খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন: চ্যালেঞ্জের মুখে ‘আলম পরিবার’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন: চ্যালেঞ্জের মুখে ‘আলম পরিবার’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি শহরে প্রায় দুই দশক ধরেই চলে আসছে, প্রভাবশালী ‘আলম পরিবার’-এর নানামুখী কর্তৃত্ব। রাজনীতি থেকে পরিবহন খাত, টেন্ডার-টোল নিয়ন্ত্রণ থেকে নিলাম আবার আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সকল পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রভাব বলয়। এর বাইরে জেলাশহর ছাপিয়ে উপজেলা পর্যায়ের যেকোন লাভজনক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনেও এই পরিবারের ঈশারা প্রতিফলিত হতো।

এই প্রভাবের সূচনা হয় এই পরিবারের অন্যতম সদস্য মো: জাহেদুল আলম; জেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক নির্বাচিত হবার সূত্র ধরেই। একই সাথে জাহেদুল আলম, খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের কল্পরঞ্জন চাকমা এমপি নির্বাচিত হলে ‘আলম পরিবার’-এর প্রতিপত্তি তড়তড় করে বাড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হলে খাগড়াছড়ি জেলায় এই পরিবারের প্রাধান্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।

এমনকি ‘২০০১ টু ২০০৬’ সালে বিএনপি-জামাত শাসনামলে এই পরিবার এলাকার বাইরে থেকেও যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করেছে সবকিছু। এরমধ্যে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকারের সময়ে পরিবারটির তিন সহোদর জেল-জুলুমও খাটেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিএনপি’র হাতে তাঁরা নিমর্ম নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্ব থেকে তাঁদেরকে খুব বেশি টলাতে পারেনি কেউই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হন ‘আলম পরিবার’-এর প্রধানতম ব্যক্তি ও জেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক মো: জাহেদুল আলম। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘জাতির জনক’ এবং ‘আওয়ামীলীগ ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা’ সর্ম্পকে নানা বিরুপ মন্তব্য করে সমালোচিত হন। দলের শৃঙ্খলা এবং নীতি-আদর্শ পরিপন্থী ভূমিকার দায়ে তিনি প্রথমবার দল থেকে বহিস্কৃত হন। পরে আবার নানা বাস্তবতায় তিনি স্বপদে বহাল হলে আবারও আগের মতোই পরিবারটির প্রভাব উদ্যম নিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান না নেয়ার দায়ে তিনি এবং তাঁর ছোট ভাই দিদারুল আলমসহ দল থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বহিস্কৃত হন। এরপর জেলাশহর এবং বেশ কয়েকটি উপজেলায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাথে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। টানা প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী হামলা-মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন।

২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ২০১৮ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ‘আলম পরিবার’-এর দিক থেকে আস্তে আস্তে মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকে। ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলনে সা: সম্পাদকের পদ হারান মো: জাহেদুল আলম। সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর পুর্নগঠিত ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’-এর ১৪ সদস্যের মধ্যেও ওই পরিবারের কারো স্থান মেলেনি। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে ‘আলম পরিবার’-এর সদস্য এবং দুইবারের নির্বাচিত পৌর মেয়র রফিকুল আলম আওয়ামীলীগের মনোয়নবঞ্চিত হন।

দুইবারের মেয়র এবং ‘আলম পরিবার’-এর সর্বশেষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মো: রফিকুল আলম আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হবার খবর জানাজানি হলে সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। খাগড়াছড়ি শহরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝেও এই খবরের নানামুখী প্রতিক্রিয়া চাউর হয়।

সবার ধারণা ছিল, ‘আলম পরিবার’ অতীতের মতো আর মূল দলের বিপরীতে আর অবস্থান নেবেন না। এমন বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল জেলা আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডেরও।

তাঁর কারণ হিশেবে জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সহ-সভাপতি মনির হোসেন খান জানান, জেলা সভাপতি এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র নির্দেশনায় কেন্দ্রে প্রস্তাবিত তিন প্রার্থীর তালিকায় মেয়র রফিকের নাম এব নম্বরে দেয়া হয়েছিল। রফিকুল আলম কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন ফরমও কিনেছেন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে অতীতের মতো দলের নীতি-আদর্শের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যা তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য।

আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদটি কোনভাবেই হাতছাড়া করতে চান না ‘আলম পরিবার’। ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা জানান, জেলা আওয়ামীলীগ থেকে জেলা পরিষদ; সবখানে নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব সীমিত হয়ে এসেছে। এখন যদি পৌর মেয়রের পদটিও হাতছাড়া হয় তাহলে পরিবারটি নানামুখী চাপে পড়তে পারে। সে আশংকা থেকেই রফিকুল আলম সরকারি দলের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আওয়ামীলীগ প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী নিজের জয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পৌর এলাকার ‘পাহাড়ি-বাঙালি’ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যকার শান্তি ও সহাবস্থানকে আরো সুদৃঢ় এবং আধুনিক পৌরশহর বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।

বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলমের বিদ্রোহী প্রার্থী হিশেবে মনোনয়ন দাখিলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, যিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তার দায়, তাঁর নিজেরই; দল কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর দায় বহন করবে না।

বিএনপি প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে ভোটারদের অনাস্থা রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ‘লেভেল প্লেয়িং’ ফিল্ড প্রয়োজন। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে তিনি জয়ী হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সকালে আওয়ামীলীগের মনোয়ন জমা দেয়ার সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর খন্ড খন্ড মিছিলে পুরো শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। স্বতস্ফুর্ত মিছিল আর শ্লোগানে নেতাকর্মীরা দৃঢ়তার সাথে জানান, স্বেচ্ছাচারিতা ও নীরব লুঠপাটের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে খাগড়াছড়ি পৌরবাসী নির্মলেন্দু চৌধুরী’র মতো সজ্জন নেতাকেই জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ।

২৪ ঘণ্টা/প্রদীপ চৌধুরী

Feb2

৫ গোল ও ১ লাল কার্ডের ম্যাচে বসনিয়াকে হারাল সুইজারল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ
৫ গোল ও ১ লাল কার্ডের ম্যাচে বসনিয়াকে হারাল সুইজারল্যান্ড

৭৩ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় ছিল সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ম্যাচ। এরপরই শুরু হয় উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই, যেখানে ১০ জনের বসনিয়াকে চেপে ধরেছিল সুইসরা। বিরতির পর বদলি নামা ইয়োহান মানজামবির তিন মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন। তার জোড়া গোলে বসনিয়াকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

এর আগে দুই দলের শুরুটা ছিল ম্যাড়ম্যাড়ে। উভয়েই প্রথমার্ধে কেবল একটি করে শট লক্ষ্যে রাখতে পারে। যা থামিয়েছেন গোলরক্ষকরা। তবে সেই তুলনায় বিরতির আগে ফাউল হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের পক্ষে মানজামবির জোড়া গোল ছাড়া একবার করে স্কোরশিটে নাম তোলেন রুবেন ভার্গাস ও গ্রানিত জাকা। বিপরীতে, বসনিয়া এরমিন মাহমিচের গোলে ব্যবধান কমায়।

৭১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন সুইস মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি। মিনিট তিনেক পর দুর্দান্ত এক ভলিতে তিনি ম্যাচের ডেডলক ভেঙে বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন। ৮৪তম মিনিটে সুইসদের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভার্গাস। এর মিনিট চারেক আগে বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। ফলে দলটি ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

মানজাম্বি ৯০তম মিনিটে ভার্গাসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। আর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের একেবারে শেষ কিকে পেনাল্টি থেকে গোল দিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। তার আগে বসনিয়ার পক্ষে এক গোল শোধ দিয়েছেন এরমিন মাহমিচ।

বসনিয়া ম্যাচ হারলেও বিশ্বকাপে নিজেদের মাত্র দ্বিতীয় আসর খেলতে এসে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকিয়ে রেখেছে। শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তারা দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় পর্যন্ত লড়েছে প্রায় সমানে সমান। চলতি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক কানাডার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বসনিয়া।

পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে কানাডার ইতিহাসগড়া জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে কানাডার ইতিহাসগড়া জয়

যেন কিছুতেই ক্ষুধা মিটছিল না কানাডার। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পাওয়ার লক্ষ্যে নেমে কাতারকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশটি। পুরো আসর থেকে ছিটকে দেওয়ার মতো চোট এবং দুই লাল কার্ডের পাগলাটে ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিলো কানাডা। তাদের ইতিহাসগড়া জয়ের পথে জোনাথান ডেভিড দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন।

