কোটি টাকার চেক নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা উদ্বার,ভূমি কর্মকর্তাসহ আটক ৩
চট্টগ্রাম জেলার ভূমি অফিসের বিভিন্ন গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি টাকার চেক ও নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর ষোলশহর চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকানে বিকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন গ্রাহকের দলিল ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
জানাগেছে, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মো. নজরুল ইসলাম নামের এই কর্মচারীকে ঘুষের নগদ টাকা ও চেকসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুদক।

পাশাপাশি ওই দোকানে অবস্থান করায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী তসলীম উদ্দিনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ। তিনি বলেন, প্রায় ১০ টাকার মতো ঘুষ লেনদেনের হওয়ার খবরে আমরা শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার আনুকা নামক একটি পোশাকের দোকানে অভিযান চালাই। এসময় তল্লাশি চালিয়ে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং সাড়ে ৯০ লাখ টাকার ৮টি চেক পাই। এছাড়া ওই দোকান থেকে জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কিত বেশ কিছু কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নজরুল ওই নগদ টাকার কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া দোকানে এদিন কোনো বেচাকেনাও হয়নি। মূলত জমি অধিগ্রহণের নামে চেকগুলোর টাকা উত্তোলন করে ঘুষ বাবদ অগ্রিম টাকা নেয়া হয়েছিলো। তাই ওই দোকানের মালিক নজরুলকে আটক করেছি। এছাড়া এসময় দোকানে জেলা প্রশাসনের অফিস সহকারী তসলীম উদ্দিনকে অবস্থান করতে দেখে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা পান সেই টাকা ছাড় করাতে কমিশন দিতে হয় একটি চক্রকে। আর এ কমিশনের ভাগ অনেকেই পান। কমিশন তোলার কাজটি করতেন নজরুলসহ জড়িত কয়েকজন। অগ্রিম কমিশনের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চেক ও টাকাগুলো নেওয়া হয়েছে। তছলিম উদ্দিনও তাদের সঙ্গে কাজ করতেন।
এ বিষয়ে দুদক সজেকা চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাস বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
উল্লেখ্য, শপিং কমপ্লেক্সস্থ আনুকা নামক দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ের শিকলবাহক (চেইনম্যান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকেসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। পরে তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন