খুঁজুন
, ,

খাল ও নালা-নর্দমায় পলিথিন ও আবর্জনা নিজেরা না ফেলা পর্যন্ত জলাবদ্ধাতা নিরসন হবে না: সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 13 November, 2020, 10:56 pm
খাল ও নালা-নর্দমায় পলিথিন ও আবর্জনা নিজেরা না ফেলা পর্যন্ত জলাবদ্ধাতা নিরসন হবে না: সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, দোকান-পাট ও বাসা-বাড়ির সামনে খাল ও নালা-নর্দমায় যদি পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলি তা হলে কিছুতেই জলাবদ্ধাতা নিরসন হবে না। যারা এধরণের অপরিনামদর্শী অপকর্ম করেছেন তারা যদি এ থেকে বিরত না হন এবং নিজ উদ্যোগে খাল ও নালা-নর্দমা থেকে স্তূপকৃত ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ না করেন তাদের তাদের জরিমানসহ আইনের আওয়াত আনা হবে।

তিনি আজ সকালে নগরীর ৩৯নং ওয়ার্ডে সৈকত খাল পরিস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যতই নালা-নর্দমা ও খাল পরিস্কার, প্রশস্তকরণ এবং রাস্তা উঁচু করি না কেন, দেখা যাচ্ছে সেগুলো স্থানীয়রা ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন-প্লাষ্টিকের ভাগাড়ে পরিণত করেছে। এমনকি কর্ণফুলী তীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় যত্রতত্র গৃহস্থালী ও শিল্প বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে প্রকৃতির উপর ভয়াবহ বিরুপ প্রভাব পড়ছে, নাগরিক দুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি সৈকত খালে এবং আশে-পাশের নালা নর্দমায় স্তুূপকৃত পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনা দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাল-নালা-নর্দমা ও পানি চলাচলের পথ থেকে পলিথিন প্লাস্টিক বর্জ্য ও আবর্জনা টনে টনে সরিয়ে নিয়ে পানি চলাচলের পথ উম্মোক্ত করেছি কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই সেগুলো পূর্বের আবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এখানে বাইরে থেকে এসে কেউ পলিথিন ও আবর্জনা ফেলেনি, এই অপকর্ম স্থানীয়রাই করেছে। এখন থেকে যার যার বাড়ি ও দোকান পাটের সামনের খাল ও নালা-নর্দমা নিজেরাই পরিস্কার রাখবেন এবং যাতে পনি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন।

তিনি আরো বলেন, যারা সৈকত খালের উপর পারাপারের জন্য বিনা অনুমতিতে স্ল্যাব স্থাপন ও ওয়াসা খলের মধ্যে যে পাইপ লাইন করেছে সেগুলো ১৯ নভেম্বরের মধ্যে অপসারণ ও সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এসময়ের মধ্যে স্ল্যাব না সরালে সিটি কর্পোরেশন ভেঙ্গে ফেলবে।

তিনি আরো বলেন, এই করোনাকালে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। বর্ষা অতিক্রান্ত হলেও শীতকালে কোথাও যেন পানি জমাট ও পনি চলাচলের পথ আটকে না থাকে সে জন্য নিজ উদ্যোগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এডিস মশা প্রজনন যাতে না হয় সে জন্য নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় তিনি মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য নগরবাসীকে পরামর্শ দেন।

এ সময় চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন এলাকাবাসীর কাছে করোনা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিক হাজী হারুনুর রশিদ, সুলতান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, সমির মাহাজন লিটন, মোহাম্মদ কবির, মো. সামসুদ্দিন, মো. সেলিম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্চন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে করোনা, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

উন্নয়নশীল বাংলাদেশে লক ডাউন নয়, সচেতনতাই প্রধান: সুজন

আজ বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা এবং ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

এইসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, কভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ হানা দিয়েছে। ইউরোপে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আবার লক ডাউন শুরু হলে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে তা শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ জীবন ও জীবিকার চাকা একই সাথে সচল রেখে বৈশ্বিক বিরুপ পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই নতুন করে ছন্দ পতন সংকটকে ঘনীভূত করবে। এখন আমরা নিজেকে সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশৃংখল জীবন যাপন ও জীবিকা ধারণ করে পরিস্থিতিকে সামালে দেয়ার পাশাপাশি করোনা পূর্ব কালের সক্ষমতার জায়গায় পৌঁছতে হবে।

তিনি আরো বলেন, করোনাকালের প্রথম পর্বে ৭ মাসের অভিজ্ঞতায় আতঙ্ক কেটে গেছে, তেমন ডর-ভয়ও নেই। তবে একেবারে পরোয়া না করার মানসিকতা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিকে ডেকে আনবে। যাকে করোনা ছোবল দিয়েছে তিনি বুঝেন এটা কতটা ভয়ঙ্কর। তাই বিন্দুমাত্র অসচেতনতা ও ঢিলেমির কোন সুযোগ নেই। যারা মাস্ক না পরে বাইরে খোরাফেরা করছেন, বা মাস্ক সাথে রাখলেও নাক-মুখ ঢাকছেন না এবং অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরা ফেরা করছেন তারা ঝুঁকিতে আছেন। আপনারা বিপদ ডেকে আনবেন না। মনে রাখবেন একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবার ও সমাজ আক্রান্ত হতে পারে।

তিনি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র পরিস্কার, সাফ-সুরত করা এবং বাড়ি-ঘর-রাস্তা-ঘাট বাজার দোকান পাট এমনকটি ছাদ বাগন, টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পরিত্যক্ত টায়ার, টিনের কোটা, ডাবের খোসা, পলিথিন-চিপসের খালি প্যাকেট ইত্যাদিতে যেন পানি জমে থাকতে না পারে এ ব্যাপারে প্রতিটি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠনকে লক্ষ্য রাখতে আহ্বন জানিয়ে বলেন, নিজেকে সুরক্ষা করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা নিজেকেই আগে করতে হবে। তা না হলে আমরা আপনারা কেউই নিরাপদ নই। তিনি পঙেঙ্গা সৈকতে ৫ হাজার মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থি ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান প্রকৌশলী কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী অসিম বড়ুয়া, প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মোরশেদ আলম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইসকান্দর, মোঃ নুরুল আলম, মোঃ সেলিম, সমির মাহাজন লিটন ও জাহেদুল ইসলাম দুর্জয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম।

পরমত সহিষ্ণুতাই হলো বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতি: সুুুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চসিক কার্যালয়ে তাঁর অফিস কক্ষে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সময় প্রশাসক সাবেক মেয়রকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, আমরা দু’জনই রাজনীতিক। রাজনীতির মমার্থ হলো সেবা ও জনকল্যাণ। আমাদের মধ্যে মত ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু পরমত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে এবং এভাবেই বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে। তা হলে সমাজে কখনো সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা থাকবেনা এবং স্থিতি ও শান্তি বিরাজ করবে।
মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, এই চট্টগ্রাম নগরী দেশের অর্থনৈতিক প্রাণ স্পন্দনের কেন্দ্র। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই নগরীর বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করা সম্ভব। তিনি চট্টগ্রামকে সকলের বাসযোগ্য নগরীর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসককে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।