খুঁজুন
, ,

সিনহা হত্যা:এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 December, 2020, 10:35 pm
সিনহা হত্যা:এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

টেকনাফে তল্লাশি পোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার সময় কক্সবাজার জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ বি এম মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আলোচিত এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক তামান্না ফারাহর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে এই সুপারিশ করেন।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানান।

সিনহা হত্যা মামলার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ বি এম মাসুদ হোসেনকে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। এখনো তিনি সেখানেই দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে কক্সবাজার জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

সিনহা হত্যার পর তৎকালীন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের একটি অডিও প্রকাশ পেয়েছিল। সে বিষয়ে তদন্তে কি মিলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আগে থেকেই ওসি প্রদীপ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসেছিল। তা নিয়ে এসপি মাসুদ অত্যন্ত উদাসিন ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাসহ স্থানীয়দের নির্যাতনের ঘটনা গণমাধ্যম আসার পরেও পুলিশ সুপার সম্পূর্ণ উদাসিন ছিলেন। তাছাড়া ঘটনা ঘটার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে এবং আহত মেজর সিনহাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা সহ বিভিন্ন বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা আমলে এনেছেন।

পুলিশ সুপারের অপেশাদার আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে আরো বেশি সতর্ক হওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সার্বিক ঘটনা বিবেচনায় একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ পুরা ঘটনা তদারকিতে ঘাটতি ছিলো। এই পরিপেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদের আচরণের বিরুদ্ধে এবং দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় ব্যবস্থা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে থানায় বসে ওসি প্রদীপ (তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি) সহ পাঁচজন মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে তা বাস্তবায়ন করেন ১৫ জন মিলে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। ওই কাজেই তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।

কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। পুলিশ সেদিন ঘটনাস্থল থেকেই সিফাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিপ্রাকে। সিনহা নিহতের ঘটনায় এবং গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ, যাতে সিনহা এবং তার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আসামি করা হয়। আর নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করার সময় মাদক পাওয়া যায় অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করা হয়।

কিন্তু পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২ আগস্ট উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটি এরই মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৬৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রশাসনিক ওই তদন্তে কক্সবাজারে চেকপোস্টে পুলিশের ভূমিকা অপেশাদার ও হটকারী বলে মন্তব্য করা হয়। ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বেশকিছু সুপারিশ করেন তারা।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ নয় জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করলে র‌্যাবকে তদন্তভার দেন বিচারক। তাদের মধ্যে সাতজন পরদিন কক্সবাজারের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল ছাড়া ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ১৪ জনের বাইরে টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেবকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের করা মামলায় সিনহার সঙ্গী সিফাত ও শিপ্রা এখন জামিনে আছেন।

ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের ইতোমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশকে নতুন করে সাজানো হয়। এসপি থেকে কনস্টেবল- প্রায় সব পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে অন্য জেলায়। এদিকে সিনহার বোনের করা মামলা ‘অবৈধ’ দাবি করে তা বাতিল চেয়ে রিভিশন আবেদন করেছেন মামলার প্রধান আসামি পরিদর্শক লিয়াকত আলী। রোববার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

Feb2
Feb2

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্পেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:18 am
বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালে স্পেন

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। সেই সুবাদে এগিয়েও যায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে কিছুক্ষণ পরেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চললেও পুরো সময়ে গোল আসে একটি। আর সেই গোল করে স্পেন। তাতেই ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুতে পেদ্রির পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাভিয়ান রুইজ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি তিনি। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে লিড এনে দেন এই মিডফিল্ডার।

ডি-বক্সের খুব কাছ থেকে দানি ওলমোর নেওয়া জোরালো শটটি বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। রিবাউন্ড থেকে ধেয়ে আসা বল লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি রুইজ। তার নেওয়া শটটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন চড়া পরীক্ষার মুখে পড়ে বেলজিয়াম।

তবে গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। স্পেনের এতদিনের অভেদ্য রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে চমৎকার এক পাল্টা-আক্রমণ সাজায় তারা। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করে বল জালের ঠিকানায় পাঠান চার্লস ডি কেটেলারা।

চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম না করা স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হলো বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার এই গোলের পর ম্যাচে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কোর্তোয়ার পরিবর্তে স্পেনের আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে গোলপোস্টের নিচে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর সৃষ্টি হওয়া জটলা থেকে বল পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। বল পাওয়া মাত্রই কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের একদম মাঝখান দিয়ে জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি।

এরপর ম্যাচে আর কোনো গোল আসেনি। ফলে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন স্পেন।