খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

চলমান দশম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৃতীয় ধাপে দেশের এক হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন হচ্ছে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে। বিভিন্ন জটিলতায় সাতটি ইউপি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই কোটি এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক কোটি দুই লাখ ১৫ হাজার ৪২৩ জন, নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৯ জন। এ ধাপের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০ হাজার ১৫৯টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১টি হাজার ৮৩০টি।

ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, সারা দেশে তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনে এরই মধ্যে ১০১ জন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম : তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ২৬টি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউপিতে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা সিলেকশনের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার পথে। তাই, ভোট হচ্ছে না রাউজান উপজেলায়।

রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলার ২৬টি ইউপির মধ্যে হাটহাজারীর ১১টি ও রাঙ্গুনিয়ার ১৩টি ইউপির নির্বাচন চলছে। রাঙ্গুনিয়ার ১৩টি ইউপির মধ্যে আটটিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। আর বাকি পাঁচটিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এ ছাড়া হাটহাজারীতে ১৩টি ইউপির মধ্যে ১১টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোরে ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। নির্বাচনি সামগ্রীর সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেরা।

শ. ম সাজু, রাজশাহী : রাজশাহীর দুটি উপজেলার ১৩টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে পবা উপজেলার সাতটি এবং মোহনপুর উপজেলার ছয়টি ইউপিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারেরা ভোট দিচ্ছেন।

দুই উপজেলার ১৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৪৫ জন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদে ১৩৬ জন ও সদস্য পদে ৪২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পবা উপজেলার হরিপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে শুধু সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে।

পবা উপজেলার ৬৮টি এবং মোহনপুর উপজেলার ৫৮টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোটগ্রহণের আগে সকালে এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে, প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৭ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের টহল দল রয়েছে নির্বাচনি মাঠে। এই প্রথম রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতায় পবা উপজেলার সাতটি ইউপিতে টহল পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে।

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, দেশের কোনো নির্বাচনে এই প্রথম বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনে কোনো সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ : তৃতীয় ধাপে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এই ২১টি ইউপির সবগুলোতেই ভোট হচ্ছে ব্যালট পেপারে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৭৬৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে লড়ছেন ২২৩ জন। দুই উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২২১টি কেন্দ্রের এক হাজার ১২১টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮৫ হাজার।

এদিকে, নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ শতাধিক সদস্য। এর মধ্যে আট প্লাটুন বিজিবি এবং র‍্যাবের ১০টি টহল দল রয়েছে।

নির্বাচন অফিস ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি ইউনিয়নে থাকছেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও সাত জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর (নৌকা প্রতিক) পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে এবং জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সবমিলিয়ে মোট ৯০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ইউপি সদস্য পদে রয়েছেন ৬২৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে রয়েছেন ১৭৪ জন প্রার্থী।

এ ছাড়া এসব ইউপিতে মোট তিন লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৭ জন।

কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম গতকাল শনিবার দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ কেন্দ্রে আজ সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়।

এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবিও। দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সর্বমোট ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এন-কে

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।