খুঁজুন
, ,

লক্ষ্মীপুরে পৃথক ঘটনায় দুই স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 17 October, 2020, 4:46 pm
লক্ষ্মীপুরে পৃথক ঘটনায় দুই স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে রহিমা আক্তার লামিয়া (১০) নামে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহিমের বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

অপর দিকে রায়পুর উপজেলার ২ নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের উত্তর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শেণীর স্কুল ছাত্রী ডালিয়া আক্তারের মাথায় পতাকার স্টান্ড ভেঙে পড়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিকে বিবাদী করে মামলা করেছেন।

এদিকে লামিয়ার মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত লামিয়া একই এলাকার আবদুর রহিমের মেয়ে ও পশ্চিম চরকাদিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ জানায়, লামিয়া বিকেলে দোলনায় খেলছিলেন। ওই সময় দোলনার রশি গলায় ফাঁস লেগে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ বলছেন লামিয়া বাবা-মার সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আবছার জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

অপরদিকে রায়পুরে ৪র্থ শেণীর স্কুল ছাত্রী ডালিয়া নিহতের ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা ও সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবারে নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা উত্তর চরবংশী ইউপির সাবেক সদস্য টিটু কবিরাজ বাদি হয়ে এই মামলা করেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর জাতীয় পতাকার ঝরাজীর্ণ ষ্ট্যান্ড ভেঙ্গে ৪র্থ শ্রেণীর মেধাবি ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস ডালিয়া গুরুত্বর জখম হয়। তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় একটি হাসপাতালে উঠার সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে সে মারা যায়।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ৩০৪ এর ৩৪ প্যানাল কোড ১৮৬০ অবহেলা জনিত মৃত্যু ও সহায়তার অভিযোগে উত্তর চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু তাহের মাষ্টার-সহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, শিশুটি নিহতের ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কারণ দর্শানো একটি নোটিশ দিয়েই কোন দায়িত্ব শেষ করেছেন। এছাড়াও স্কুল চলাকালিন সময়ে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্য, গাইড বই বাণিজ্য, আল্পনা আক্তার নামে এক শিক্ষিকার বদলি, শিক্ষক না হয়েও মহিলাকে শিক্ষকের স্বামীকে দিয়ে পাঠদান করাসহ বেতন আত্মসাৎ ও স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় পরোক্ষভাবে দায়ী প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার। জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তারা পরিদর্শন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি।

নিহত ছাত্রীর পিতা টিটু কবিরাজ আরো জানান, প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তারের অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের নির্দেশই জেসমিন আক্তার প্রধানমন্ত্রীর ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতি করে চলেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্কুলের স্লিপ ফান্ডের টাকাও আত্মসাৎ করেছেন। সংস্কারের বাৎসরিক অনুদান পেলেও তার কোনটিই খরচ করেননি বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার পলাতক থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কেএম মোস্তাক আহম্মেদ জানান, করোনার মধ্যে স্কুল বন্ধ থাকলেও স্কাউটের তালিকা করতে ওই গ্রুপের নিহত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে স্কুলে ডেকে আনেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 11:07 pm
পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সঙ্গে ছিল জরুরি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী।

শুক্রবার তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক জানান, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। কোন উপজেলায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, টানা প্রায় পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।

সাতকানিয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:14 pm
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:38 pm
দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক দায়িত্ব। জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক অঙ্গীকার এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও আমরা অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেক বাজার এলাকায় অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের আরও বেশি মানুষের সেবা করার তাওফিক দান করেন। আপনারা সে জন্য দোয়া করবেন। জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানবসেবা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমির মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, পাঁচলাইশ থানা আমির রুমি, চকবাজার থানা আমির আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, চান্দগাঁও থানা সেক্রেটারি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জসিম উদ্দিন সরকার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রইছুর রহমান চৌধুরী তিতু, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল হোসাইন, ওমর গণি, আজাদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমির আমিরুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।