খুঁজুন
শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে ২০ দিনে ১৭ লাশ, উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
সীতাকুণ্ডে ২০ দিনে ১৭ লাশ, উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় হঠাৎ করে অপমৃত্যু বেড়ে গেছে। উপজেলায় গত ১১ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২০ দিনে খুন, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে, ক্রস ফায়ারসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের মধ্যে দুজন আত্মহত্যায়, ৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায়, বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন, অজ্ঞাত লাশ একটি, শিপইয়ার্ডের দুর্ঘটনায় ২জন, ট্রেনে কাটা পড়ে ১ জন এবং ছাদ থেকে পড়ে নিহত ১ জন নিহত হয়। খুন হয় দুজন।

বিভিন্ন দূর্ঘটনায় আহতও আছে ৩০ জনের অধিক। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এভাবে লাশের মিছিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

থানা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে হঠাৎই খুন, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। যা এলাকাবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

এএসপি (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শম্পা রানী শাহা ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এটা অবশ্যই উদ্ধেকজনক, তবে আমি আমাদের পুলিশের সব ডিপার্টমেন্ট নিয়ে আইনশৃংখলা বিষয়ে মিটিং করেছি, সামনে পরিস্থিতি আরো উন্নতি হবে।

এই মূহুর্তে সীতাকুণ্ডের আইনশৃংখলা অবনতি কিনা জানতে চাইলে এএসপি শম্পা রানী শাহা ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আইনশৃংখলা অবনতি নয় স্বভাবিক আছে, সামনে আরো ভালো হবে, এজন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টার সময় উপজেলার শেখপাড়া এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় মহিউদ্দিন (২৮) নামের এক বাই সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। নিহত মহিউদ্দিন পশ্চিম সৈয়দপুর, অন্তর খালী মসজিদ বাড়ির শাহ আলমের পুত্র।

১১ অক্টোবর ৯ নং ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মির্জানগর জেলে পাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে শান্ত জল দাশ (২৫) নামের এক যুবক আত্নহত্যা করে। শান্ত দাশ উক্ত এলাকার সিদাম জল দাশের পুত্র।

১২ অক্টোবর কুমিরা ঘাটঘর উপকূলে অবস্থিত “ও ডব্লিউ ডব্লিউ ট্রেডিং এণ্ড শীপ ব্রেকিং” নামে একটি শিপ ইয়ার্ডে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সাইফুল এবং মাসুদ নামে দুই শ্রমিক নিহত হয়।

১৬ অক্টোবর তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে আল আমিন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়। বিকাল তিনটার সময় পৌরসদর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিনের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়।

১৮ অক্টোবর কুমিরাস্থ ঘাটঘর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মোঃ শাহ আলম (৫৮) নামের এক ডাক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, সে ছোট কুমিরা এলাকার মৃত আজিজুল হক মাষ্টারের পুত্র। একইদিন কুমিরা এলাকার পিএইচপি গেইটের সামনে থেকে অজ্ঞাত এক মহিলার (৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয় বলে জানান বাঁশবাড়িয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম।

১৯ অক্টোবর উপজেলা বারৈয়ারহাটস্থ কলাবাড়িয় নামক স্থানের রেল লাইন থেকে দ্বিখন্ডিত অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। একইদিন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়আমতল এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় সজিব নামে এক যুবক আহত হয়ে পরদিন চমেক হাসপাতালে সে মারা যায়।

২১ অক্টোবর সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের প্রেমতলা এলাকায় স্বামীর সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস খেয়ে মিতা দেবী (২১) নামের এক বাক প্রতিবন্ধী গৃহবধূ আত্মহত্যা করে। গৃহবধু মিতা সজল দেবনাথের স্ত্রী।

২২ অক্টোবর ভাটিয়ারীর কলেজপাড়া এলাকায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে এক নিরিহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে রায়হান নামের পুলিশের এক এসআই। তাকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত যুবক এজাহার মিয়া ভাটিয়ারী ৪নং ওয়ার্ডের বালুর রাস্তা এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে।

২৩ অক্টোবর উত্তর বাঁশবাড়িয়া এলাকায় র‍্যাব ৭ এর টহল দলের সাথে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ে চাঞ্চল্যকর ডা, শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ডাকাত দলের প্রধান নজির আহমেদ সুমন প্রকাশ কালু (২৬) নিহত হয়।

২৮ অক্টোবর উপজেলার সলিমপুরস্থ কালুশাহ নগর এলাকায় লরী উল্টে হযরত খাজা কালুশাহ মাজারের দানবাক্সের নাইট গার্ডসহ দুইজন নিহত হয়ে। নিহত নাইট গার্ডের নাম মোঃ আজম, সে কালুশাহ নগর এলাকার আমির হোসেনের পুত্র। নিহত অপরজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। একইদিন ফৌজদানহাট আবদুল্লাহ ঘাটা এলাকায় নিটল টাটা গাড়ির ওয়ার্কশপে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানের কেভিন থেকে দুলাল (৪০) নামের চালকের সহকারীর লাশ উদ্ধার করে ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ।

২৯ অক্টোবর ছোট কুমিরা এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্ত:জেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য নিহত হয়। নিহত তিন ডাকাতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

৩০ অক্টোবর মুরাদপুর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে আবিদ (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে হাসনাবাদ গ্রামের বাবুল সওদাগরের বাড়ির মহিউদ্দিনের পুত্র।

Feb2

সংকট কাটিয়ে চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
সংকট কাটিয়ে চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি

দীর্ঘদিনের ক্রুড অয়েল সংকট কাটিয়ে আবারও চালু হয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।

আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার পর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা রিফাইনারিটির কার্যক্রম শুরু হয়।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।

ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

‘আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না’, আক্ষেপ মির্জা ফখরুলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
‘আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না’, আক্ষেপ মির্জা ফখরুলের

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল। আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায়ই করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করত। আমরা কেউ চাই না আর দেশে কোনো গোলযোগ হোক।

শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রায়ের পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবনের সঙ্গে, কাজের সঙ্গে, কবিতার সঙ্গের বাইরের ব্যাপার ছিল। আমি কোনো তাত্ত্বিক নই, পন্ডিতও নই, সাহিত্যের ওপর বিশেষ কোনো পাণ্ডিত্য নেই। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কোনোকিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শুনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শুনে, গান গায় সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে একটা হতাশাবাদী গুষ্টি আছে তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম.মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।

যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়।

দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।