খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালের স্বাক্ষী সিআরবি; এ ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব সরকারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
কালের স্বাক্ষী সিআরবি; এ ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব সরকারের

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী:

চট্টগ্রাম শহর ভালো নেই। ভালো নেই এ শহরের মানুষগুলো। চারিদিকে দুঃসংবাদ। একদিকে মৃত্যুর মিছিল আর করোনা রোগিদের অসহায় আত্মসমর্পণ। হাসপাতালে আইসিউ সিট খালি নেই, অক্সিজেনের সংকট, করোনা ইউনিটে অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থা; এসব নিত্যকার সংবাদ চট্টগ্রামের মানুষের মনে ক্রমশ হাহাকার বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বন্যা, পাহাড় ধস, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার আক্রমণে সর্বত্র এখন আতংক। ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন। কোথাও আশার আলো নেই। এসব দুঃসংবাদের মাঝে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপর উড়ে এসেছে কালো মেঘের ঘনঘটা; চট্টগ্রামের ফুসফুস সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এমন ষড়যন্ত্রমূলক সিন্ধান্তে দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও বৃক্ষপ্রেমি হিসেবে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। হাসপাতাল নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু মাতৃবৃক্ষ ধ্বংসের আত্মঘাতী সিন্ধান্ত নিয়ে নয়।

বলে রাখা ভালো, খাওয়া-দাওয়া জায়েজ কিন্তু নামাজ পড়া অবস্থায় হারাম। নামাজ নিঃসন্দেহে উত্তম ইবাদত কিন্তু জুমার খুতবা চলাকালীন নিষেধ। কুরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম নফল ইবাদত কিন্তু ঘুমন্ত মানুষের ঘুম নষ্ট করে নয়। এগুলো ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি হলেও বাস্তবতার সাথে শতভাগ মিল। কারণ ইসলাম কর্মময় ধর্মের নাম। অতএব মানুষের কল্যাণে হাসপাতাল হোক কিন্তু মহান আল্লাহ প্রদত্ত প্রাকৃতিক হাসপাতাল ধ্বংস করে নয়। কারণ সিআরবি স্বয়ং নিজেই একটি হাসপাতাল। পাহাড়ঘেরা সবুজের সমারোহ।বৃটিশরা এদেশ দখলে নেওয়ার পর চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও পরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ও চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন সুবিধাকে রেলওয়ের সাথে সমন্বিত করার প্রয়াসেই ১৮৯৯ সালে সিআরবি প্রতিষ্ঠা করে। আরেকটু এগিয়ে বললে, ১৮৭০ সালে কদমতলী, টাইগারপাস, পাহাড়তলীর বিস্তীর্ণ এলাকাসহ কমিশনারের বাংলোটিলা, সার্কিট হাউস, জমিয়াতুল ফালাহ, স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম ক্লাব, নেভাল এভিন্যু, লালখান বাজার ও অন্যান্য স্থানসহ ২০৯ একর ভূমি নিয়ে পুরাতন ক্যান্টনমেন্টের আওতাভুক্ত করে সামরিক এলাকায় পরিণত করা হয়। রেলওয়ের প্রতিষ্ঠার পর ১৮৯৩ সালে তার গেজেট মূলে ঐ ভূমি থেকে ১৬০ একর জমি রেলওয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এবং এই হস্তান্তরকৃত ভূমিতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় সিআরবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাংলো, ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনা। কিন্তু কালের বিবর্তনে সবকিছুকে চাপিয়ে সিআরবি পরিনত হয়েছে এক পরম শান্তিনিকেতনে। সিআরবি নামটি মুখে আনলেও অন্তরে একধরনের প্রশান্তির নহর জারি হয়।

উঁচু-উঁচু দালানকোঠার এ যান্ত্রিক শহরে, বায়ুদূষণ ও যানজটের নগরে একটু ফ্রেশ হাওয়া, স্বস্তির নিশ্বাস যেন সোনার হরিণ! আর এ সোনার হরিনের সন্ধান মিলে ইতিহাস ঐতিহ্যের স্বাক্ষী সিআরবিতে। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে একটু অক্সিজেন যে, কতবড় হাতিয়ার তা বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। বছরের পর বছর সিআরবি’র মাতৃবৃক্ষগুলো আমাদেরকে এ অমূল্য সম্পদ অক্সিজেন পরম মমতায় ফ্রিতে দিচ্ছে বলে হয়তো কোন কোন বড়কর্তার কাছে এটা মূল্যহীন। তাই হয়তো সিআরবি ধ্বংসের এ নীলনকশা!সিআরবি’র পুরো এলাকার পরতে পরতে অসংখ্য শতবর্ষী গাছের সারিবদ্ধ লাইন। যে গাছের ছায়া সুশীতল করে মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শনার্থীদের মনে। সিআরবি’র অন্তর্ভুক্ত এরিয়ার আঁকা-বাঁকা সর্পিল রাস্তা, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা আর বন-জঙ্গলে সবুজের সমারোহ। সবুজ বটবৃক্ষ আর পাহাড়ঘেরা এ মনোরম পরিবেশ যুগ যুগ ধরে দেশ-বিদেশের মানুষকে দিয়ে আসছে একধরনের নির্মল শান্তি। বলাচলে এটা একটা অঘোষিত পর্যটন স্পট। এ প্রাকৃতিক গিফট রক্ষার আন্দোলনে সর্বমহলের ইনভলবম্যান্ট জরুরি। সিআরবি’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি হলো শীরিষতলা আর খেলার মাঠ। প্রতিদিন যে স্থান শতপ্রাণের আড্ডায় মুখরিত হয়। গোল-গোল আর চার-ছক্কার শব্দে পুলকিত হয় শত কিশোরাত্মা। ইতিহাস ঐতিহ্যে মজে যাওয়ার সাথে সাথে পড়ন্ত বিকালে প্রিয়জনের কাধে হাত রেখে হারিয়ে যাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দেওয়ার উপযুক্ত স্থান একমাত্র এটিই। সিআরবি পাহাড়ের উপরে রয়েছে হাতির বাংলো। পাহাড়ের উপরের বাংলো থেকে চট্টগ্রাম শহরটাকে স্পষ্ট দেখা যায়। যা পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি বিমোহিত করে। নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি নির্মল বায়ু, সবুজের লীলা, মাতৃবৃক্ষের ছায়ার এ স্থান যেন শ্বাসক্রিয়া গ্রহণের একমাত্র জায়গা। অবশ্য নিকট অতীতে সিআরবি নিয়ে কিছু মিশ্র-প্রতিক্রিয়া থাকলেও এটি কালজয়ী ইতিহাসের জীবন্ত স্বাক্ষী। সিআরবি হাজারো মানুষের আবেগ-অনুভূতি ও ভালোলাগা ভালোবাসা; কবি-সাহিত্যিকের কবিতা-প্রবন্ধের কথামালা; রোদবৃষ্টির লুকোচুরিতে প্রকৃতির সাথে প্রেমালিঙ্গণ। তাই আমার কাছে সিআরবি মানে নিছক কোন পর্যটন স্পট নয়; বরং পাহাড়সম দুঃখের মাঝে এক পশলা শান্তি। চিন্তার রাজ্য থেকে বেরিয়ে সমাধানের পথ। শতবর্ষী মাতৃবৃক্ষের বাতাস যেন বাঁচার অবলম্বন।সারা পৃথিবী যখন গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান শ্লোগানকে জীবনের অপরিহার্য আর্ট হিসেবে নিয়েছে তখন চট্টগ্রামের শ্বাসক্রিয়া সিআরবি’র মাতৃবৃক্ষ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত খলনায়কদের মুখোশ উন্মোচন সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন জনপ্রতি অন্তত তিনটি (ফলজ, বনজ ও ঔষুধী) গাছ লাগানোর জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন ঠিক তখনই সবুজের লীলাভূমি সিআরবি নিয়ে এ দুরভিসন্ধি গভীর ষড়যন্ত্রের বার্তা দেয়। একদিকে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর মা মাছ রক্ষায় ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনা। অন্যদিকে সিআরবি’র মাতৃবৃক্ষ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতা। এক শহরে দুই নীতি কেন? এ পারশিয়ালিটি বীর চট্টলার মানুষকে ভাবাচ্ছে। চট্টগ্রামের ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই ইট-পাথরের উঁচু দালান আর শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিড়ে শতবর্ষী বৃক্ষে ঘেরা সিআরবিকে এক টুকরো অক্সিজেন প্ল্যান্ট বলা চলে।

