খুঁজুন
, ,

বিজয়ের মাসে এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 December, 2020, 11:54 am
বিজয়ের মাসে এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ৬৮ বছরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র দাস সবার কাছে পরিচিত ‘গলেয়া দা’ হিসাবে। সম্ভ্রান্ত কোনো পরিবারের সদস্য কিংবা আহামরি শিক্ষিত না হয়েও শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রবল টানে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন।

১৯৫২ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দেবীগঞ্জ বাজারে জন্মগ্রহন করেন রমেশ চন্দ্র দাস। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জন্মের পরে বাবাকে হারিয়েছেন। মা অসুস্থ্য, বড় ভাইটিও ছিলেন প্রতিবন্ধি। ছিলো অভাবের সংসার। এক বেলা খেয়েই কোন মতো দিন পার করতেন। অর্থের অভাবে রোগ যন্ত্রণায় বিনা চিকিৎসায় মাকে হারিয়েছেন। কিন্তু শত বেদনার মাঝেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পিছু হাটেননি তিনি।

রাখালের কাজ করে এক বেলার আহার জোগাড় ও কষ্ট করে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন, পরে আর পড়তে পারেননি। এরপর মা হারানোর বেদনা ও প্রতিবন্ধী বড় ভাইকে অন্যের হাতে তুলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য আনসার কমান্ডার আব্দুর রহমানের সাথে চলে যান ভারতের থুকরাবাড়ি ক্যাম্পে। সেখানে প্রথমে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ভারতের পাটাপাড়ায় আসার সময় ইন্ডিয়ান আর্মি তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। এরপর তাদের নাম খাতায় রেজুলেশন বহিতে লিখে নেওয়া হয়। তারপর তাদেরকে নিয়ে যায় মুজিব ক্যাম্পে। দীর্ঘ ২৮ দিন মুজিব ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে চলে যান মুক্তিযুদ্ধের ৬ নং সেক্টর চেংরা মাড়া টাউনের বুড়ি মাড়ি হাটে সেখানেই উইং কমান্ডার মোহাম্মদ খাদেমুল বাশারের অধিনে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনেন। জন্ম দেন এক নতুন রাষ্ট্রের।

দেশ স্বাধীনের পর ফিরে আসেন নিজ ভুমিতে। দেবীগঞ্জ বাজারের একটি ছোট সাইকেল মেকারের দোকান দেন। এরপর নতুন সংসার গড়েন। সেই সংসারে ২ মেয়ে আর ২ ছেলের জন্ম নেয়। দুই মেয়ের বিয়ে দিলেও বড় মেয়ের স্বামী একালপ্রয়াত হওয়ায় সে এখন বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। আর বড় ছেলে বাস-রেলস্টেশনে কুলির কাজ করে সংসার চালান। ছোট ছেলে ডিগ্রী পাস করে চাকুরির জন্য দফতরে দফতরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে এখন ক্ষেত খামারে কাজ করেন। আর বাবা রাস্তায় ধারে বসে অন্যের বাইসাইকেল মেরামত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র বেশির ভাগ সময় থাকেন মুখ ভরা হাসি নিয়ে। স্থানীয়দের কাছে মানুষ হিসেবে অত্যন্ত রসিক এবং খোলা মনের, কারো কাছে তাঁর কোন চাওয়া কিংবা কারো প্রতি রাগ-অনুরাগ নেই তার। শুধু আছে অন্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান, বিশ্বাস, দেশপ্রেম, আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

জানা যায়, দীর্ঘ ৩০ বছর অপেক্ষার পর বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া শুরু করলে তিনিও সেই ভাতা পান। প্রথম দিকে ৩শ থেকে এখন ১২ হাজার টাকা মাসিক মুক্তিযদ্ধা ভাতা উত্তোলন করেন। এবং বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত অবদানের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসাবে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়।

আরও জানা যায়, ২০০২ সালে স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদুল রহমান স্ত্রী সেলিনা আক্তার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রমেশ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা চালাতে দীর্ঘ ১৮ বছর আদালত পাড়ায় দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে ঋণের দায়ে তিনি আজ সর্বশান্ত। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে গেলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে বরং উল্টো কথা শুনে অসহায়ের মতো ছলছল চোখে ফিরে আসেন। অবশেষে চলতি বছরে সেই মিথ্যা মামলা রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র দাসের পক্ষে আসে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র দাস বলেন, যদি জানতাম মিথ্যা মামলার জন্য আমাকে ১৮ বছর কোর্টের বারান্দায় ঘুরাঘুরি করতে হবে তাহলে দেশের জন্য যুদ্ধ করতাম না। আমি ১৮ বছর খেয়ে না খেয়ে ঋণ করে মিথ্যা মামলা চালিয়েছি। আমার ঋণের বোঝা বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এই বয়সে সাইকেলের মেকারি করে ছেলে মেয়ে মানুষ করতে হয়। কাকে কি বলব বলুন? আমার দুচোখের পানি শুকায় গেছে। ছোট ছেলেকে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা শিখালাম যদি একটা চাকুরী পাই। আমার টাকা নাই তাই চাকুরীও নাই। তাই রাস্তায় বসে সাইকেল মেকারি করে মাহাজন শোধ করতেছি। যত দিন বেচে থাকবো মেকারি করে মাহাজন শোধ করব। কিন্তু আমি এই মামলাতেই মরে গেছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র দাসের মুখে শুনতে চাই তৎকালীন দেশের অবস্থার কথা। মুক্তিযুদ্ধের কথা আসতেই কাঁদতে শুরু করেন তিনি। কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, শেখ মুজিবুরের কথা শুনলেই আমার কান্না আসে। উনি এমন একটা মানুষ ছিলেন ওনার আওয়াজ শুনলেই আমার বুক কেঁপে ওঠে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দিবো, তবুও এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এই কথা গুলো শুনলে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে যাই।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি আমাকে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও একটা ঘর নির্মাণ করে না দিতো তাহলে আজ আমাকে বউ বাচ্চা নিয়ে পথে বসতে হতো। শেখ হাসিনার প্রতি আমি খুবই খুশি। ভগবান যেন শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু দান করে। সব সময় সুস্থ্য থাকে ভগবানের কাছে এটাই আমার আবেদন।

বিজয়ের মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আকুতি , আমি তো রাস্তায় বসে মেকারি করি। আমি আর কয়দিন বাঁচব। আমার একটা আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে গৌতম চন্দ্র দাসের যেন একটা চাকুরী দেয়। এটা শেখ হাসিনার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। আমার ছেলেকে যেন একটা চাকুরী দেয়।

২৪ ঘণ্টা/গৌতম চন্দ্র বর্মন

Feb2
Feb2

আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:20 pm
আনোয়ারায় বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, নিহত ২ নারী

আনোয়ারায় কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক ছেড়ে দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দেয় বাসটি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার বাসিন্দা পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাতে টানেল মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অন্তত ছয়টি অটোরিকশা ও রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেকেই চাপা পড়ে আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 10:02 pm
প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হোক। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তাই এ কর্মসূচিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে লাগানো প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের গৃহীত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএনপিও জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচি সফল করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, হানিফ সওদাগর এবং মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:15 pm
খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে বারাইপাড়া খাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাঁচিয়েছে। খননকৃত খালের জন্য পূর্ব বাকলিয়া, পূর্ব ষোলশহর এবং পশ্চিম বাকলিয়ার অনেক অংশের মানুষ বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেনা৷ প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত ফুটপাত এবং খালপাড় সুস্থ বিনোদনের উৎস হয়ে উঠেছে।

“চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও অবৈধ দখল বা বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।