খুঁজুন
, ,

উন্নয়নের জন্য সমবায়ী কর্মকান্ডে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 2 November, 2019, 7:45 pm
উন্নয়নের জন্য সমবায়ী কর্মকান্ডে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবায়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে যুগোপযোগী সমবায় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে সমবায়ের মাধ্যমেই আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে পারবো।’

আর এজন্য দক্ষ সমবায়ীদের প্রশিক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমবায়ের কাজে যারা দক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সৎভাবে তারা যেন কাজ করে সেই বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘ইনশাল্লাহ, তবেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে সক্ষম হব,’যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৮ তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০১৯ উদযাপন এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তাঁর সরকার ‘উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে মহিলাদের সুদ বিহীন, জামানত বিহীন, দীর্ঘ মেয়াদী ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।’

সমবায় ভবন নির্মাণ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সদর কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল কার্যালয়কে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে অনলাইনে কেনা-বেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনলাইনে পন্য কেনা-বেচা ও বাজারজাতকরণের বিষয়টির উদ্বোধন করেন বলেও জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার, বাংলাদেশের জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নাদির হোসেন লিপু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক এবং মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকান্ড নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন।’

অনুষ্ঠানে ২০১৮ সালের জাতীয় সমবায় পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনা পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সমবায়ীদের জন্য অনলাইনে পন্য কেনা-বেচা ও বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন এবং অনুষ্ঠানস্থলে সমবায়ীদের স্থাপিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, পুঁজি গঠন ও নারীর ক্ষমতায়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ। এ সকল সমবায় সমিতির মোট কার্যকরি মূলধনের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সমবায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ।

দেশের বিদ্যমান সমবায় আইনকে যুগোপযোগীকরণ এবং সমবায় ব্যাংককে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও ভাষণে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সমবায় আইনটিকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে এবং সমবায় ব্যাংক যেটা রয়েছে সেটা এক সময় মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কাজেই এই ব্যাংক আইনটাও সময়োপযোগী করে এবং এটাকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রামের দরিদ্র ও বিত্তহীন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ, উপকরণ সরবরাহ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়নে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে ১৭৪টি উপজেলায় বিস্তৃত হয়েছে।

সেই সঙ্গে পল্লী অবকাঠামো সুবিধা ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এর মাধ্যমে সরকার ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ফলে গ্রামে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্রামের রাস্তায় সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুতের গ্রিড লাইন নেই সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দেশের শতকরা ৯৩ জন মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌ পথ, সড়ক পথ এবং রেল পথ চালু করা এবং উন্নত করা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার ফলে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ছে এবং মানুষের জীবন-মান উন্নত হচ্ছে।

তাঁর সরকার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড), কুমিল্লা এর গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনার জন্য ২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘ভিক্ষুক জাতির কোন ইজ্জত থাকে না,’ জাতির পিতার বক্তৃতার এই উদ্বৃতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘জাতির পিতা আমাদেরকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে সে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি। কাজেই এই দেশের মানুষ আর কোনদিন কারো কাছে হাত পেতে চলবে না, মাথা উঁচু করে চলবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার কৌশল ছিল সমবায়।’

‘জাতির পিতা এদেশে কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিল্প উদ্যোগ, কৃষি ঋণসহ সব ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতাই সংবিধানের ১৩-নং অনুচ্ছেদে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে সমবায়কে স্থান দিয়ে যান। তিনি (বঙ্গবন্ধু) নিরন্ন মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে গঠন করেছিলেন কৃষি সমবায় সমিতি, পুষ্টির চাহিদা পূরণে গঠন করেছিলেন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি,দরিদ্র তঁাঁতীদের নিয়ে তাঁতী সমবায় সমিতি, শিল্প সম্প্রসারণে শিল্প সমবায় সমিতি এবং দেশের অন্যতম সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন’।

জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে তৃণমূল পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিটি গ্রামে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সমবায়ের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ২ শত ৪৯টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ১শ ৩ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ঋণ সহায়তা প্রদান করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার ২২৩টি গ্রামে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৭২৩টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠিত হয়েছে। যার উপকারভোগী পরিবার ৪৭ লাখের ও বেশি। একইসঙ্গে, গ্রামভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠন করে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি) প্রকল্পের মাধ্যমে সমবায়ভুক্ত সদস্যদের লাগসই প্রশিক্ষণও প্রদান করা হচ্ছে।

দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে সরকারের সমবায়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ উৎপাদন নিশ্চিতকরণ প্রকল্প’ এবং ‘দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম বিস্তৃতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনা জেলার দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া, মিল্ক ভিটার মাধ্যমে গো-খাদ্য উৎপাদনের জন্য লাহিড়ী মোহনপুর দুগ্ধ কারখানায় গো-খাদ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা এবং দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িঘাট গুড়োঁ দুধ উৎপাদন কারখানা স্থাপন, চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন, ‘বৃহত্তর ফরিদপুরের চরাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও দুধের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ কারখানা স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ও তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সরকার সমাজের অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে গারো সম্প্রদায় এবং সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর শতকরা ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নেই বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের বাজেট ও আমরা ৭ গুণ বৃদ্ধি করেছি এবং ইতোমধ্যেই আমরা সল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করেছি।’

এই উত্তোরণকে ধরে রেখে আমাদেরকে আরো সামনে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার নির্দেশনা অনুযায়ী এই এগিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সমবায়কে গুরুত্ব দেব। যাতে করে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক মানুষ উপকার ভোগ করতে পারে।’

Feb2
Feb2

বাস-মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 23 September, 2026, 2:46 pm
বাস-মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন নির্ধারিত ভাড়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসে এই ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএর অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে কোনো বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে নতুন ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বিআরটিএর পক্ষ থেকে সিটি সার্ভিসে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে তিন শ্রেণির ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

নতুন ভাড়া নির্ধারণের মধ্য দিয়ে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া সংক্রান্ত আগের সব প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হয়েছে।

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 10:17 pm
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “গণরোষে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট অপশক্তি দিল্লি থেকে দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।” তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এবং মানুষকে উসকে দিয়ে কৃত্রিম অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো অপকর্ম বা নাশকতা করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোনো অপতৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হবে এবং এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, “নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।” দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে কোনো অপশক্তির কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া কোনো অপশক্তি কিংবা তাদের সহযোগীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে যারা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় দল নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও স্থিতিশীলতার পথে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা জোরদার এবং নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ,এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইস্কান্দার মির্জা, মুজিবুল হক, মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশারফ হোসেন ডিপটি, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, মোহাম্মদ আজম ও মোহাম্মদ ইউসুফ ।

এ ছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, তরুণ দলের সেলিম হাফেজ ও মনিরুজ্জামান মুরাদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 8:38 pm
পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

তিনি আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপ্তি বলেন, জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।