খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়-ঝর্ণার স্বপ্নপুরী খাগড়াছড়ি: শাম্মী তুলতুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:১১ অপরাহ্ণ
পাহাড়-ঝর্ণার স্বপ্নপুরী খাগড়াছড়ি: শাম্মী তুলতুল

বিনোদন স্পেশাল : চারিদিকে সবুজের সমারোহ। যেখানে সোনালি আলোর অপরূপ আয়োজন। বাংলার আনন্দমীয় পল্লী প্রকৃতি যেন দিকে দিকে গাঢ় সবুজ রঙের পিকচারি নিয়ে মনের আনন্দে হোলি খেলছে। আকাশ সাদা নির্মল। তেমনি একটা জায়গা খাগড়াছড়ি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দ নিকেতন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। চেঙ্গী উপত্যকার জেলাটি পাহাড় বেষ্টিত হলেও প্রায় সমতল ভূমির উপর গড়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি জেলা শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আর রহস্যময়তায় ঘেরা খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা প্রকৃতপ্রেমী, এডভেঞ্চার প্রিয় ও ভ্রমনাবিলাসীদের জন্য আদর্শ স্থান। তাই খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পট এক নজরে।

আলুটিলা :
ঐশর্যময় সৌন্দর্য্যরে অহঙ্কার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথেই চোখে পড়বে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি জেলার পুরাটাই পাহাড়ি এলাকা। এর মধ্যে মাটিরাঙ্গা আলুটিলা পাহাড়ে সৌন্দর্য্য হৃদয় ছুঁয়ে যায়। যতদূর দেখা যায় শুধু পাহাড় তার পাহাড়।

এর নাম আলুটিলা হলেও কোনো আলু কিন্তু পাওয়া যায় না এই পাহাড়ে। তবে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে ব্যাপক দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন কোথাও খাবার পাওয়া যায়নি। এই সময় এই পাহাড়ে অনেক আলু হয়েছিল।

দূর্ভিক্ষের সময় আদিবাসীরা আলু খেয়ে বেঁচে ছিল। সেই থেকে এই পাহাড়ের নাম আলুটিলা। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকার প্রধান ফটকের দুই পাশে শতবর্ষী দুটি বটবৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮ কি.কি. পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চুড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্রটি খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত হওয়ায় বাস, টেক্সিযোগে যাতায়াত করা যায়।

রহস্যময় সুড়ঙ্গ :
স্থানীয় লোকের ভাষায় ‘মাতাই হাকর’ যার বাংলা অর্থ দেবগুহা, এ পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ির নীচে আনুটিলা পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলা মাটির ভাজে গড়া এ রহস্যময় সুড়ঙ্গের অবস্থান।

গুহামুখের ব্যাস প্রায় ১৩ ফুট আর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ফুট, প্রবেশ মুখ ও শেষের অংশ আলো আধারিত আছন্ন। মাঝখানে নিকষ কালো গাঢ় অন্ধকার এ গুহার তলদেশ দিয়ে প্রবাহমান শীতলজলের ঝর্ণাধারা, এ গুহায় প্রবেশ করাটা একদিকে যেমন ভয় সংকুল তেমনি রোমাঞ্জকরও বটে।

শুধু বাংলাদেশতো বটেই পৃথিবীর অন্য কোন দেশেও এ রকম প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ পথের খুব একটা নজির নেই। অনন্য সাধারণ এ গুহার মশাল বা উজ্জ্বল টর্চের আলো ব্যতীত প্রবেশ করা যায় না।

মশাল পর্যটন কেন্দ্রেই পাওয়া যায় ১০ টাকার বিনিময়ে। গুহার একদিকে ঢুকে অন্যদিকে বেরোতে সময় লাগে একমাত্র ১০/১১ মিনিট।

ধাতুচৈত্য বৌদ্ধবিহার :
আনুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের কয়েক শতগজ সামনেই এই বৌদ্ধ মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরের নাম আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার। স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন এই মন্দির।

এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষন হল পদ্মাসনে বসা বুদ্ধের একটি শিল্প মূর্তিসহ বিভিন্ন অবয়বে বেশ কয়েকটি মূর্তি। প্রতিবছর এখানে কঠিন চীবর অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় যা পর্যটকদের নিকট অতি আকর্ষনীয়।

হেরিটেজ পার্ক :
খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা শহরের প্রবেশ মুখে প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে একটি নৈসর্গিক হেরিটেজ পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। যা দেখতে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের ভিড় পড়ছে।

