খুঁজুন
, ,

মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ পাঁচ, ‘আতঙ্কে’ একজনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 November, 2021, 10:44 am
মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ পাঁচ, ‘আতঙ্কে’ একজনের মৃত্যু

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংতার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ককটেল বিস্ফোরণের সময় ‘আতঙ্কে’ এক ব্যক্তি মারা গেছেন। যদিও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইউনিয়নের খাসকান্দি ও ছোট মোল্লাকান্দি এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ওপর স্বতন্ত্র প্রার্থীর (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) সমর্থকরা হামলা, গুলি চালায়। পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

‘আতঙ্কে’ মৃত্যুবরণকারী আব্দুল হক (৪৫) ওই এলাকারই বাসিন্দা এবং মঞ্জিল হকের ছেলে। গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এবং দুজনকে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা সবাই নৌকার সমর্থক বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল হক ককটেল বিস্ফোরণের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান সুমন দেব।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরকেওয়ার ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামান জীবনের সমর্থকরা আওয়ামী লীগের আফসার উদ্দিন ভূঁইয়ার সমর্থকদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। হামলায় নৌকা প্রতীকের সমর্থক শরীফ, সাইফুল, নাজমুল, বাবু হালদার, মনির ও রমজান গুলিবিদ্ধ হন।

তবে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামান জীবনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, আব্দুল হকের শরীরে কোনো গুলি বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচজন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখানে দুজনের চিকিৎসা চলছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 pm
নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর উদ্বোধন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ পালনের শুভ সূচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তার হৃদয়জুড়ে ছিল সমগ্র বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশের মানুষও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছে।

তিনি জানান, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ ও তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন জাতির ভাগ্যআকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা আজও তার সৃষ্টি থেকে পাওয়া যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও নজরুলের কবিতা ও গান ছিল অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর ও নিবিড় করতে বছরব্যাপী নজরুল বর্ষ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। এর মেয়াদ চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত।

এর আগে, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 9:12 am
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী

সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমান পরীক্ষাও। এবার সব মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও থাকবে বডি–ওর্ন ক্যামেরা।

সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি)-এর বাংলা–২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনের আওতায় এবার পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। নকল বা প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো পরীক্ষার্থী নকলের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি নগরবাসীকে যানজট এড়াতে সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের সামনে না নেমে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। নকলের অভিযোগ থাকা কয়েকটি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হলেও দুর্গম এলাকা ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেভেন্থ–ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।

১০ জন নিয়েই বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 9:02 am
১০ জন নিয়েই বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে গেল প্রথম নকআউট ম্যাচেই। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সান ফ্রান্সিসকোতে ২-০ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কাটল। ১০ জন নিয়ে খেলেও তারা সাফল্যের দেখা পেল। বাংলাদেশ সময় আগামী ৭ জুলাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে লড়বে আমেরিকানরা।

শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকরা। ২৪ মিনিট পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সময় পর্যন্ত নেওয়া দুটি শটের কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা।

ক্রমাগত চাপের ফল পেতে অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় তারা। মালিক টিলম্যানের পাস থেকে আক্রমণের সূচনা হয়। তার বাড়ানো বল বসনিয়ার দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গিয়ে পড়ে ফ্লোরিয়ান বালোগানের সামনে। সুযোগ বুঝে দ্রুত এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ভাসিলজের সামনে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার।

বালোগানের সেই গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বিরতির পর পর ৫২ মিনিটে বসনিয়ার শীর্ষ গোলদাতা এডিন জেকো হালকা চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবুও বলের দখল ধরে রেখে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রেখেছিল। ৬১ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দলের খেলোয়াড় মুহারেমোভিচ ও বোলোগান বলের দখল নিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান। রেফারি সম্ভাব্য লাল কার্ড দেখার জন্য ভিএআরের শরণাপন্ন হন। ৬৫ মিনিটে বোলোগানকে মার্চিং অর্ডারের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। বসনিয়া দারুণ সুযোগ পায় ঘুরে দাঁড়ানোর। দেমিরোভিচ ও বাজারাকতারেভিচের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ৭৯ মিনিটে আবার জাল কাঁপায়। ম্যাককেন্নির বাড়ানো বল ডেস্ট খুঁজে পান। তার পাস থেকে পুলিসিক বসনিয়ার জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু তার উদযাপনের আগেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা উঁচিয়ে ধরেন।

গোল বাতিলের তিন মিনিট পর যুক্তরাষ্ট্র স্কোর ২-০ করে। টিলম্যান অসাধারণ এক ফ্রি কিক থেকে গোল করেন। তিনি বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁতভাবে বলটি কার্ভ করে জালের ডান কোণ দিয়ে ভেতরে জড়ান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল ডানদিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি।

অবিশ্বাস্য গোলের সাথে সাথেই পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। ১০ জন নিয়ে খেলার প্রতিকূলতা জয় করে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোল তাদের জয় নিশ্চিত করে ফেলে।

১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তারা সেরা সাফল্য পেয়েছিল ২০০২ সালে, ওইবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল তারা।