খুঁজুন
সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা খুন, ধর্ষণ: নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ জরুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা খুন, ধর্ষণ: নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ জরুরী

অপরাধ বলতে সমাজ কর্তৃক শস্তিযোগ্য কোনো অন্যায় আচরণকে বুঝায়। সাধারণত অপরাধ আইন বা দন্ডবিধি উদ্দেশ্যমূলকভাবে লঙ্ঘন করাকে আইনগত দৃষ্টিকোণ হতে অপরাধ বলা হয় এবং এর জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের আইনগত সংজ্ঞার একটি বড় সুবিধা হলো এটি অপরাধের সামাজিক সংজ্ঞা হতে অনেক সংক্ষিপ্ত ও দ্ব্যর্থক।

সুতরাং আইনগত সংজ্ঞানুযায়ী- (ক) অপরাধ হচ্ছে এক ধরনের আচরণ এবং (খ) ওই আচরণটি বিদ্যমান অপরাধ আইনকে অমান্য করে। এ সংজ্ঞার একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে সমাজের জটিল সমস্যাকে আড়াল করা হয়। কেননা কোনো সমাজই চিরস্থির নয়। আসলে প্রতিনিয়ত সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে।

একইভাবে অপরাধ প্রবণতা ও এর ধরনও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আবার সমাজভেদে অপরাধ আচরণের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন সিঙ্গাপুরে চুইংগাম বিক্রি করা একটি অবৈধ কাজ কিন্তু আমেরিকানদের কাছে তা অচিন্তনীয়। সুতরাং অপরাধ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে হলে একটি বিশেষ সমাজ কোনো কাজগুলোকে অপরাধ হিসাবে বিচার করে তা দেখা অপরিহার্য।

এছাড়াও সামাজিক সংজ্ঞানুসারে সমাজে প্রচলিত আদর্শসমূহের যে কোনো লঙ্ঘণকে অপরাধ বলে। অর্থাৎ অপরাধ সমাজ বিরোধী কাজ। মানুষের মধ্যে কিছু মানবীয় আচরণ আছে যা অপরাধ আইনের পরিপন্থী নয় কিন্তু সামাজিকভাবে নিন্দনীয় বা সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা বা অনুশাসনের পরিপন্থী। ফলে তা সামাজিকভাবে ঘৃণিত ও দন্ডনীয়। এমতাবস্থায় অপরাধ প্রবণতা বা অপরাধ সংঘটিত হওয়া কারো কাম্য নয়। তদুপরি আদিম যুগ থেকেই মানুষের মধ্যে নৃশংসতা ও বর্বরতা ছিল।

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়াস চালানো হয়। যদিও মানুষ সভ্যতার মুখোশ পরে আছে। মানুষের অমানবিক আচরণগুলো মূলত তার পাশবিক প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। জন্মগত পাশবিক প্রবৃত্তিগুলো পারিপার্শ্বিকতার কারণে জাগ্রত হয়। কমবেশি পশুত্ব স্বভাব প্রত্যেক মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে। জাতি-গোষ্ঠী, শ্রেণি-লিঙ্গ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, না পাওয়ার অতৃপ্তি ও ঘৃণা মানুষের স্বাভাবিক সহজাত প্রবৃত্তিকে বাধাগ্রস্ত করে।

বিশ্লেষণে দেখা যায় মানুষের অপরাধ প্রবণতা ও নিষ্ঠুরতা সমাজে আগেও ছিল। এখন এর ভিন্ন আকারের চরম বহিঃ প্রকাশ ঘটছে। মানুষের পাশবিকতার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, তা এক দিনে তৈরি হয়নি। আগে কোনো অপরাধ করলে সমাজে জবাবদিহি করতে হতো। এখন কোথাও তা করতে হয় না। অন্যায়-অপরাধ করে দিনের পর দিন অপরাধীরা অনায়াসে পার পেয়ে যায়। এতে মানুষের মধ্যে ভীষণ হতাশা তৈরি হয়।

একজন নিরাশ মানুষ নিজের হতাশাকে কাটাতে, নিজের অপ্রাপ্তিবোধের তাড়না থেকে নিজের চেয়ে দুর্বল কাউকে বেছে নিয়ে তার ওপর হিংস্রতা দেখিয়ে একধরনের মানসিক পরিপূর্ণতা লাভ করতে চায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে। পক্ষান্তরে মানুষ যখন দেখবে, অপরাধ করে পার পাওয়া যায় না, তখন অন্যায় পথে পা বাড়াতে সাহস পাবে না।

