খুঁজুন
, ,

পাহাড়-ঝর্ণার স্বপ্নপুরী খাগড়াছড়ি: শাম্মী তুলতুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 9 December, 2020, 6:11 pm
পাহাড়-ঝর্ণার স্বপ্নপুরী খাগড়াছড়ি: শাম্মী তুলতুল

বিনোদন স্পেশাল : চারিদিকে সবুজের সমারোহ। যেখানে সোনালি আলোর অপরূপ আয়োজন। বাংলার আনন্দমীয় পল্লী প্রকৃতি যেন দিকে দিকে গাঢ় সবুজ রঙের পিকচারি নিয়ে মনের আনন্দে হোলি খেলছে। আকাশ সাদা নির্মল। তেমনি একটা জায়গা খাগড়াছড়ি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দ নিকেতন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। চেঙ্গী উপত্যকার জেলাটি পাহাড় বেষ্টিত হলেও প্রায় সমতল ভূমির উপর গড়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি জেলা শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আর রহস্যময়তায় ঘেরা খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা প্রকৃতপ্রেমী, এডভেঞ্চার প্রিয় ও ভ্রমনাবিলাসীদের জন্য আদর্শ স্থান। তাই খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পট এক নজরে।

আলুটিলা :
ঐশর্যময় সৌন্দর্য্যরে অহঙ্কার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথেই চোখে পড়বে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি জেলার পুরাটাই পাহাড়ি এলাকা। এর মধ্যে মাটিরাঙ্গা আলুটিলা পাহাড়ে সৌন্দর্য্য হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যতদূর দেখা যায় শুধু পাহাড় তার পাহাড়।

এর নাম আলুটিলা হলেও কোনো আলু কিন্তু পাওয়া যায় না এই পাহাড়ে। তবে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে ব্যাপক দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন কোথাও খাবার পাওয়া যায়নি। এই সময় এই পাহাড়ে অনেক আলু হয়েছিল।

দূর্ভিক্ষের সময় আদিবাসীরা আলু খেয়ে বেঁচে ছিল। সেই থেকে এই পাহাড়ের নাম আলুটিলা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকার প্রধান ফটকের দুই পাশে শতবর্ষী দুটি বটবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮ কি.কি. পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চুড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্রটি খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত হওয়ায় বাস, টেক্সিযোগে যাতায়াত করা যায়।

রহস্যময় সুড়ঙ্গ :
স্থানীয় লোকের ভাষায় ‘মাতাই হাকর’ যার বাংলা অর্থ দেবগুহা, এ পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ির নীচে আনুটিলা পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলা মাটির ভাজে গড়া এ রহস্যময় সুড়ঙ্গের অবস্থান।

গুহামুখের ব্যাস প্রায় ১৩ ফুট আর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ফুট, প্রবেশ মুখ ও শেষের অংশ আলো আধারিত আছন্ন। মাঝখানে নিকষ কালো গাঢ় অন্ধকার এ গুহার তলদেশ দিয়ে প্রবাহমান শীতলজলের ঝর্ণাধারা, এ গুহায় প্রবেশ করাটা একদিকে যেমন ভয় সংকুল তেমনি রোমাঞ্জকরও বটে।

শুধু বাংলাদেশতো বটেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশেও এ রকম প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ পথের খুব একটা নজির নেই। অনন্য সাধারণ এ গুহার মশাল বা উজ্জ্বল টর্চের আলো ব্যতীত প্রবেশ করা যায় না।

মশাল পর্যটন কেন্দ্রেই পাওয়া যায় ১০ টাকার বিনিময়ে। গুহার একদিকে ঢুকে অন্যদিকে বেরোতে সময় লাগে একমাত্র ১০/১১ মিনিট।

ধাতুচৈত্য বৌদ্ধবিহার :
আনুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের কয়েক শতগজ সামনেই এই বৌদ্ধ মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরের নাম আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার। স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন এই মন্দির।

এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষন হল পদ্মাসনে বসা বুদ্ধের একটি শিল্প মূর্তিসহ বিভিন্ন অবয়বে বেশ কয়েকটি মূর্তি। প্রতিবছর এখানে কঠিন চীবর অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় যা পর্যটকদের নিকট অতি আকর্ষনীয়।

হেরিটেজ পার্ক :
খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা শহরের প্রবেশ মুখে প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে একটি নৈসর্গিক হেরিটেজ পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। যা দেখতে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের ভিড় পড়ছে।

চেঙ্গী নদীর পার ঘেষে জেলার আনসার এ ডিভিপি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের উচুঁ পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক। পাহাড় ঘেরা এ প্রকৃতিতে বসে চাঁদনী রাতে দৃশ্যপট অবলোকন করা যায়।

দেবতা পুকুর দেবতার লেক :
সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় আনুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছড়া নুনছড়ি। নুনছড়ি ছড়ার ক্ষীন স্রোতের মধ্যে রয়েছে প্রকান্ড সব পাথর। সুমদ্র সমতল হতে প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় দেবতা পুকুর রূপকথার দেবতার আর্শীবাদের মতো সলিল বারির স্রোতহীন সঞ্চার।

এত উচুঁ পাহাড় চূড়ায় পুকুরটি নানা রহসে ভরপুর। এ পুকুর ত্রিপুরাদের তীর্থক্ষেত্র। প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি এখানে তীর্থক্ষেত্র বসে এবং তান্ত্রিক বিধানমতে ত্রিপুরাগণ যাগযজ্ঞাদি করে।

ত্রিপুরাদের ভাষায় দেবতার পুকুরের নাম মাতাই পুখিরী মাতাই অর্থ ‘দেবতা’ আর পুখির অর্থ ‘পুকুর’ কথিত আছে স্থানীয় মন্দিরের জল তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জল দেবতা স্বয়ং এ পুকুর খনন করেন।

পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আর্শীবাদ বলে মনে করেন। প্রচলিত আছে যে, এ পুকুরের পানি কখনো কমে না। আরও একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, এই পুকুর কোন দেবতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পুকুরের তলায় বহু গুপ্তধন লুকায়িত আছে যা দেবতারা পাহারা দিচ্ছে।

অনেকের ধারনা এখানে এসে গোসল করলে বা কিছু চাইলে তা পুরণ হয়। এই এলাকাটি ত্রিপুরা অধ্যুষিত।

খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, রাঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১ কি.মি. দক্ষিণে মূল রাস্তা হতে ৪ কি.মি. পশ্চিমে সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় চির প্রশান্তিময় দেবতা পুকুরের অবস্থান।

জেলা সদর হতে মাইসছড়ি পর্যন্ত বাসে যাতায়াত করা যায়। মাইসছড়ি হতে নুনছড়ি ছড়া পর্যন্ত হেরিংবোন রাস্তা আছে। চান্দের গাড়ি, জীপ গাড়ি বা পায়ে হেঁটে ঝর্ণামুখ নুনছড়ি থেকে প্রায় ১ কি.মি. পায়ে বেয়ে পাহাড়ের শীর্ষে দেবতার পুকুর।

রিছাং ঝর্ণা :
আনুটিলা পর্যটন স্পট থেকে প্রায় ৩কি.মি. পশ্চিমে (খাগড়াছড়ি থেকে ১১ কি.মি.) খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা সড়ক হতে বাম পার্শ্বে ১ কি.মি. দক্ষিণে রিছাং ঝর্ণা অবস্থিত।

জেলা সদর থেকে আনুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১ কি.মি. ঝর্ণার সমগ্র যাত্রা পথটাই দারুন রোমাঞ্জকর।

বাদল বাতাসের দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে বোরা প্রকৃতির চোখে জল কেবল পড়েই যাচ্ছে। ঝর্নার অবিরাম শব্দ যেন বোবা প্রকৃতির বহুদিনের সঙ্গীত মুখর তাব্য ও ভাষা। নয়ানিভরাম সৌন্দর্য্যরে আধার এই রিছাং ঝর্ণা।

মহাসড়ক হতে হেরিংবোন রাস্তায় জীপ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা পায়ে হেঁেট যাতায়াত করা যায়। ২৫-৩০ হাত উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে ঝর্নার জলরাশি। ঢালু পাহাড় গড়িয়ে নীচে নেমে যাচ্ছে এই প্রবাহ।

প্রতিদিন বহু সংখ্যক পর্যটক এখানে এসে ভীড় জমান এবং ঝর্ণার শীতল পানিতে গা ভিজান। মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি, আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থের গড়িয়ে পড়া।

শান্তিপুর অরন্য কুটির : খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকা পানছড়ি উপজেলা। এ উপজেলার শান্তিপুর নামক স্থানে ১৯৯৯ সনে শান্তিপুর অরন্য কুটির স্থাপিত হয়েছিল, বিশাল এলাকাজুড়ে অরন্যে আবৃত বলেই হয়তো এর নামকরণ হয়েছে অরন্য কুটির। এ

টি মূলত বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরে প্রধান আকর্ষণ হল এখানেই বাংলাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তিটি রয়েছে। যার উচ্চতা ৪৮ ফুট। প্রতিদিন বহু পর্যটক মূর্তিটি দেখতে ভিড় জমান এই কুটিরে।

এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এটি একদিকে তীর্থস্থান এবং অন্যদিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে, শান্তিপুর অরন্য কুটিরে সবচেয়ে

উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে সাড়ে ৪৮ফুট উচ্চতার গৌতম বুদ্ধের মূর্তি লাভীশ্রেষ্ঠ সিবলী মহাস্থবিরের মন্দিরসহ মূর্তি, মার বিজয়ী উপগুপ্ত মহাস্থবিরের মূর্তি, অধ্যক্ষ মহোদয়ের আবাসস্থল মৈত্রীভবন, ১০০ হাত দৈর্ঘ্যরে ভিক্ষুশালা, ৬০ হাত দৈর্ঘ্যরে দেশ নাঘর, ৮০ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ভোজন শালা এবং বড় বুদ্ধ মূর্তির ছাত্র।

দুদক ছড়াং, পানছড়ি ঐতিহাসিক পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অস্ত্র সমার্পন স্থল :
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দুদকছড়া নামক স্থানে ঐতিহাসিক পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বীজ রোপিত হয়েছিল, বিভিন্ন পর্যায়ে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সংলাপ ছাড়াও শান্তিবাহিনী কর্তৃক দ্বিতীয় দফা অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠান এখানেই করা হয়েছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর হতে খাগড়াছড়ি পানছড়ি সড়ক দিয়ে ২৬ কি.মি. পথ অতিক্রম করলেই দেখতে পাওয়া যাবে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির স্মৃতিস্তম্ভ বিজড়িত এ স্থানটি।

রামগড় পর্যটন এলাকা : খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে ৫০ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে রামগড় উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সম্মুখভাগে অবস্থিত। রামগড় উপজেলা চত্বরের সামনে অবস্থিত প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা এ হ্রদটির আকৃতি অনেকটা ইংরেজী অক্ষর ড এর অনুরুপ।

এতে আনন্দ ভ্রমনের জন্য রয়েছে পথ দ্বারা চালিত ছোট বড় বেশ কয়েকটি প্রমোদ তার। রামগড় পর্যটন লেকটি অত্যন্ত আর্কষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। লেকে রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বোট এবং লেকের পাড়ে সুন্দর বাগান, সবুজ খাস, আধুনিক লাইটিং, বাধানো সিঁড়ি এবং পর্যটকদের বসার জন্য সুব্যবস্থা।

পর্যটকদের জন্য গাড়ি পার্কিং রান্নার সুব্যবস্থাসহ পিকনিকের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা এখানে রয়েছে। রামগড় লেকের দুই তীরে রয়েছে মনোমুগ্ধকর উদ্যান। উদ্যানে দেশি বিদেশী বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী ও ঔষধি গাছপালা রয়েছে।

এ উদ্যানে আগত দর্শকদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে প্রায় ১২ (বার) টি শেড। নৌকায় অবতরণের জন্য দুইটি সিঁড়ি সহ নৌকা ঘাট।

ঝুলন্ত ব্রীজ : রামগড় লেকের ঠিক মধ্যখানে একটি ঝুলন্ত ব্রীজ রয়েছে। এটি কেবল জনসাধারণের চলাচলের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকে। তবে যান চলাচল নিষিদ্ধ। ব্রীজের এক মাথায় যে দুটি পিলার থেকে ঝুলন্ত ব্রীজের তার টানানো হয়েছে তা দেখতে ইংরেজী সংখ্যা ‘ওও’ এর মত।

যেতে হবে যেভাবে : চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। বাস ভাড়া লাগবে ১৭০ টাকা, ঢাকা থেকে সময় লাগবে সরাসরি বাস এ ৬ ঘন্টা। বাস ভাড়া লাগবে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

২৪ ঘণ্টা/রাজীব

Feb2
Feb2

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 9:28 am
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম এস শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:04 pm
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নিয়ে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে শরিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোট শরিকদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, স্বাক্ষর করেছে, তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে করবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আমরা আন্তরিকভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন দিয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজকে কথা বলার জন্য- তাদের একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে—এরকম অনেকেই আছে।

ফখরুল বলেন, আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সরকার যে শুরুটা তার অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সব ব্যাংক, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও কাজ করবে একসঙ্গে। সবচেয়ে বড় জিনিস তিনি বলেছেন, যে ৩১ দফা কর্মসূচি আমরা একসঙ্গে দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি এটাও আবারও বলেছেন যে, জুলাই সনদ-যেটা আমরা সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের ৫ মাস পরে একটা বড় ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসেছেন, কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:50 pm
ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল।

মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন।

আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ।