খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবহেলিত মানসিক স্বাস্থ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
অবহেলিত মানসিক স্বাস্থ্য

মানসিক সুস্বাস্থ্য বিষয়ে বলার আগে প্রথমে দেখি মন কী? মনের শক্তির উৎস কোথায়? কারণ মনকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মনকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে পারেননি। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন মন মানুষের সকল শক্তির উৎস। মনের এই শক্তি রহস্যকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারলেই এই শক্তিকে আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবো। মানুষের শক্তির আসল উৎস দেহ নয়, চেতনা। দেহ হচ্ছে চেতনার বসবাস। আর মনের শক্তি এই চেতনারই একটা রূপমাত্র।

মনকে সুস্থ রাখতে পারলে সাফল্যের সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অর্থাৎ মানসিক সুস্থ্যতা তো সকল কিছুরই উৎস। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা লক্ষ্য দ্বারাই মন নিয়ন্ত্রিত, আর মস্তিষ্ক পরিচালিত হয়। দৃষ্টিভঙ্গি আবার দু’ধরনের। ইতিবাচক ও নেতিবাচক। আত্মবিকাশী বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই মানসিক সুস্থতা। আবার আত্মবিনাশী বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই মানসিক অসুস্থতা।

অবিশ্বাস্য হলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের চিন্তা জগতের শতকরা ৭০-৮০ ভাগই দখল করে রাখে রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, দুঃখ, অনুতাপ, অনুশোচনা, কুচিন্তা, বিষণ্নতা, হতাশা ও নেতিবাচক চিন্তারুপী আত্মবিনাশী ভাবনা। এসব থেকেই মানুষ ক্রমান্বয়ে মানসিক অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আবার আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে উল্টে দিতে পারি অর্থাৎ ৭০-৮০ শতাংশ চিন্তাকেই আত্মবিকাশী বা ইতিবাচক চিন্তায় পরিণত করতে পারি তাহলেই মানসিক সুস্থতা আসবে। বিজ্ঞানীরা বলেন মানসিক সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন নিজের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ নিজের মনের চালক বা দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ইতিবাচক চিন্তাকে ৭০ ভাগে উন্নীত করতে পারলে নেতিবাচক চিন্তা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাবে।

মানুষের শক্তির উৎস দুটি। এক, দৈহিক শক্তি। দুই, মানসিক শক্তি। দৈহিক শক্তি সসীম, কিন্তু মনের শক্তি অসীম। দেহের পক্ষে অসম্ভব এমন প্রতিটি কাজ মন করে যেতে পারে অবলীলায়। কঠিন পর্বতমালার মধ্যে সে যেমন অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে, তেমনি পারে পরমাণুর মাঝেও ঢুকে পড়তে। অতল সাগরের তলদেশে মন যেমন মুহূর্তে ডুব দিতে পারে তেমনি মহাবিশ্বের দূরতম গ্যালাক্সি পরিভ্রমণ করে আসতেও তার সময় লাগে না। দেহের অবস্থান স্থান-কালে সীমাবদ্ধ হলেও স্থান-কালের কোনো বেষ্টনী দিয়েই মনকে আবদ্ধ করা যায় না। অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎকালের যে-কোনো স্তরে মন অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারে। দেহের ক্লান্তি আছে, কিন্তু মনের কোনো ক্লান্তি নেই। দেহের নিষ্ক্রিয় বিশ্রামের প্রয়োজন আছে, কিন্তু মনের কোনো নিষ্ক্রিয় বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। দেহ যখন নিদ্রায় অচেতন থাকে, মন তখনো থাকে সজাগ, সচেতন।

আমাদের সকল সচেতনতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মন। শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যা কিছুই আমরা এখন বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি তার সবকিছুর ধারণাই প্রথম এসেছে মনে। সুস্থ, সুন্দর মনের ধারণার বীজই পরবর্তীতে পত্র-পুষ্পে প্রস্ফুটিত হয়ে বাস্তব রূপ নিয়েছে।