পাহাড়ের মধ্যে প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করতে গেলে শতবর্ষী অনেক গাছ কাটা পড়ার পাশাপাশি এখানকার সবুজ নিসর্গ ধ্বংস হয়ে যাবে। হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুর রবের কবর, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই মাটি শহীদের স্মৃতিধন্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সিআরবি তথা পাহাড়তলী ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। সেসব স্মৃতি সংরক্ষণে রেল উদ্যোগ নেয়নি। অথচ শহীদের কবর, শহীদের নামে কলোনি, শহীদের নামে যে সড়ক সেই জমি তারা বেসরকারি হাসপাতালকে বরাদ্দ দিয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করছেন। তার সুশাসনকে কলঙ্কিত করতে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী আমলা রেলের জায়গায় বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্পের দুঃসাহস দেখিয়েছেন। সিআরবি এলাকায় এই প্রকল্প স্থাপিত হলে সেটির নেতিবাচক প্রভাব শুধু প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানেই সীমিত থাকবে না। সময়ের প্রয়োজনে এই প্রকল্প এলাকা ঘিরে নতুন স্থাপনা গড়ে উঠবে। যার ফলে পরিবেশ দূষণ ঘটবে। পুরো এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক বলয় হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় আমরা চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও বন্দরনগরীর ফুসফুসখ্যাত সিআরবিতে শুধু হাসপাতাল নয়, কোনও ধরনের স্থাপনা করা সমীচীন হবে না। প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনাশী সব কর্মকাণ্ড হবে আত্মঘাতী। চট্টগ্রামের ফুসফুস ও বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্থানটিকে ঐতিহ্য হিসাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই।”

দেশমাতৃকা রক্ষা ও স্বাধিকার আদায়ের প্রায় সবকটি আন্দোলনের সূতিকাগার এ বীর চট্টলা। চট্টগ্রামের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে আন্দোলনমূখর। আমরা আন্দোলনকে ভয় করিনা; বরং এনজয় করি। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে চলমান সিআরবি বাঁচাও গণ-আন্দোলন। প্রয়োজনে সর্বমহলের এ আন্দোলন আরও দীর্ঘ হবে, হবে কঠোর কঠিন। বীরপ্রসবিনী চট্টগ্রামের মানুষ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে গড়া প্রতিষ্ঠান অবশ্যই মানুষের কল্যাণ ও মতামতের ভিত্তিতে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মানের ইস্যুতে জনগণের মতকে প্রাধান্য দিলেই জনস্বার্থ রক্ষা হবে। উল্লেখ্য, সিআরবি’র ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১০০ শয্যার মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণে এক বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে গত ১৮ মার্চ রেলওয়ে একটি চুক্তি করে। অথচ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও পরিবেশগত সংরক্ষিত এলাকায় তালিকায় রয়েছে সিআরবি। তাই সিআরবি সংরক্ষণ করা জরুরি। সিরআরবি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে শত বছরের অধিক পুরোনো গাছ কাটতে হবে। এতে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এছাড়া সিআরবির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই প্রকল্পটি সিআরবি এলাকা থেকে পরিবর্তন করে পরিবেশের ক্ষতি হবে না, চট্টগ্রাম নগরীর এমন স্থানে স্থাপনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি আমলার হামলায় আমাদের প্রাণের সিআরবি ধ্বংস করতে দেবে না বীর চট্টলা। চট্টগ্রামের মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদ সিআরবি কোন স্বার্থান্বেষী মহলকে বানিজ্যিক কেন্দ্র বানাতে দেওয়া হবে না। এ মহামূল্যবান সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সংগঠক
সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা: আলো একাডেমি, চট্টগ্রাম।

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।