চেঙ্গী নদীর পার ঘেষে জেলার আনসার এ ডিভিপি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের উচুঁ পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক। পাহাড় ঘেরা এ প্রকৃতিতে বসে চাঁদনী রাতে দৃশ্যপট অবলোকন করা যায়।

দেবতা পুকুর দেবতার লেক :
সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় আনুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছড়া নুনছড়ি। নুনছড়ি ছড়ার ক্ষীন স্রোতের মধ্যে রয়েছে প্রকান্ড সব পাথর। সুমদ্র সমতল হতে প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় দেবতা পুকুর রূপকথার দেবতার আর্শীবাদের মতো সলিল বারির স্রোতহীন সঞ্চার।

এত উচুঁ পাহাড় চূড়ায় পুকুরটি নানা রহসে ভরপুর। এ পুকুর ত্রিপুরাদের তীর্থক্ষেত্র। প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি এখানে তীর্থক্ষেত্র বসে এবং তান্ত্রিক বিধানমতে ত্রিপুরাগণ যাগযজ্ঞাদি করে।

ত্রিপুরাদের ভাষায় দেবতার পুকুরের নাম মাতাই পুখিরী মাতাই অর্থ ‘দেবতা’ আর পুখির অর্থ ‘পুকুর’ কথিত আছে স্থানীয় মন্দিরের জল তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জল দেবতা স্বয়ং এ পুকুর খনন করেন।

পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আর্শীবাদ বলে মনে করেন। প্রচলিত আছে যে, এ পুকুরের পানি কখনো কমে না। আরও একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, এই পুকুর কোন দেবতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পুকুরের তলায় বহু গুপ্তধন লুকায়িত আছে যা দেবতারা পাহারা দিচ্ছে।

অনেকের ধারনা এখানে এসে গোসল করলে বা কিছু চাইলে তা পুরণ হয়। এই এলাকাটি ত্রিপুরা অধ্যুষিত।

খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, রাঙ্গামাটি সড়কে জেলা সদর থেকে ১১ কি.মি. দক্ষিণে মূল রাস্তা হতে ৪ কি.মি. পশ্চিমে সদর উপজেলার নুনছড়ি মৌজায় চির প্রশান্তিময় দেবতা পুকুরের অবস্থান।

জেলা সদর হতে মাইসছড়ি পর্যন্ত বাসে যাতায়াত করা যায়। মাইসছড়ি হতে নুনছড়ি ছড়া পর্যন্ত হেরিংবোন রাস্তা আছে। চান্দের গাড়ি, জীপ গাড়ি বা পায়ে হেঁটে ঝর্ণামুখ নুনছড়ি থেকে প্রায় ১ কি.মি. পায়ে বেয়ে পাহাড়ের শীর্ষে দেবতার পুকুর।

রিছাং ঝর্ণা :
আনুটিলা পর্যটন স্পট থেকে প্রায় ৩কি.মি. পশ্চিমে (খাগড়াছড়ি থেকে ১১ কি.মি.) খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা সড়ক হতে বাম পার্শ্বে ১ কি.মি. দক্ষিণে রিছাং ঝর্ণা অবস্থিত।

জেলা সদর থেকে আনুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১ কি.মি. ঝর্ণার সমগ্র যাত্রা পথটাই দারুন রোমাঞ্জকর।

বাদল বাতাসের দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে বোরা প্রকৃতির চোখে জল কেবল পড়েই যাচ্ছে। ঝর্নার অবিরাম শব্দ যেন বোবা প্রকৃতির বহুদিনের সঙ্গীত মুখর তাব্য ও ভাষা। নয়ানিভরাম সৌন্দর্য্যরে আধার এই রিছাং ঝর্ণা।

মহাসড়ক হতে হেরিংবোন রাস্তায় জীপ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা পায়ে হেঁেট যাতায়াত করা যায়। ২৫-৩০ হাত উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে ঝর্নার জলরাশি। ঢালু পাহাড় গড়িয়ে নীচে নেমে যাচ্ছে এই প্রবাহ।

প্রতিদিন বহু সংখ্যক পর্যটক এখানে এসে ভীড় জমান এবং ঝর্ণার শীতল পানিতে গা ভিজান। মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি, আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থের গড়িয়ে পড়া।