আমরা জানি, মস্তিষ্ককে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন সুসংহত মানসিক প্রস্তুতি। আর সুসংহত মানসিক প্রস্তুতির ভিত্তি হচ্ছে যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি। আর যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের পথে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে মনের সুস্থ শক্তি ও তৎপরতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোনো শক্তিকেই নিজের বা মানুষের কল্যাণে লাগানো যায় না। আগুনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার ওপরই নির্ভর করে তা সভ্যতা গড়ার কাজে লাগবে, না তা সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেবে। যে পারমাণবিক শক্তি হিরোশিমা-নাগাসাকিতে মুহূর্তে প্রলয় ঘটিয়েছিল, সে শক্তির নিয়ন্ত্রিত ও সৃজনশীল প্রয়োগই বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে ঘটিয়েছে বিপ্লব। নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেহাত জড় পদার্থও পরিণত হতে পারে শক্তিতে, শক্তি পরিণত হতে পারে মহাশক্তিতে।

প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষেত্রে এ নিয়ম যেমন স্বতঃসিদ্ধ তেমনি মানুষের ক্ষেত্রে তা সমভাবে প্রযোজ্য। মানুষের অসীম শক্তিকে ব্যক্তি বা মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করার পন্থাও এই একটিই-শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীল প্রয়োগ।

প্রবাদ আছে, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। মানুষ নিজেকে যা ভাবতে পারে, একসময় তাই করতে পারে। আত্মবিকাশি চিন্তা, ইতিবাচক চিন্তা প্রয়োজন মানসিক ভালো থাকা, সাফ্যলতার জন্য, সুন্দর সুখী জীবনের জন্য। সুস্বাস্থ্যই জীবন। আর সুস্বাস্থ্য মানেই মানসিক, শারীরিক, আত্মিক সুস্থ্যতা।

আগেই বলেছি, মানসিক সুস্থ্যতার ভিত্তি হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি, লক্ষ্য বা অভিপ্রায়। মন পরিচালিত হয় দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য বা অভিপ্রায় দিয়েই। আর মস্তিষ্ককে চালায় মন। বিজ্ঞানীরা বলেন, একজন প্রোগ্রামার যেভাবে কম্পিউটারকে পরিচালিত করে, তেমনি মন মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আমরা একেবারেই অসচেতন। আমরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে শরীরের যত্ন নেই, চিকিৎসা করি কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে থাকি একেবারেই উদাসীন। মানসিক সুস্থ্যতা বা মানসিক শক্তি দিয়ে মানুষ দৈহিক পঙ্গুত্বকেও উপহাস করতে পারে। তার অনেক প্রমাণ আছে। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং লিখতে বা কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু বিশেষ কম্পিউটারের সাহায্যে বিজ্ঞান জগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মানুষের অসীম শক্তি ও সম্ভাবনাকে সবসময় শৃঙ্খলিত ও পঙ্গু করে রাখে সংস্কার ও ভ্রান্ত বিলাস ও নেতিবাচক ভাবনা। অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও একজন মানুষ পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে প্রচলিত ধারণার শৃঙ্খলে সে ক্রমান্বয়ে বন্দি হয়ে পড়ে। পরিবেশ যা তাকে ভাবতে শেখায় সে তাই ভাবে, যা করতে বলে তাই করে।

সমাজের ভ্রান্ত বিলাস নেতিবাচক চিন্তা, কুসংস্কার ত্যাগ করা সহজ নয়। হাজার বছরের কুসংস্কার আমাদের জীবনের গহীনে গেথে গেছে। কখনো কখনো এসব ভাবনাকে নেতিবাচক চিন্তাকে আমরা নিয়তি হিসেবে নিয়ে থাকি। বিজ্ঞান বা ধর্মের প্রবল বিশ্বাসের কথা বলে থাকলেও জীবনে অনুসরণ করি অবৈজ্ঞানিক বা কু-ধর্মীয় চিন্তাধারা।

