খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনি কি কম ঘুমাচ্ছেন?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১, ৪:২২ অপরাহ্ণ
আপনি কি কম ঘুমাচ্ছেন?

হাজার হাজার বছর ধরে সূর্যের আলো দেখলে জেগে উঠতে হবে আর সূর্যাস্ত মানে আলো নিভে গেলে ঘুমিয়ে পড়তে হবে- এর ম একটি অভ্যাসে অভ্যস্ত মানব সম্প্রদায়ের জীবনে গত ২০০ বছরে ঘটে গেছে কিছু অভূতপূর্ব পরিবর্তন।

শিল্পবিপ্লব হয়েছে। সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে অসাধারণ সব আবিষ্কারের সাথে সাথে এসেছে বৈদ্যুতিক বাতি। রাত এখন আর অন্ধকারের প্রতীক নয়। মানুষ চাইলেই কৃত্রিম আলো জ্বেলে দূর করতে পারে রাতের অন্ধকার।

আর তা করেই সে প্রথম যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাল তা হচ্ছে ঘুম। কারণ আমরা তখনই ঘুমাই যখন আমাদের দেহে নিঃসরিত হয় মেলাটোনিন নামে এক বিশেষ হরমোন। আর মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণের জন্যে দরকার অন্ধকার। কিন্তু ঘুমের জন্যে সে অন্ধকার কই?

এর সাথে গত চার দশকে যুক্ত হলো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ট্যাব, প্যাড- ইত্যাদি হরেকরকম ডিভাইস যার স্ক্রিনে বিচ্ছুরিত হয় ব্লু লাইট বা নীল আলো। ঘুমের মহাশত্রু। সাথে সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট, টিভি আর অনলাইন গেম।

এক গবেষণায় দেখা যায়, গত ৫০ বছরে মানবজাতি তার রাতের ঘুম থেকে দেড় ঘণ্টা হারিয়েছে! আর হারিয়ে সে নিজেকেই বিপন্ন করেছে।

রোগব্যাধি নিয়ে মানুষের ওপর যত রকমের গবেষণা হয়েছে, সেখান থেকে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট। কেউ যত কম ঘুমাবেন, তার আয়ু তত কমবে।

পৃথিবীজুড়ে ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কম ঘুমের সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং মোটা হয়ে যাবার সম্পর্ক আছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের উপর চালানো হয় এসব গবেষণা ।

তিন মাস কারো যদি নিয়মিত সঠিক মাত্রায় ঘুম না হয় তাহলে অকাল মৃত্যু, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা দশ গুণ বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, ঠাণ্ডা লাগে বেশি, টিকার কার্যকারিতা কমে যায়।

আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের মস্তিষ্ক তখন স্মৃতি ও তথ্য সংরক্ষণ করে। শরীর ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে ফেলে সব ঠিকঠাক করে যাতে জাগার পরে শরীর আবার ঠিকমতো কাজ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘুম কম হয় তাদের মনোযোগ ও শর্ট টাইম মেমোরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘুম কম হওয়ায় হতে পারে প্যানিক এটাক (আতঙ্কিত হওয়া), ফোবিয়া (ভীতি) ও ফ্যানটম পেইন (অকারণ অস্বস্তি) যা ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা এমনকি আত্মহত্যা প্রবণতাও সৃষ্টি করতে পারে।
প্রশ্ন হলো- আমরা কম ঘুমাই কেন? বা কেন কমে যাচ্ছে আমাদের ঘুমের সময়?

প্রথমত, গুরুত্বের অভাব। ঘুমকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না। সেই সাথে বেড়েছে আমাদের ব্যস্ততা। আমাদেরকে এখন দীর্ঘসময় কাজ করতে হয়। সকাল সকাল কাজের জন্যে বেরুতে হয়। আবার ফিরতে ফিরতে দেরি হয়। আছে পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা এবং প্রযুক্তি-বিনোদন। আর এ সবকিছু করতে গিয়ে যখন সময়ের টানাটানি পড়ে, আমরা ঘুমের সময়টার ওপরই ভাগ বসাই।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়ার জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ বলেন, “বাংলাদেশে ঘুমের সমস্যার একটি বড় কারণ হলো যথাযথ ‘ঘুমের সংস্কৃতি’ না থাকা। এখানে বেশিরভাগ মানুষেরই রাতের খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাবার সময় মেনে চলার অভ্যাস নেই। ঘুমের সমস্যা তৈরির এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।”

ঘুমের একটা ভাবমূর্তি সংকটও আছে। যদি আপনি কাউকে বলেন যে আপনি দিনে নয় ঘণ্টা ঘুমান, তারা আপনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলবে, সত্যিই তাই! তাদের মাথায় হয়তো তাৎক্ষণিক এ চিন্তাটাই আসবে, লোকটা এতটা অলস!