শান্তিপুর অরন্য কুটির : খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম সৌন্দর্যমন্ডিত এলাকা পানছড়ি উপজেলা। এ উপজেলার শান্তিপুর নামক স্থানে ১৯৯৯ সনে শান্তিপুর অরন্য কুটির স্থাপিত হয়েছিল, বিশাল এলাকাজুড়ে অরন্যে আবৃত বলেই হয়তো এর নামকরণ হয়েছে অরন্য কুটির। এ

টি মূলত বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরে প্রধান আকর্ষণ হল এখানেই বাংলাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তিটি রয়েছে। যার উচ্চতা ৪৮ ফুট। প্রতিদিন বহু পর্যটক মূর্তিটি দেখতে ভিড় জমান এই কুটিরে।

এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এটি একদিকে তীর্থস্থান এবং অন্যদিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে, শান্তিপুর অরন্য কুটিরে সবচেয়ে

উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে সাড়ে ৪৮ফুট উচ্চতার গৌতম বুদ্ধের মূর্তি লাভীশ্রেষ্ঠ সিবলী মহাস্থবিরের মন্দিরসহ মূর্তি, মার বিজয়ী উপগুপ্ত মহাস্থবিরের মূর্তি, অধ্যক্ষ মহোদয়ের আবাসস্থল মৈত্রীভবন, ১০০ হাত দৈর্ঘ্যরে ভিক্ষুশালা, ৬০ হাত দৈর্ঘ্যরে দেশ নাঘর, ৮০ হাত দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ভোজন শালা এবং বড় বুদ্ধ মূর্তির ছাত্র।

দুদক ছড়াং, পানছড়ি ঐতিহাসিক পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অস্ত্র সমার্পন স্থল :
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দুদকছড়া নামক স্থানে ঐতিহাসিক পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বীজ রোপিত হয়েছিল, বিভিন্ন পর্যায়ে শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সংলাপ ছাড়াও শান্তিবাহিনী কর্তৃক দ্বিতীয় দফা অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠান এখানেই করা হয়েছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর হতে খাগড়াছড়ি পানছড়ি সড়ক দিয়ে ২৬ কি.মি. পথ অতিক্রম করলেই দেখতে পাওয়া যাবে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির স্মৃতিস্তম্ভ বিজড়িত এ স্থানটি।

রামগড় পর্যটন এলাকা : খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে ৫০ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে রামগড় উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সম্মুখভাগে অবস্থিত। রামগড় উপজেলা চত্বরের সামনে অবস্থিত প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা এ হ্রদটির আকৃতি অনেকটা ইংরেজী অক্ষর ড এর অনুরুপ।

এতে আনন্দ ভ্রমনের জন্য রয়েছে পথ দ্বারা চালিত ছোট বড় বেশ কয়েকটি প্রমোদ তার। রামগড় পর্যটন লেকটি অত্যন্ত আর্কষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। লেকে রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বোট এবং লেকের পাড়ে সুন্দর বাগান, সবুজ খাস, আধুনিক লাইটিং, বাধানো সিঁড়ি এবং পর্যটকদের বসার জন্য সুব্যবস্থা।

পর্যটকদের জন্য গাড়ি পার্কিং রান্নার সুব্যবস্থাসহ পিকনিকের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা এখানে রয়েছে। রামগড় লেকের দুই তীরে রয়েছে মনোমুগ্ধকর উদ্যান। উদ্যানে দেশি বিদেশী বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী ও ঔষধি গাছপালা রয়েছে।

এ উদ্যানে আগত দর্শকদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে প্রায় ১২ (বার) টি শেড। নৌকায় অবতরণের জন্য দুইটি সিঁড়ি সহ নৌকা ঘাট।

ঝুলন্ত ব্রীজ : রামগড় লেকের ঠিক মধ্যখানে একটি ঝুলন্ত ব্রীজ রয়েছে। এটি কেবল জনসাধারণের চলাচলের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকে। তবে যান চলাচল নিষিদ্ধ। ব্রীজের এক মাথায় যে দুটি পিলার থেকে ঝুলন্ত ব্রীজের তার টানানো হয়েছে তা দেখতে ইংরেজী সংখ্যা ‘ওও’ এর মত।

যেতে হবে যেভাবে : চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। বাস ভাড়া লাগবে ১৭০ টাকা, ঢাকা থেকে সময় লাগবে সরাসরি বাস এ ৬ ঘন্টা। বাস ভাড়া লাগবে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

২৪ ঘণ্টা/রাজীব

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।