মানসিক রোগ ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার থেকে সহজে বেরিয়ে আসার তেমন কোন সহজ পথ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এখানে একটা উদাহরণ দেই- আমরা যে কোন ধরনের হৃদরোগীদের প্রচলিত চিকিৎসা দিয়ে থাকি এনজিও প্লাস্টি বা বাইপাস বা প্রচলিত ওষুধ। আমরা জানি হৃদরোগ শুধু খাওয়া, খারাপ অভ্যাসের কারণে হয় না মানসিক চাপ বা টেনশন থেকেও হতে পারে। এখন একজন স্ত্রীর বা অফিমের বসের সাথে মানসিক বিরোধ বা ঝগড়ার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন। প্রচলিত চিকিৎসা করে সাময়িক সুস্থ্ হলেন, কিন্তু আবারও ফিরে সে বিরোধ শুরু হলো। এখন এটাকে কী বলবেন? অর্থাৎ মানসিক বা শারীরিক চিকিৎসা দিতে হবে সবকিছু বুঝে বিশ্লেষণ করে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত।

আমাদের চিকিৎসক, শিক্ষক বা গণমাধ্যম কর্মিরা ও মানসিক স্বাস্থ নিয়ে যথাযত ভাবে সচেতন বা অবগত নন। মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে সর্বসাধারণের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরও গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা দরকার। অধ্যাপক এম.ইউ আহমেদের ন্যায় মন চিকিৎসকদের উদ্যোগ দরকার। যাদের গবেষণা, লেখালেখি, কথাকে রাষ্ট্র গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা প্রচলিত ওষুধে হবে না। মনের চিকিৎসা বা মনের নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই মানসিক চিকিৎসা এটা সর্বসাধারণকেও বোঝাতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈহিক স্বাস্থ্য যে ভিন্ন বিষয় এ বিষয়ে গণমাধ্যম জানলেও সেটা তেমন পরিলক্ষিত হয় না। অর্থাৎ প্রচলিতভাবে সবার ন্যায় গণমাধ্যমও একইভাবে ঢালাও বিবেচনা করে থাকে। সেটা প্রতিদিনের সংবাদ বা প্রকিাশিত ফিচার দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের অধিকাংশ সংবাদপত্র বা টেলিভিশন, অনলাইনে স্বাস্থ্যপাতা বা বিভাগ থাকলে সেখানে প্রকাশিত অধিকাংশ লেখাই দেহ রোগের চিকিৎসা নিয়ে। খুব অল্প কিছু লেখা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। আমরা শুধু গণমাধ্যমের কথা বলছি কেন, অধিকাংশ চিকিৎসকেরাও মানসিক স্বাস্থ্যকে তেমন আমলে নেননা।

বিজ্ঞানীরা মনকে ভাগ করেছেন তিন ভাগে। সচেতন, অবচেতন এবং অচেতন। সচেতন মন সবকিছুকেই নিজের ধারণা, যুক্তি ও বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিচার-বিবেচনা করে। কিন্তু অবচেতন মন ভালো-মন্দ কোনোকিছুই বিচার করার চেষ্টা করে না। সে যে তথ্য, পরিকল্পনা বা আইডিয়া পায়, সেভাবেই প্রভাবিত হয়ে কাজ শুরু করে দেয়। প্রভাবটা আপনার জন্যে ভালো হোক বা ক্ষতিকর সে বিবেচনা করে না। ভয়, ক্রোধ বা বিশ্বাস দ্বারা গভীরভাবে তাড়িত হলে যে-কোনো ধরনের প্রভাবে অবচেতন মন সহজেই সাড়া দেয়।

মনের অবচেতন অংশ আবার সচেতন অংশের কথা সহজেই শোনে। ভয়, সীমাবদ্ধতা বা ভুল বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে সচেতন মন সবসময় অবচেতন মনের দরজা বন্ধ করে রাখতে চায়। অথচ প্রজ্ঞার সাথে সচেতন মনের যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে অবচেতন মন। কারণ সচেতন ও অচেতন মনের মাঝখানেই অবস্থান করছে অবচেতন মন।