স্বাগতিক কানাডা ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে নেমে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল কাতারকে। সেই দাপট অব্যাহত রেখে ১৬ মিনিটেই তাদের স্কোরবোর্ড পরিবর্তন শুরু। যা চলেছে ইনজুরি সময় পর্যন্ত। উল্টো দুই অর্ধে দুই লাল কার্ডের সুবাদে ৯ জন নিয়ে কাতার গভীর খাদে পড়ে যায়। সেখান থেকে তাদের আর ওঠা হয়নি।

কানাডার বড় জয়ে ডেভিডের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একবার করে স্কোরশিটে নাম তোলেন কাইল লারিন ও নাথান সালিবা। অন্য গোলটি ছিল কাতারি ফুটবলারের আত্মঘাতী। পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ পজেশন নিয়ে কানাডা ৩২টি শট নেয়, এর মধ্যে ৯টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে ভঙ্গুর কাতার ২ শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কারণে টরন্টোতে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে থাকতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আজ (শুক্রবার) বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয় পাওয়ার ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাক্ষী রেখে ১৬তম মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাইল লারিন। জোনাথন ডেভিডের ভলি শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা প্রতিহত করলে লারিন ফিরতি শটে গোল করেন।

২৯তম মিনিটে ডান পায়ের ভলি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড। এটি ছিল এক বছরেরও বেশি সময় পর ওপেন প্লে থেকে তার প্রথম গোল। ৩৩তম মিনিটে কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের হোমাম আহমেদ। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্কোরলাইন ৩-০ করে কানাডা। ক্রসবারে লেগে ফিরে আসা একটি শট থেকে গোলমুখের জটলার মধ্যে ডেভিড বল জালে জড়ান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইসমায়েল কোনেয়েকে ভয়ঙ্কর ট্যাকল করেন আসিম মাদিবো। যে কারণে তিনি লাল কার্ড দেখলে কাতার ৯ জনের দলে পরিণত হয়। চোট পাওয়া কোনেয়ের বাম পা অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সতীর্থরাও। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে তুলে নেওয়া হয়। এই মিডফিল্ডারের বদলি নেমে নাথান সালিবা ৬৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। এরপর উঁচিয়ে ধরেন কোনেয়ের ৮ নম্বর জার্সি।

৭৫তম মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে আত্মঘাতী গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। অতিরিক্ত সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ডেভিড। এর মাধ্যমে এই বিশ্বকাপে এক ম্যাচে তিন গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে নাম লেখান তিনি।

শেষ মুহূর্তের গোলে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হার এবং দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের তিক্ত দিন দেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে হার এড়িয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ৮৩ মিনিটে দেওয়া গোলে সেই কাজটাও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ৭৭ মিনিট লিড ধরে রাখা চেক প্রজাতন্ত্র জয়বঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়ল ১-১ সমতায়।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে জাতীয় সঙ্গীতের সময় আফ্রিকান মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা ছিলেন অশ্রুসিক্ত, আর শেষ করেছেন হাসিমুখে। পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি দলকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন। এর আগে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই চেক প্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে দেন মিখাল সাদিলেক।

এর আগে দুই দলই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল এবং ফলে তারা জানত যে আরেকটি হার নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ গোলে মেক্সিকোর কাছে এবং চেক প্রজাতন্ত্র ২-১ ব্যবধানে হারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। ফলে এই ম্যাচের ড্র উভয়কেই বাঁচিয়ে দিয়েছে।

দারুণ খেলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। যদিও তারা ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। এবারের বিশ্বকাপে দ্রুততম গোল করলেন মিডফিল্ডার মিখাল সাদিলেক। ম্যাচের ৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে বক্সে আলেকসান্দ্র সোইকার সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে নিচু শটে তিনি গোল করেন।

পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ফল আসে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফেরান তেবোহো মোকোয়েনা। দক্ষিণ আফ্রিকা ফরোয়ার্ড থাপেলো মাসেকোর শট চেক বক্সে ফরোয়ার্ড পাভেল শুলৎসের হাতে লেগে হ্যান্ডবল হয়। এরপর স্পটকিকে গোল করেন মোকোয়ানা।

গ্রুপ ‘এ’ থেকে দুই দলেরই এখনও শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে। একই সময়ে চেক প্রজাতন্ত্র খেলবে মেক্সিকোর বিপক্ষে।