খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রেজাউলকে বিজয়ী করা বীর চট্টলবাসীর নৈতিক দায়িত্ব : আহমদ হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রেজাউলকে বিজয়ী করা বীর চট্টলবাসীর নৈতিক দায়িত্ব : আহমদ হোসেন

আজ শুক্রবার সকালে রেজাউল করিমের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত নেতৃবৃন্দর সাথে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

দুপুরে জুমার নামাজ আদায় করে জমিউতুল ফালাহ জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। সে সময় মুসিল্লীদের কুশল বিনিময় করেন এবং নৌকা প্রতীকে ভোট প্রর্থানা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক আলহাজ বদিউল আলম, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সিদ্দিক আহম্মদ।

এর পর দুপুরে চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সমর্থনে বাকলিয়া ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া ও ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া গণসংযোগ শুরু করেন।

গণসংযোগ চলাকালে পথসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের বীর সন্তানদের মাটি। সারা বাংলাদেশের মানুষ চট্টগ্রামকে বীর চট্টলা হিসেবে জানে। স্বাধীন সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনকের কন্যা বীর চট্টগ্রামের একজন বীর সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানিয়ে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিন ও নৌকা প্রতীকের মেয়র পদপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক বাকলিয়া গড়তে বাকলিয়া বাসীকে উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজাব এবং আধুনিক সেবা নিশ্চিত করব।

প্রসংগক্রমে তিনি আরো বলেন, বাকলিয়াবাসীকে অতীতে বিএনপি মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিয়ে গিয়েছিল। আবার তারা এটাকে তাদের ভোট ব্যাংক বলেও দাবী করত। কিন্তু বাকলিয়ার উন্নয়নে তারা কিছুই করেনি। বাকলিয়ার মানুষ আর ধোকাবাজির ফাঁদে পড়বেনা। কারন বাকলিয়াবাসী জানে, একমাত্র আওয়ামী লীগই এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে। নৌকায় ভোট দিয়ে কেউ ঠকেনি। বৃহত্তর বাকলিয়াকে পরিকল্পিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে আকর্ষনীয় নান্দনিক রূপে সাজানোর সুযোগ রয়েছে, এটি আওয়ামী লীগই দেখিয়েছে। বাকলিয়ার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বাকলিয়াবাসী এবার নৌকায় ভোট দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাকলিয়াসহ নগরীর কিছু এলাকায় মাদক ও জুয়া আরেকটি ভয়াবহ সমস্যা। মদ খোর, সুদ খোর, জুয়াড়ী এসবের বিরুদ্ধে আমার আজীবনের সংগ্রাম। মেয়র হলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্ণীতি কঠোর হাতে দমন করা হবে। আধুনিক হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, পার্ক ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, কর্ণফুলি তীরবর্তী পর্যটন স্পট নিয়ে বাকলিয়া হতে পারে শহরের ভেতর নতুন আরেক শহর। প্রাচ্যের রাণী খ্যাত আমাদের চট্টগ্রাম আমরাই করব সমুন্নত।

বক্তব্যে সাবেক মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দিন বলেন, জলামগ্নতা এ এলাকার একটি চরম সমস্যা। জননেত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রামের প্রতি আন্তরিকতায় চলমান রিভার ড্রাইভ রোডসহ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগাপ্রকল্প সম্পন্ন হলে এ সমস্যার একটা সুরাহা হবে। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত খাল খনন, সম্প্রসারন ও সংস্কার এবং নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থায় চলমান কাজ গুলো সম্পন্ন হলে মশকের প্রজনন ক্ষেত্র অনেকটাই ধ্বংস হবে, মশার উৎপাত কমে আসবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোটারদের নৌকায় ভোট দিয়ে রেজাউল করিমকে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও মহা নগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আলহাজ শফর আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য আহমদ ইলিয়াস, কার্যনিবাহী সদস্য বেলাল আহমদ, থানা আওয়ামীলীগের হাজী সিদ্দিক আলম, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, ১৯ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন নুরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলম জাহেদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আহমদ হোসেন, ১৭নং ওয়ার্ড পশ্চিম বাকলিয়া কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শহিদুল আলম, ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়র্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, ১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নূরুল আলম, ১৭, ১৮ ও ১৯ নং ওয়র্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহীন আকতার রোজীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।