চলতি বছরও হোম অফিস করবেন অ্যাপলের কর্মীরা
করোনার কারণে বিশ্বের শীর্ষ টেক জায়ান্টগুলো বাসায় থেকে কর্মীদের অফিসের সব কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। গুগল, অ্যাপল, আমাজনের কর্মীরা ২০২০ সাল থেকেই বাসায় বসে অফিসের কাজ করছেন। চলতি বছরও বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় এবছরও অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসায় থেকেই অফিস করতে বলেছেন।
আগামী বছরের আগে কর্মীদের অফিসে ফেরত আনছে না প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানি থেকে সব কর্মীকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় বলে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের জানায়, অফিসে আনার পরিকল্পনা করা হলে কর্মীদের এক মাস আগেই বিষয়টি জানানো হবে। এ ছাড়া সব কর্মীকে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপল। মূলত, করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল।
প্রথমে অ্যাপল চেয়েছিল, এই সেপ্টেম্বরে কর্মীদের অফিসে ফিরিয়ে আনবে, পরে তা অক্টোবর করা হয়। এখন অ্যাপল বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারির আগে কর্মীদের অফিসে আনার কোন পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে যখন কর্মীরা ফিরবেন, তাদের সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন অফিসে এসে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল।
ওয়ার্ক ফ্রম হোমে থাকা কর্মীদের জন্য কোভিড পরীক্ষার সময়ও সপ্তাহে তিন দিন নির্ধারণ করে দিয়েছে অ্যাপল। এ ছাড়া অ্যাপল জানিয়েছে, অফিস বা খুচরা দোকান বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রির দোকানগুলো কয়েক ঘণ্টা কম খোলা রাখবে অ্যাপল।
এর আগে ই–কমার্স জায়ান্ট আমাজন, গুগল, ফেসবুক ও টুইটারও জানিয়েছে, তারা কর্মীদের অফিসে ফেরানোর তারিখ পিছিয়ে দেবে। এর মধ্যে গুগল ও ফেসবুক কর্মীদের দুই ডোজ করোনার টিকা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে আমাজন জানিয়েছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের অফিসে আসতে হবে না। গুগল জানিয়েছে, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মীদের অফিসে আনবেন না তারা। টুইটারও এত জলদি কর্মী আনবে না কার্যালয়ে।
তবে কার্যালয়গুলো যখনই কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে, কর্মীরা করোনার টিকা নিয়েছেন, ভ্যাক্সিনেশন কার্ড নিয়েই কার্যালয়ে আসতে হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে গুগল জানায়, অফিস খোলার পরও যারা স্থায়ীভাবে বাড়িতে থেকে অফিস করবেন, তাদের বেতন কাটা হবে। বেতন কাটা হবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও সিলিকন ভ্যালির অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই কর্মীদের হোম অফিস করার নির্দেশ দিয়েছে। খুব শিগগিরই খুলছে না সেসব অফিসও।
টিকাদান কর্মসূচি যতো সম্প্রসারিত হবে, নিষেধাজ্ঞা তত শিথিল হতে থাকবে। কর্মীরা হোম অফিস করলেও করোনার মধ্যেও টেক জায়ান্টগুলো মুনাফার তুঙ্গে।
এমজে


আপনার মতামত লিখুন