তখন সমাজে অপরাধ করার প্রবণতা কমে আসবে। সভ্য সমাজে কোমলমতি শিশু ও অসহায় নারী নির্যাতনসহ তুচ্ছ কারণে খুনখারাবি, নৃশংসতা, বর্বরতা ও নির্মমতার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে! সমাজ জীবনে মানুষ কেন এমন জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে, কেন পশুর মতো এতটা হিংস্র ও নৃশংস হয়ে উঠছে? কেনই-বা মানুষ নিজের ‘মান’ আর ‘হুঁশ’ হারিয়ে অমানুষ হয়ে যায় তা এখন ভাবিয়ে তুলছে সকলকে।

মানবাধিকার ও সমাজকর্মী, অপরাধ বিশ্লেষক, মনোবিজ্ঞানী, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব নৃশংসতার জন্য দোষী ব্যক্তিদের যথাসময়ে বিচারের মুখোমুখি করতে না পারাকে দায়ী করছেন; একই সঙ্গে তাঁরা ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়কেও দোষারোপ করছেন।

যদিও সীমা লঙ্ঘনকারী মানুষকে সাবধান করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল। স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের কাছে তাদের রাসুল এসেছিল, কিন্তু তারা বিশ্বাস করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।’ অথচ ধর্ম-কর্ম ভুলে ক্ষুদ্র, তুচ্ছ কারণে সমাজে যত বীভৎস ঘটনা ঘটছে, কয়েক বছর আগে তা ছিল না।

এ ব্যাপারে বর্তমানে গণমাধ্যম অনেক সোচ্চার বলে ঘটনাগুলো বেশি আলোচিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত আর সামষ্টিক মূল্যবোধের মধ্যে সংঘাত সব সময় রয়েছে। প্রতিটি বীভৎস ঘটনাকে তাই আলাদাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাদের মধ্যে ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ কম, তাদের এই বার্তা দিতে হবে। আর অপরাধ করলে সাজা নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ভাবনার বিষয় হল ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধের আজ দারুণ সংকট।

সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক আধ্যাত্মিক, দার্শনিক ও ধার্মিক চিন্তা-চেতনার পরিবর্তে আস্থাহীনতা, অমানবিকতা, অসভ্যতার মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। কৃত্রিমতা, চাতুরতা, স্বার্থপরতা, তিক্ততা, হীনমন্যতা, ঈর্ষা, ক্রোধ, অহমিকা, দাম্ভিকতা, অনাচার অবিচার, অকৃতজ্ঞতা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, বেলাল্লাপনা, যৌনাচার, অবিচার, অমিতাচার, নৃসংসতা, বারবনিতা, বহুগামিতা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, অত্যাচার, ষড়যন্ত্র, খুন, গুম, অপহরণ, পণ আদায়, ঠকবাজী, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, যৌতুক, মাদক, বাল্যবিবাহ, চোরাচালানী, মজুদখোরী, ব্লু-ফিল্ম, পর্ণসাহিত্য, বিজাতীয়, আকাশ সংস্কৃতির অবাধচর্চা, অমিতাচার, পরকীয়া, ঝগড়া, কলহ, বিরোধ, গোপনে অবৈধ মেলামেশা, ইভটিজিং, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু ধর্ষণ, শিশু খাদ্যে বিষক্রিয়া, চাঁদাবাজী, বোমাবাজী, কোচিং ব্যবসা, সাইবার ক্রাইম, সাইবার, মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয়ে হামলা, হত্যা, দান বাক্স ও জুতা চুরি ইত্যাদি অনৈতিক কর্মকান্ড সামাজিক নিরাপদ পরিবেশকে মারাত্তকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। এর ফলে স্বস্থি, শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

উদ্ধিঘ্ন হওয়ার বিষয় হল পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান ও সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতা হত্যার মত ন্যাক্কার ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটছে এদেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী থেকে চলন্ত ট্রেন, চলন্ত বাসে আগামি দিনের কর্ণধার শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হত্যার পর লাশের উপর নৃত্য করা হচ্ছে। শিশুদের ও নারীদের উপর চলছে নির্যাতনের মহড়া। সর্বত্র ভীতি, আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর অনিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছি আমরা। হতাশ হয়ে পড়ছে সুশীল সমাজ, সাদা মনের মানুষ, সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, অভিজ্ঞ মহল, মানবতাবাদী, পরিবেশবাদী আর সেই সাথে এদেশের নাগরিকরা। কারণ একটির পর একটি বীভৎস ঘটনা ঘটেই চলেছে। ম্লা করে দিচ্ছে অতীতের বীভৎস রেকর্ড। সব মিলিয়ে গোটা সমাজ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে এক চরম হতাশা, অমানিষার অন্ধকার ও ক্রান্তিকাল।

প্রতিদিন খবরের কাগজে ও সার্বক্ষণিক ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোতে আমরা যা দেখছি তা সমাজ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিপরীতে সমাজ ব্যবস্থায় চরম অবনতি ও অবক্ষয়ের খবরা খবরের পরিমাণ বেশি। দেশের নানা স্থানে ঘটে যাওয়া পৈশাসিক, আতঙ্কিত, নিষ্ঠুর, লোমহর্ষক, বীভৎস সংবাদগুলো জাতির বিবেককে মারাত্মকভাবে আহত করছে। মানবতা ও মানবাধিকারের হালচিত্র দেখে মনে হয় আমরা এ কোন যুগে আছি।

এ অবক্ষয় থেকে মুক্তির উপায় বের করার জন্য উচ্চতর গবেষণা জরিপ ও পর্যবেক্ষণ করার এখনি সময়। কারণ কি কি কারণে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে, কারা এর জন্য দায়ী, কি উপায়ে এর প্রতিকার সম্ভব, এ বিষয়ে প্রথমে রাষ্ট্রের কর্ণধাদের এগিয়ে আসতে হবে, সেই সাথে এগিয়ে আসতে হবে দেশের সুশীল সমাজ, সাদা মনের মানুষ, সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, মানবতাবাদী, পরিবেশবাদী সংশি¬ষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মহল, দেশি- বিদেশি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা, মানবাধিকার প্রবক্তা, সাংবাদিক, গবেষক, দার্শনিক, ধর্মীয় নেতাসহ সর্বস্তরের প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার-ভিডিপি এবং সর্বপরি রাষ্ট্রযন্ত্র ও সর্বস্তরের গণমানুষকে।

তাহলে হয়তো সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা কমিয়ে এদেশকে মহা দুর্যোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব। তা নাহলে দেশের ভবিষ্যৎ পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ভূলুণ্ঠিত হবে মানবিক মূল্যবোধ।

লেখক: প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

Feb2

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনএমসিটি) প্রকল্পের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি (ড্রাফট কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) পর্যালোচনার জন্য আরও সময় চেয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়সূচিতে হাতে রয়েছে মাত্র দুই কার্যদিবস। এ অবস্থায় আলোচনাটি আসন্ন নির্বাচন পেরিয়ে পরবর্তী সরকারের সময়েও চলতে পারে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার বর্তমান ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অংশীদারিত্ব সঠিক পথেই এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আশিক মাহমুদ বলেন, এনএমসিটি প্রকল্পটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে উদ্ভূত। এই প্রকল্পভিত্তিক অংশীদারিত্বে প্রধান সংশ্লিষ্ট সংস্থা হলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ড।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ আলোচনাকে সহজ ও কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়— এ কথা উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই তাদের ভূমিকা।

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এনএমসিটি প্রকল্পটি গত এক মাসে আলোচনার একটি চূড়ান্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমানে এসব আলোচনা চলমান রয়েছে, যাতে সফলভাবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা যায়।

আশিক চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন্দর সক্ষমতা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বন্দর উন্নয়নের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা হয়, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অগ্রগতি দেখা যাবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো বিদ্যমান প্রকল্প পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজধানীতে নিজের বিরুদ্ধে ডাকা এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনার সাক্ষী হয় উপস্থিত জনতা ও সংবাদকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব ও আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত এই বিক্ষোভ শুরু হয়। যখন সবাই স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন নাসীরুদ্দীন নিজেই।

পরে তিনি উপস্থিত সবার কাছে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে সমাবেশস্থলের সামনেই তাকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে নাসীরুদ্দীনের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার এই সাহস ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

যদিও পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ‘‘আমার কথায় বা আচরণে যারা মনঃকষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

নাগরিকদের প্রতি শতভাগ দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। যে কোনো কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা। মানুষের আস্থা ফিরে আসছে, যা সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শুরুর পরেই জেলা প্রশাসক আগত সকল প্রতিনিধির নিকট থেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া হন। পরবর্তীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিকট জানতে চান—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে কিনা সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।