বিজ্ঞানীরা যাকে মনের অচেতন অংশ বলে মনে করেন, সাধকরা সেটাকেই মনে করেন মনের মহাচেতন অংশ। শুধুমাত্র অবচেতন ও অচেতনের মাঝখানের দরজা খুলতে পারলেই সচেতন মন প্রজ্ঞা বা মহাচৈতন্যের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়।

আমরা আগেই জেনেছি- অবচেতন মন ভালো-মন্দ বিচার বিবেচনা করতে পারে না। আর অবচেতন মন আলাদীনের দৈত্যের মতো কখনো অলস বসে থাকতে পারে না। তার চাই কাজ। সুস্থ মনকে যদি নিজের কল্যাণে ইচ্ছানুসারে ব্যস্ত না রাখেন তাহলে সে আপনার পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই কাজের কাঁচামাল হবে আপনার ভয়, ভীতি, অপছন্দনীয় ও অবাঞ্ছিত বিষয়সমূহ। খারাপ বা ভালো যে বিষয় সে পাক না কেন অবচেতন মন সে চিন্তাকে যুক্তিসঙ্গত পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এন-কে

Feb2

কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, গণমুখী কবিয়াল জনক রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী ০৯ মে ২০২৬ ইং (২৬ শে বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা) এই মহান আধ্যাত্মিক সাধকের জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কবিয়াল রমেশ স্মৃতি ট্রাস্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক মানস চৌধুরী।

সভা সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ বাবু কাজল শীল। সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি। এছাড়াও বক্তব্য দেন সদস্য রমেশ পরিবারের সদস্য এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটন এবং প্রকৌশলী রানা শীল মাইকেল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রমেশ স্মৃতি ট্রাস্ট পরিবারের উত্তরাধিকারী পিকলু সরকার, রণধির শীল, সুব্রত সরকার টার্জেন, সমর শীল ওপেলসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এতে এডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটনকে আহ্বায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার রানা শীল মাইকেলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন রমেশ পরিবারের চিত্ত রঞ্জন শীল, কল্পতরু শীল, দুলাল শীল, সুলাল শীল, নেপাল শীল, পিকলু সরকার, সুব্রত সরকার, রণধির শীল, রুপাল শীল, জুয়েল শীল, রাইনেল শীল, সমর শীল, প্রণব চৌধুরী রঞ্জন, তম্ময় শীল, লিংকন চৌধুরী, টিকলু সরকার, শিক্ষক/সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি ও রমেশ ভক্ত বিজয় শীল, জিকু শীল।

উল্লেখ্য : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার, ১৯৪৮ সালে “বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল” উপাধিপ্রাপ্ত এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল রমেশ শীল বাংলা লোকসংস্কৃতি ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে অনন্য অবদান রেখে গেছেন তার মহা কর্মযজ্ঞের কিছুটা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত রমেশ রচনাবলী বইয়ের মধ্যে।

আসন্ন জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত এই আহ্বায়ক কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কবিয়াল রমেশ শীলের জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে সভায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি : রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রীর শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, সরকার পরিবেশের ক্ষতি করে, চট্টগ্রামবাসীকে অস্থিরতার মধ্যে রেখে, ঝুঁকির মধ্যে রেখে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। তবে যেভাবে ক্ষতি ভাবা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তা না। তার চেয়ে আরও বেশি জনবান্ধব, আরও বেশি চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন। সেগুলো বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান রেলমন্ত্রী।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি যেটি জেনেছি, আগের সরকার সিআরবিতে একটি প্রকল্পের জন্য চুক্তি করেছিল। তাদের সঙ্গে সমাধানে যেতে হবে। সম্ভাব্য কি সমাধান হতে পারে, তা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তবে কী সমাধান হচ্ছে বা সরকার এখানে হসপিটাল প্রতিষ্ঠিত করবে কি-না, করলে কী প্রক্রিয়ায় করবে সিটি নিয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই।

এসময় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সিআরবির বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করেন।

কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে চলছে জ্বালানি সংকট। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাস-ট্রাকের জ্বালানি ‘ডিজেল’-এর মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে যাবে বিভিন্ন পরিবহনের। এ অবস্থায় বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা আজ রোববারের (১৯ এপ্রিল) মধ্যেই ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বেশি ছিল। পরে সেটি বেশ কয়েকবার সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা।

ওই সময় সার্বিক বিবেচনায় তৎকালীন পরিবহন নেতারা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। সরকার সেটি আমলে না নিয়ে দূরপাল্লার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করে সেটি কমিয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।

বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের

শনিবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন নেতারা রোববারের মধ্যেই ভাড়া বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা সরকারকে শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনায় না নিয়ে সার্বিক বিষয় চিন্তা করে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক বলেন, বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দেশে শুধুমাত্র তেলের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে, অন্য খরচগুলোর বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়ার সমন্বয় সাধারণত করা হয় না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালে যে চাকার জোড়া ৫০ হাজার টাকায় কেনা যেত, ২০২৬ সালে সেটির দাম বেড়ে ৭৪ থেকে ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দামও দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। যেমন ১০ টাকার কোনো যন্ত্রাংশ এখন ২০-২৩ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আবার যেসব যন্ত্রাংশ আগে ১২০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম বেড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সার্বিকভাবে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না

মো. সাইফুল আলম, মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

গাড়ির মূল্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে এই বাস মালিক বলেন, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিসের দাম ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা এবং বডি তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ১১ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই একই চেসিসের দাম বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা এবং বডি তৈরির খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ শুধু এই দুই খাতেই মোট খরচ বেড়েছে প্রায় ২০-২১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে কিস্তির চাপ আরও বেড়েছে মালিকদের ওপর।

কত টাকা ভাড়া বাড়ানো যায়— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০২২ সালে জ্বালানির দাম বাড়ার পর সরকার ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রথমে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সমন্বয় করে ২ টাকা ১২ পয়সায় স্থির করা হয়। সেই সময় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা প্রস্তাব করা হলেও তা গৃহীত হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ভাড়ার আর কোনো সমন্বয় হয়নি, যদিও খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েই গেছে। এবার অন্তত কিলোমিটার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা না হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না।

তবে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, আমরা দায়িত্বে আসার পর ও ডলারের দাম বাড়ার পর ৩ টাকা ৭৫ পয়সার প্রস্তাব কমিটির কাছে দিয়ে রেখেছি। সেটি তেলের জন্য দেওয়া হয়নি, স্পেয়ার্স পার্সে ডলার মূল্য সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেটিসহ তেলের দাম বাড়ার জন্য আমরা ৪ টাকা ৫ পয়সা এবার প্রস্তাব করবো। আমরা মিনিস্ট্রিতে আজকে যোগাযোগ করে ফরমাল মিটিং হোক, ইনফরমাল মিটিং হোক করবো। কারণ আমাদের আজকে এখনো পর্যন্ত বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেইনি।

সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম রোববার দুপুরে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।

জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে

মো. হাদিউজ্জামান, অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বুয়েট

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, তারা প্রস্তাব করেছে ঠিক আছে। প্রস্তাব করা মানেই এটা চূড়ান্ত না। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণের কমিটি আছে। আমি বলবো, এই কমিটিতে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। প্রতিটি খাত ধরে ধরে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদেরও অনেকগুলো খাতে চাপের মধ্যে পড়তে হবে। জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে। আমি বললাম, প্রস্তাবটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। আলোচনা করে সেখানে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যেসব খাতের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব ক্ষেত্রে তো আসলে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।