খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয়দের পর্যাপ্ত চাকুরির উদ্যোগ নেব : ডা.শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:২০ অপরাহ্ণ
নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয়দের পর্যাপ্ত চাকুরির উদ্যোগ নেব : ডা.শাহাদাত

চসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহবায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠাকালে ও সম্প্রসারণের সময় বিভিন্নভাবে স্থানীয় বাসিন্দদের জমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। দেশের স্বার্থে বন্দরের জন্য অনেকে নিজেদের বসতবাড়ী ফসলি জমি ছাড়তে হয়েছে। এতে করে বন্দর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অথচ এখনও বন্দর এলাকার সুশিক্ষিত হাজার হাজার যুবক বেকার। এই বেকারত্বের কারণে স্থানীয় যুবকরা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দরে স্থানীয় সুশিক্ষিত লোকের চাকরির কোন কোটা নেই। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহন করবো।

তিনি আজ বুধবার (১৩ জানুয়ারী) নগরীর ৩৬নং গোসাইলডাঙ্গা ও ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে হাসেম সও. মসজিদ, কেবি দোভাস লেইন, মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা, ফকিরহাট রোড়, হাজি ঠান্ডা মিয়া লেইন, রোহিঙ্গা পাড়া, বেচাখাঁ রোড়, ফকিরহাট বাজার, নিমতলা বিশ্বরোড় হয়ে কাস্টমস মোড় এবং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের সল্টগোলা রেলক্রসিং থেকে শুরু হয়ে ইশান মিস্ত্রীর হাট, পুরাতন ডাকঘর মোড়, লোহারপুল মোড়, মাইজপাড়া, ওমরশাহ পাড়া, কলসি দিঘী রোড়, ঈগল ক্লাব মোড়, ওয়াসিল চৌধুরী পাড়া, মাইলের মাথা, সিমেন্স হোস্টেল মোড়, নিশ্চিন্ত পাড়া ও হিন্দুপাড়া হয়ে ইসহাক ডিপুর সামনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

তিনি বলেন, নিমতলা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত বিশেষায়িত কোন হাসপাতাল নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যে হাসপাতাল আছে তাতে স্থানীয় বাসিন্দারা কোন ধরণের চিকিৎসা পায় না। আপনাদের ভোটে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনের অধিনে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মহানগরীর প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে গোসাইলডাঙ্গা, মুনির নগর, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে এবং সামান্ন বৃষ্টিপাত হলেই ডুবে যায়। তখন নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জলবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ডা. শাহাদাত বলেন, নগরীর বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক বসবাস করে। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভাড়াটিয়া। নিম্ম আয়ের এসব শ্রমিকদের যাতায়াত এবং আবাসন সংকট রয়েছে। পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থাসহ আবাসন সংকচ নিরসন করে ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবো।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের পিতা নয়, সেবক নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের সেবক হয়ে সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো। আমি আপনাদের সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট, নন্দনিক চট্টগ্রাম নগরী উপহার দিতে চাই।

পথসভায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর বলেন, যেখানেই গণসংযোগে যাচ্ছি ধানের শীষের পক্ষে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাধারন মানুষের এই অগ্রযাত্রা কেউ দমিয়ে রাখতে পারবেনা। ২৭ জানুয়ারী ভোটকেন্দ্রে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনার মূল্যবান ভোটটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী দল বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের ধানের শীষেই দিবেন। কোন অপশক্তি বাধা দিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন অশুভ শক্তি আমাদেরকে হারাতে পারবেনা।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন-মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ, মঞ্জুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, মহানগরী বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম (ডক), মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, মহানগর জাসাস সভাপতি কন্ঠশিল্পী আব্দুল মান্নান রানা, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি মো. হানিফ সওদাগর, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুণ, নগর বিএনপি নেতা মো. সেলিম, গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হারুণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আজম, সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. জাহেদ, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুন্নাহার লিজা, বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী, মো. নাছির, মো, ইউসূফ, মো. সালাউদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস সেন্টু, মাহবুবুল আলম বাচ্চু, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, নেজাম উদ্দিন, রফিক সওদাগর, মো. সেকান্দর, মো. ইলিয়াছ, ইউসূফ কোম্পানী,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোহম্মদ হারুন, সি.যুগ্ম সম্পাদক আলী মুর্তজা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক তারিকুল ইসলাম তানভীর, বিএনপি নেতা মঞ্জুর মোরশেদ, আলী আহসান, আনোয়ার হোসেন জুনু, মাহবুব আলম, দেলোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলাম প্রিন্স মো. মুছা, মো. নিজাম, মো. সবুর, শওকত মান্নান, মো. সাইফুল, আক্তার সৈয়দ, মো. কামরুল, অঙ্গসংগঠনের নেতা আব্দুল নূর মিঠু, রিয়াজ উদ্দিন রাজু, মো. আরিফ, মো. কামরুদ্দিন, আলী রাসেদ, নুর জাফর রাহুল, আবু রায়হান চৌধুরী, ওয়াহিদ খান সারাদ, মো.আজম, মো. জাবেদ, মো. ফারুক, মো. ইয়াছিন, মো. কামাল, মো. হাশেম, মো. রনি, মো. পারভেজ, মো: হাসান, আক্তার, সাগর, ইমরান, লিটন, অভি, আকিল, ফয়সাল, জীবন, কায়সার, ওয়াহিদ প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।