কম ঘুমানোটা যেন এখন একটা বড়াইয়ের ব্যাপার। সফল রাজনীতিক বা ব্যবসায়ীদের প্রায়শই বলতে শোনা যায় যে তারা কত কম ঘুমিয়ে কাজ করেন!

গবেষক ড. রেবেকা রবিন্স বলেন, “দিনের পর দিন পাঁচ ঘণ্টা বা তারও কম সময় ঘুমানো যে স্বাস্থ্যের ভয়াবহ পরিণতির ঝুঁকি অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়, তার ব্যাপক প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদযন্ত্রজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি, যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং আয়ুষ্কাল কমে যাওয়া।”

আসলে একটি শিশু যখন ঘুমায়, কেউ কিন্তু বলে না যে বাচ্চাটা কি অলস। কারণ আমরা জানি যে, একজন শিশুর জন্য ঘুমটা কত জরুরি। কিন্তু বড় হতে হতে আমরা ঘুম যে জরুরি, এই ধারণাটা পরিত্যাগ করি এবং যারা বেশি ঘুমায়, তাদের গালমন্দ করি। আঁধারহীন পরিবেশ আর ব্লু লাইটের কথা তো আগেই বলা হলো।

আরেকটি বাধা হলো সভ্যতার আবিষ্কার দিয়ে আমরা গরম-ঠান্ডার প্রাকৃতিক ছন্দ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। ঘুমের জন্যে দরকার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দিয়ে শীতল নয়, প্রাকৃতিকভাবে শীতল ঘর যা কিনা আমাদের সহজাতভাবে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতো।
তাহলে সমাধান কী? উত্তর দেয়ার আগে জানতে হবে-কতটা ঘুম একজন মানুষের দরকার তার সুস্বাস্থ্যের জন্যে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা।

এবার এই সময়টাকে ঠিক রেখে আপনার বাকি কর্মঘণ্টাকে সাজান। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমুতে যান। নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠুন। ঘুমের সময়ে ভাগ বসাচ্ছে এমন সব সামাজিকতা ও বিনোদনকে ‘না’ বলুন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ ওয়াকার ঘুম নিয়ে গবেষণা করেছেন। স্বাস্থ্যের ওপর ঘুমের প্রভাবকে তিনি এতটাই ইতিবাচক মনে করেন যে তিনি এখন ডাক্তারদের সঙ্গে লবি করছেন প্রেসক্রিপশনে যেন তারা রোগীদের ঘুমের পরামর্শ দেন।

“যদি আপনার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করার আগ্রহ থাকে তবে আপনাকে রাতের ভালো ঘুমের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে”। বলেছেন প্রফেসর ওয়াকার। তার “হোয়াই উই স্লিপ” বইতে তিনি ভালো ঘুমের জন্যে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এর সাথে দেশের কয়েকজন স্লিপ কাউন্সেলরদের সাথে আমরা কথা বলেছি। গ্রন্থনা করেছি এ টিপসগুলো –
১. প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং বিছানা ছাড়া। প্রতিদিন রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমুতে যেতে হবে। আবার সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানা ছাড়তে হবে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে দিনের শেষে একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে ঘুম-ভাব চলে আসবে।
২. প্রয়োজন অন্ধকার। ঘুমের জন্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ঘুমুতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে ঘরের বাতি কমিয়ে দিন।

সেই সাথে টিভি, ল্যাপটপ, মোবাইল অর্থাৎ সব ধরনের স্ক্রিন থেকেও লগ অফ করুন। ব্লু লাইটের ক্ষতি ছাড়াও এসব ডিভাইসের মাধ্যমে যেসব খবর, বিনোদন বা সোশাল মিডিয়ায় আপনি সময় কাটান, ভালো ঘুমের পথে তা বাধা।
৩. খবর কম দেখুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর লন্ডনের কিংস কলেজ একটা জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, দু-তৃতীয়াংশ মানুষই ঘুমের সমস্যার কথা বলছে। সারাক্ষণ টেলিভিশন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত খবর আর আতঙ্কের তথ্যগুলোই তাদের অশান্তির কারণ।

