুরী নাজিম, হাজী আবু ফয়েজ, হাজী মো: ইমরান, ফরিদুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক,আবু সাঈদ হারুন, সৈয়দ আবুল বসর, মামুন আলম, জিয়াউর রহমান জিয়া, জসিম মিয়া, কামরুল ইসলাম, শফিউল্লাহ, হাসান ওসমান, অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এম এ গফুর বাবুল, নাছিম চৌধুরী, মো: মুছা, তোফাজ্জল হোসেন, শহীদুল্লাহ বাহার, মজিবুল হক, আলী মুর্তোজা খান, হুমায়ুন কবির, মো: সেলিম, এরশাদ হোসেন, এম এ ইউসুফ, খায়রুল আলম দিপু, মো: আসলাম, মে: হারুন, মাঈনুদ্দিন রাসেদ, এমদাদুল হক বাদশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, জমির উদ্দিন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, জহিরুল হক টুটুল, মো: সরওয়ার, তানভীল মল্লিক, নওশাদ প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।