খুঁজুন
, ,

টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ৭৩ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 22 December, 2020, 11:05 am
টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ৭৩ কোটি টাকা

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ঋণ নিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পালন করা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে পরামর্শক নিয়োগে এক ধরনের অলিখিত বাধ্যবাধকতা থাকে।

এবার টয়লেট নির্মাণ, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি শেখানো সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের তিন খাতে ৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যয় আরও বেশি ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির মুখে কিছুটা কমে এ অঙ্ক দাঁড়িয়েছে।

কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রকল্পের আওতায় ওয়াশ (ওয়াটার, হাইজিন, স্যানিটেশন) সুবিধার আওতায় আসবে গ্রামের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।

পরামর্শক ব্যয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সোমবার বলেন, এ বিষয়ে আমি জানতে চেয়েছিলাম। পরে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসে আমার সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। তবে ‘সব সময় সব কথা বলা যায় না’- এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্পে এ রকম পরামর্শক ও বিভিন্ন মিটিংয়ের নামে বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু যতটা সম্ভব এ খাতে ব্যয় কমানো উচিত। এছাড়া যেসব কার্যক্রম করা হবে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেসব কাজে লাগানো উচিত। তবে আর্সেনিকযুক্ত এলাকায় কিছুটা কারিগরি কার্যক্রমের জন্য পরামর্শক লাগতে পারে। সেটি এত টাকা বা এত ধরনের কাজে নয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা বিভাগ) আরিফ আনোয়ার খান বলেন, যাচাই-বাছাই করেই এসব পরামর্শক এবং ব্যয় ধরা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে, তারপর পরিকল্পনা কমিশনেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এভাবে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করেই এসব ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া একেক পরামর্শকের একেক ধরনের কাজ। এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা ১ হাজার ৮৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা থেকে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় যেসব কার্যক্রম করা হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প এলাকার অতিদরিদ্রদের জন্য ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৭০টি টয়লেট তৈরি করে দেয়া হবে।

এ খাতে ব্যয় হবে ৭৭২ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া ৭৮টি লার্জ পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম বাস্তবায়ন করা হবে। সেই সঙ্গে ৩ হাজার ৩৬৪টি কমিউনিটি পর্যায়ে পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম, ৩৫২টি পাবলিক স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধা, ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধা, ৭৮০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে টয়লেট রানিং ওয়াটার সুবিধা সৃষ্টি, কোভিডের কারণে হাত ধোয়ার জন্য পানি সুবিধাসহ ৮৮২টি স্টেশন নির্মাণ এবং কোভিড-১৯ রোধে প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সরবরাহ করা হবে।

আরও থাকবে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কার্যক্রম। এসব কার্যক্রম সংবলিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিএমইউর জন্য ১ হাজার ৬২৪ জনমাস পরামর্শকের পেছনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া ৩৪০ জনমাস প্রি-ফিজিবিটি স্টাডি, ডিজাইন অ্যান্ড সুপারভিশন টিএ কনসালটেন্সির জন্য চাওয়া হয়েছে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর ক্লাইমেট হট স্পট (কোস্টাল এরিয়াস) নির্ধারণে ১৭৮ জনমাস পরামর্শকের জন্য ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। যেটি মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশে বলা হয়েছিল, পিএমইউ অঙ্গে পরামর্শক সেবার ব্যয় ন্যূনতম পর্যায়ে সংস্থান রাখতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের কার্যক্রম বিবেচনায় প্রয়োজনে নিরিখে প্রস্তাবিত পরামর্শকের কার্যক্রম ও জনমাস নির্ধারণের বিষয়টি রিভিজিড করে এ অঙ্গে প্রস্তাবিত অর্থ যৌক্তিক হারে হ্রাস করতে হবে। উপকূলীয় এলাকার সমীক্ষা অঙ্গসহ সব পরামর্শকের টিওআর পুনর্গঠিত ডিপিপিতে (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া প্রকল্পে ছকে পরামর্শকদের সংস্থান পৃথকভাবে দেখাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নিতে গেলে পরামর্শক রাখতেই হয়। তারপরও আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা ব্যয় কমাতে পেরেছি। কিন্তু তারা (উন্নয়ন সহযোগীরা) সাধারণত কমাতে চায় না।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।