অহেতুক উদ্বেগ থেকে বাঁচতে এবং ভালো ঘুমুতে তাই স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানও তখন বলেছেন খবর কম দেখতে-

সংক্রমণ এখন কমে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের জায়গা এখন দখল করছে হয়তো অন্য কোনো আতঙ্কের খবর। ঘুমের সমস্যা থাকলে তাই আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খবর দেখা সীমিত করতে হবে-আধঘণ্টা বা পারলে তারও কম।

সীমিত করতে হবে সিরিয়াল, ক্রাইম বা হরর সিরিজ দেখা। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিডিও কনটেন্ট দেখার পরবর্তী ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্কে এর প্রভাব থাকে।
৪. কফি ও কোলা বর্জন করুন। কফি এবং চিনিযুক্ত কোলা শরীরে উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। দেখা গেছে- কফি পানের ছয় ঘণ্টা পরও রক্তে যে পরিমাণে থেকে যায় তা আধা গ্লাস এক্সপ্রেসো কফি পানের সমান। তাই কোলা বর্জন করুন। আর ঘুমানোর সময়ের অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে কফি পান বন্ধ করুন। তার চেয়ে বরং বেশি বেশি পানি খান।
৫. বিছানা মানেই ঘুম। বিছানায় বসে যারা পড়ালেখা বা অন্যান্য কাজ করেন, “বিছানা মানেই ঘুম”- এ বার্তাটা তাদের মস্তিষ্ক কম পায়। ফলে দেখা যায়, সহজে তাদের ঘুম আসে না।

বিছানায় বসে তাই পড়ালেখা বা ল্যাপটপে কাজ ইত্যাদি না করাই ভালো। ঘুমোতে যাবার আগে বিছানাটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। আরামদায়ক কিছু পরুন। অভ্যাস থাকলে ঘুমের আগে গোসলও করে নিতে পারেন।

ঘরটা প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভালো এবং এমন যাতে দিনের আলো ঢোকে এবং রাত থাকে অন্ধকার।

স্লিপ থেরাপিস্টরা বলেন, শোবার ২০ মিনিটের মধ্যে যদি আপনার ঘুম না আসে তাহলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন এবং অন্য কিছু করুন। সেটা হাঁটাহাঁটি হতে পারে বা হালকা মেজাজের কিছু পড়া হতে পারে। অর্থাৎ যতক্ষণ না আপনার শরীর-মন ঘুমের জন্য তৈরি হচ্ছে।
৬. শরীরকে ক্লান্ত হতে দিন। যারা হোম অফিস করছেন বা শিক্ষার্থীরা যারা ঘরে বসে আছেন বা যারা বাইরে বেরুচ্ছেন কম, তাদের বেশিরভাগ সময়ই কাটছে ঘরে শুয়ে-বসে। ফলে তাদের শরীর ক্লান্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কম। আর শরীর ক্লান্ত না হলে ঘুম আসবে না।

তাই দিনের বেলায় বিছানায় গড়াগড়ি যত না করেন তত ভালো। ঘরে শারিরীকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। অন্তত আধঘণ্টা বাইরে সূর্যের আলোতে হাঁটুন। ইয়োগা বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। তবে ঘুমানোর অন্তত ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যে নয়।
৭. কিছু খাবার যা ঘুমের জন্যে সহায়ক। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা কিছু খাবারে এমন কিছু উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন যা ঘুমের জন্যে সহায়ক মেলাটনিন হরমোন নিঃসরণে সহযোগিতা করে। যেমন : কাঠবাদাম ও অন্যান্য বাদাম, কলা, দুধ, ওটমিল, ফ্যাটি ফিশ ইত্যাদি।

এছাড়া পেঁয়াজ, রসুন, সয়াবিন এসবকে বলা হয় প্রিবায়োটিক বা দেহের উপকারি ব্যাকটেরিয়ার খাবার, যাকে ঘুমের জন্যে সহায়ক বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

৮. দমচর্চা ও মেডিটেশন। প্রাণায়াম বা দমচর্চা দেহকে রিল্যাক্স করে। আর মেডিটেশন তো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রমাণিত কার্যকর প্রক্রিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে ইনসমনিয়ায় ভোগারা মেডিটেশন করার পর তার সমস্যা ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে গেছে।

তবে অনিদ্রার কারণ মানসিক অসুস্থতাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

এন-কে

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।