খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্টারনেটের গতিতে ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫ নম্বরে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেটের গতিতে ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫ নম্বরে বাংলাদেশ

ইন্টারনেটের গতিতে ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫ নম্বরে বাংলাদেশ

মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গতবারের মতো এবারও বাংলাদেশ ১৩৫ নম্বরে। তবে গত প্রতিবেদনে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম ছিল, আর এবার ১৩৯টি দেশের মধ্যে। বিশ্বের নানা দেশের গড় ইন্টারনেট গতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে ওকলা নামের প্রতিষ্ঠান। এক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী মাসের মাঝামাঝি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ইন্টারনেটের এই দুর্বল গতির জন্য স্পেকট্রামের স্বল্পতা আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করছে মোবাইল অপারেটররা। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে তারা এই দাবি করেন।

গত জুলাইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছিল সেকেন্ডে ১২ দশমিক ৬ মেগাবিট (এমবিপিএস), যা আগের মাসের (১২ দশমিক ৪৮ এমবিপিএস) চেয়ে সামান্য বেশি। আপলোডের গড় গতি অবশ্য কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে ৭ দশমিক ৬৫ এমবিপিএস ছিল, আর জুনে ছিল ৭ দশমিক ৯৮ এমবিপিএস। ওকলার মোবাইল ইন্টারনেট গতির তালিকায় বাংলাদেশের পর আছে আর চারটি দেশ। জিম্বাবুয়ে, ফিলিস্তিন, ভেনেজুয়েলা ও আফগানিস্তান। আফগানিস্তান গত প্রতিবেদনে ১৩৭টি দেশে ১৩৭তম ছিল। নতুন প্রতিবেদনেও সবশেষে ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৯তম অবস্থানে। বাংলাদেশের সামনে থাকা চারটি দেশ হলো সোমালিয়া ১৩৪তম, ঘানা ১৩৩তম, তানজানিয়া ১৩২তম ও সুদান ১৩১তম।

ওকলার প্রতিবেদনে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতির তালিকায় শীর্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে জুলাইয়ে ডাউনলোডের গতি ছিল ১৯০ এমবিপিএস। আর আপলোডের গতি ছিল ২৬ দশমিক ৫৪ এমবিপিএস। অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডের তালিকায় শীর্ষ দেশ মোনাকো। দেশটির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতি ২৫৬ দশমিক ৭ এমবিপিএস এবং আপলোডের গড় গতি ছিল ১৫৬ এমবিপিএসের সামান্য বেশি। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতির বৈশ্বিক গড় যথাক্রমে ৫৫ দশমিক শূন্য ৭ এবং ১০৭ দশমিক ৫ এমবিপিএস।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, জুন মাস শেষে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯ লাখে। একই হিসাবে ব্রডব্যান্ডের গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটির কিছু বেশি।

এদিকে মোবাইল ফোন-সেবার মান নিয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শীর্ষ তিনটি অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর আগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হোসাইন সাদাত বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে অপারেটররা গতানুগতিকভাবে স্পেকট্রাম স্বল্পতার অভিযোগ তোলেন। স্পেকট্রাম নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বিটিআরসিকে দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে অপারেটরদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিটিআরসিকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন অপারেটররা।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অব্যবহূত মোবাইল ডাটা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। উপজেলা পর্যায়ে নেটওয়ার্কের অবস্থা খুবই দুর্বল। তাছাড়া কিছু কিছু এলাকায় এখনো নেটওয়ার্ক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। কল সেন্টারের সেবার মানও নাজুক। অনেক সময় সমস্যার কথা বলতেই তিন থেকে চার মিনিট চলে যায়। এর পরও সমস্যার সমাধান নিয়ে মনমতো উত্তর পাওয়া যায় না। অপারেটরদের পক্ষ থেকে গতানুগতিক উত্তর দেওয়া হলেও কবে নাগাদ ভালো সেবা মিলতে পারে, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এন-কে

Feb2

দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

বল দখল থেকে আক্রমণ– সবদিক থেকেই অনেকটা একপেশে দাপট ছিল ২৪ বছর পর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতায় তাদের গোলটাই পাওয়া হয়নি। অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকে ক্যারিশমা দেখিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৭২ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তুরস্কের। আর গোলের লক্ষ্যে নেয় ৮টি শট। বিপরীতে স্রেফ ২ শট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান সকারুজরা কেমন চাপে ছিল তা বোঝাই যায়। কিন্তু ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফের গোলে সেসব পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য তুরস্কের আক্রমণ ঠেকানোর মূল ভূমিকায় ছিলেন ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। তিনি আটটি সেভ করেন। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। বিপরীতে, ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর তুরস্ক টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। এবার প্লে-অফে কসোভোকে হারিয়ে তারা ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৭তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন ইরানকুন্ডা। তিনজন ডিফেন্ডারের চাপের মাঝেও নিচু শটে তিনি বল জালে পাঠান। গোল উদযাপনের সময় ইরানকুন্ডা কর্নার ফ্ল্যাগে ঘুষি মেরে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি টিম কাহিলকে শ্রদ্ধা জানান। ২০ বছর বয়সী এই ওয়াটফোর্ড ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়।

কয়েক মিনিট পর তুরস্কের আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বিচ। কোচ টনি পপোভিচের চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানের পরিবর্তে বিচ অস্ট্রেলিয়ার গোলপোস্টের দায়িত্ব পান। তুরস্কের ২১ বছর বয়সী জুভেন্তাস খেলোয়াড় কেনান ইলদিজ শুরুর একাদশে ছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামানো হয় তাকে।

ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে তুরস্ক একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়। রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিভাবান ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরদা গুলারের নেওয়া সেই শটও রুখে দেন বিচ। মজার বিষয়, তুরস্ক সর্বশেষ যখন বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন গুলারের জন্মই হয়নি। এদিকে, ৭৫তম মিনিটে ইসমাইল ইউকসেকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফ।

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এরপর গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও ডেনমার্ককে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল তারা। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি গ্রামে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তান। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন– ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন ছিল। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সময় আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।’

আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।

রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনে তাগিদ দিয়ে আসছে। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উত্সাহিত করাই বিশ্ব রক্তদান দিবসের উদ্দেশ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

রক্ত মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো।