খুঁজুন
, ,

তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে হটলাইন ‘৩৩৩’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 25 August, 2021, 4:05 pm
তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে হটলাইন ‘৩৩৩’

ফরিদা হকের বয়স ৭২ বছর। হঠাৎ করে তার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে দাঁড়ায়। প্রচন্ড এই জ্বরের সঙ্গে আবার হালকা কাশি এবং মাথাব্যথা। এমন অবস্থায় একমাত্র মেয়ে রুমা তার বিধবা মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ চিন্তিত।

কলেজ ছাত্রী রুমা ধারণা হয় যে তার মায়েরও হয়তো অনেকের মতো কোভিড-১৯ এর লক্ষণ বিদ্যমান। সেটাই তার উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে দ্রুত এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চান।

বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দেশব্যাপী লকডাউন দেয়া হয়েছিল। এসময় হাসপাতালগুলোতেও ছিল প্রচন্ড ভিড়। সেখানে রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল। তখন হাসপাতালগুলোতে ক্তারী সেবা অতটা সহজলভ্য ছিল না। এছাড়া, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিতো রয়েছেই।

‘তারিখটা ছিল ২০২১ সালের ২৬ জুলাই। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা ২৩ মিনিট। আমি ‘৩৩৩’ কল সেন্টারে ফোন দিয়ে একটু অভিভূতই হলাম। প্রথমবারের চেষ্টাতেই ফোনে সংযোগ পেলাম। কল সেন্টারের একজন এজেন্ট আমার লাইনটি ‘ডাক্তার পুল বিডি’র একজন নিবন্ধিত চিকিৎসককে ধরিয়ে দিলেন। আমার মায়ের কথা তাকে জানালাম। ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনলেন এবং ওষুধ লিখে দিলেন,’ সম্প্রতি গণামাধ্যমকে এমনটাই বললেন রুমা।

পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মৌকরণ গ্রামের বাসিন্দা রুমা সন্তুষ্টির সুরে জানালেন, সব শুনে ডাক্তার অবশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে আমার মা সম্ভবত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হননি। ফলে, তিনি তাকে জ্বরের জন্য ওষুধ লিখে দিয়ে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরামর্শ দিলেন।

‘ডাক্তার বললেন, আমার মা যদি আরও কোন জটিলতার মুখোমুখি হয় তাহলে যেন আবার ’৩৩৩’ এ ডায়াল করি। কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি আমাকে প্রেসক্রিপশন পাঠালেন,’ বললেন রুমা। তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে তার মায়ের অবস্থার উন্নতি হয়।

‘টেলিমেডিসিন পরিষেবা খুবই সহায়ক,’ উল্লেখ করে রুমা বলেন, প্রয়োজন হলে সবারই এই চিকিৎসা পরামর্শের সেবাটি গ্রহণ করা উচিত।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সাফিউল ইসলামকে তার বাবাকে নিয়ে প্রায় একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তার ৭০ বছর বয়সী বাবা একজন ডায়াবেটিস রোগী। তিনি দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন।

‘জ্বর এবং হাত-পায়ে জয়েন্টে ব্যথা। বাবার অসুস্থতা দেখে আমি সত্যিই অসহায় বোধ করছিলাম। বিষয়টা বন্ধু রবিনকে জানালাম। সে আমাকে টেলিমেডিসিন সেবা পেতে ’৩৩৩’ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেয়। কারণ, কোনো হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা নেয়া খুবই কঠিন ছিল,’ বলেন সাফিউল।

হটলাইনে একজন মহিলা ডাক্তারের সাথে সংযোগ পেলেন। তাকে বাবার স্বাস্থ্যের অবস্থা বর্ণনা করলেন। ডাক্তার সমস্যা শুনলেন। তার পর বাবার জন্য কিছু ওষুধের নাম লিখতে বললেন। তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু সঠিকভাবে করেছি। আল্লাহর রহমতে আট দিনেই বাবা অনেকটা সুস্থ হলেন।’

‘৩৩৩’ হলো একটি জনসেবা হটলাইন যা ‘জাতীয় হেল্পলাইন’ নামেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি মন্ত্রনালয়ের এট্আুই প্রোগ্রাম দ্বারা পরিচালিত। এর লক্ষ্য হচ্ছে জনসেবা গ্রহণের পদ্ধতি এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় তথ্য প্রচার করা। এটি তৈরি করা হয়েছিল কোভিড-১৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাডাতে এবং বাড়িতে বসেই সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য। শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত চিকিৎসকরাই এখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি কথা হলো বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জন ডাক্তার মনিরুজ্জামান খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক রোগীকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়েছি, তাদের বেশিরভাগই ছির করোনা রোগী।’

‘একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে, আমি সরাসরি এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা দান করে মানুষকে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করি,’ দু’বার করোনায় আক্রান্ত এই চিকিৎসক যোগ করলেন।

ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের একজন ডা. পলাশ কুমার রায় এখন রংপুর সিটি কর্পোরেশনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১১,৬০০ এর অধিক মানুষকে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন।

‘একজন ইতালীয়, যিনি বাংলাদেশে একটি প্রকল্পে কাজ করেন, তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ‘৩৩৩’ হটলাইনে কল করেন। আমি তাকে চিকিৎসা সেবা দেই,’ তিনি বলেন।

ডাক্তার পলাশ উল্লেখ করেন, ‘তিনি ১৪ দিন পর আবার ফোন করলেন। ভাগ্যক্রমে, আমিই ফোন কলটি রিসিভ করেছিলাম। তার পরিচয় পেয়ে, আমি তাকে বললাম যে আমি তাকে আগের চিকিৎসা দিয়েছি। রোগি জানালেন, তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।’

এটুআই এর’টেলিমেডিসিন সেবা’র জাতীয় পরামর্শক হয়ে কাজ করছেন দিদার-ই-কিবরিয়া।

তিনি জানালেন, যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিল, অর্থাৎ গত বছর এপ্রিলে দেশব্যাপী লকডাউন ছিল, সেই সময় কেউ এই নতুন মহামারী মোকাবেলা করতে প্রস্তুত ছিল না। তখন থেকে, বিএমডিসিতে নিবন্ধিত প্রায় ৪৫০০ ডাক্তার অবসর সময়ে ফোনে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার কাজটি করে যাচ্ছেন। এজন্য যোগ্য চিকিৎসকদেরকে অবশ্য এটুআই, মুক্তপাঠ এবং টেলিমেডিসিন পরিষেবা দ্বারা বিকশিত জাতীয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোভিট-১৯ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স সম্পন্ন করতে হয়েছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:12 pm
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল, সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে একই সময়ে শুরু হতে যাওয়া এ জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তাই এর সফল আয়োজনের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন সফল করতে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়কের যেসব স্থানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, চসিকের পক্ষ থেকে সেসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখ ও অন্যান্য স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যেসব কাজ প্রয়োজন, সেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। লালখান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুলের গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল স্ট্রাকচার ও অন্যান্য স্থাপনা দ্রুত অপসারণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও সড়কের ওপর থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মেয়র বলেন, এটি শিশু কিশোর ও তরুণদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। তাই প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে ক্রীড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চসিক, সিডিএ, শিক্ষা বিভাগ, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:09 pm
অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম আয়োজিত  সুফী কনফারেন্স আগামী আগস্ট মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে, এ উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতি সভা সংগঠনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মুহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস এম বরকত আকাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা, হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে একটি গোলটেবিল আলোচনা ও আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে সুফী কনফারেন্সের বিভিন্ন দিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়।

বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 9:14 pm
বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ দিয়ে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত।

বুধবার আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার রোডে বৃক্ষায়নের এ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন মেয়র। এসময় বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় সার্বিক সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করেন৷

এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর রোডকে বিভিন্ন রঙ্গিন ফুল দিয়ে রাঙানো হয়েছে৷ দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজারে লাগানো হছে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে। আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কিন্তু এসব সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।