খুঁজুন
, ,

বাবাদের রেখেই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি,বঞ্চিত-অবমূল্যায়িতদের বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 November, 2020, 8:09 pm
বাবাদের রেখেই ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি,বঞ্চিত-অবমূল্যায়িতদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর আজ আরও ২৭২ জনকে সংযুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রিয় ছাত্রদল।

বিগত বেশ কিছু দিন যাবত শোনা যাচ্ছিল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত ছাত্র এবং ত্যাগীদের সংযুক্ত করে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। কমিটিতে স্থান পেতে পারে এ ধরণের কয়েকজন ছাত্রনেতার নামও পত্র পত্রিকায় এসেছিল।

আজ সোমবার (৩০ নভেম্বর) কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটির দাবিতে নগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা।

নতুন ২৭২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই পদ প্রাপ্তদের ছাত্রত্ব নেই। আর তারা বিবাহিতও। ফলে নিয়মিত ছাত্র ও অবিবাহিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হতাশ। তারা ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ হিসেবে দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয় এবং পরে তারাই নিভিয়ে ফেলে আগুন।

এর আগে আজ বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল।  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় আগের আংশিক কমিটির সাথে ২৭২ জনকে সংযুক্ত করে পুর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হল।

এ বিষয়ে সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন ২০০৫ সালের আগে যারা এসএসসি পাশ করেছে তাদের কাউকে ছাত্রদলের কমিটিতে রাখা যাবে না। দায়িত্ব পেতে হলে নিয়মিত ছাত্র ও অবিবাহিত হতে হবে। কিন্তু আজ ঘোষিত কমিটিতে আগের আংশিক কমিটি বাতিল করা হয়নি। জুনিয়র সিনিয়র সিরিয়াল মানা হয়নি এবং বিবাহিত ও অছাত্রদের কমিটিতে রাখা হয়েছে এ কারণে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা। আংশিক কমিটির একজন ছাড়া বাকি নয়জন অন্য কমিটির পদ পদবী বহন করছে। আমরা নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি দাবি করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, ২০১৩ সালে ঘোষিত আংশিক কমিটির সভাপতি গাজী সিরাজ এখন নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বর্তমানে নগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। তার বয়স ৪৬ বছর। এছাড়া চার সহসভাপতির মধ্যে মঈন উদ্দিন শহীদ নগর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, ফজলুল হক সুমন নগর যুবদলের সহসভাপতি ও জিয়াউর রহমান জিয়া নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। চার যুগ্ম সম্পাদকের মধ্যে জমির উদ্দিন নাহিদ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক, আলী মর্তুজা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও মোশাররফ হোসেন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক যুগ্ম সম্পাদক জালাল উদ্দিন সোহেল মারা গেছেন। নগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম রাশেদ এখন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তাদের কিভাবে নতুন কমিটিতে বহাল রাখা হয়।

যুগ্ম সম্পাদক শফিউল বশর সামু পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কমিটি নিয়ে অনেক ধরণের বিতর্ক হতে পারে কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর হলেও একটি ঢাউশ কমিটি হয়েছে কর্মীদের মূল্যায়নের দরকার ছিল এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকদলের কমিটি হলে কিছু মান অভিমান থাকে। দীর্ঘ সতেরো বছর পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় পদবঞ্চিত একটু আধটু ক্ষোভ আমি খারাপ দৃষ্টিতে দেখছিনা। সবাইকে মূল্যায়ন করতে গেলে কমিটির আকার হাজার পেরিয়ে যেতো। তবে আমাদের এটা সাময়িক সময়ের জন্য এরপর আহ্বায়ক কমিটি এবং তারপর আবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। সে পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করতে পারতো। এছাড়া যাদের বয়স নেই তারা অন্য সহযোগী সংগঠনে স্থানান্তরিত হতে পারবে।

মূলত আসন্ন স্থগিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহদাত হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন পরিচালনায় কোনও প্রভাব না ফেলতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। নতুনদের নিয়ে কমিটি গঠিত হলে সিটি নির্বাচনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই ধারণা থেকেই মূলত ৭ বছর আগের আংশিক কমিটিকে বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নগর ছাত্রদলের নতুন কমটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হলে আগ্রহীদের কাছ থেকে বায়োডাটাসহ ফরম জমাদানের আবেদন করেছিল সংগঠনটি। গত ১৩ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মসূচীতে প্রায় ৩৫০টি ফরম জমা পড়ে।

কমিটির বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগ করতে চাইলো তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।