খুঁজুন
, ,

তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 November, 2021, 11:10 am
তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে চলছে ভোটগ্রহণ

চলমান দশম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৃতীয় ধাপে দেশের এক হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। তৃতীয় ধাপে এক হাজার সাতটি ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন হচ্ছে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে। বিভিন্ন জটিলতায় সাতটি ইউপি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই কোটি এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক কোটি দুই লাখ ১৫ হাজার ৪২৩ জন, নারী ভোটার ৯৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৯ জন। এ ধাপের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০ হাজার ১৫৯টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬১টি হাজার ৮৩০টি।

ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, সারা দেশে তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনে এরই মধ্যে ১০১ জন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম : তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ২৬টি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউপিতে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা সিলেকশনের মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার পথে। তাই, ভোট হচ্ছে না রাউজান উপজেলায়।

রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী উপজেলার ২৬টি ইউপির মধ্যে হাটহাজারীর ১১টি ও রাঙ্গুনিয়ার ১৩টি ইউপির নির্বাচন চলছে। রাঙ্গুনিয়ার ১৩টি ইউপির মধ্যে আটটিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। আর বাকি পাঁচটিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এ ছাড়া হাটহাজারীতে ১৩টি ইউপির মধ্যে ১১টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোরে ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। নির্বাচনি সামগ্রীর সঙ্গে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেরা।

শ. ম সাজু, রাজশাহী : রাজশাহীর দুটি উপজেলার ১৩টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে পবা উপজেলার সাতটি এবং মোহনপুর উপজেলার ছয়টি ইউপিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারেরা ভোট দিচ্ছেন।

দুই উপজেলার ১৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৪৫ জন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদে ১৩৬ জন ও সদস্য পদে ৪২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পবা উপজেলার হরিপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে শুধু সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে।

পবা উপজেলার ৬৮টি এবং মোহনপুর উপজেলার ৫৮টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোটগ্রহণের আগে সকালে এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে, প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৭ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের টহল দল রয়েছে নির্বাচনি মাঠে। এই প্রথম রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতায় পবা উপজেলার সাতটি ইউপিতে টহল পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে।

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, দেশের কোনো নির্বাচনে এই প্রথম বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনে কোনো সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ : তৃতীয় ধাপে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। এই ২১টি ইউপির সবগুলোতেই ভোট হচ্ছে ব্যালট পেপারে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৭৬৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে লড়ছেন ২২৩ জন। দুই উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২২১টি কেন্দ্রের এক হাজার ১২১টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮৫ হাজার।

এদিকে, নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ শতাধিক সদস্য। এর মধ্যে আট প্লাটুন বিজিবি এবং র‍্যাবের ১০টি টহল দল রয়েছে।

নির্বাচন অফিস ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি ইউনিয়নে থাকছেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও সাত জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর (নৌকা প্রতিক) পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে এবং জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সবমিলিয়ে মোট ৯০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ইউপি সদস্য পদে রয়েছেন ৬২৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে রয়েছেন ১৭৪ জন প্রার্থী।

এ ছাড়া এসব ইউপিতে মোট তিন লাখ ৫২ হাজার ৮৮৪ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৭ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৭ জন।

কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম গতকাল শনিবার দেওয়া হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ কেন্দ্রে আজ সকালে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়।

এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবিও। দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সর্বমোট ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 10:31 pm
যুগ্ম-সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠন করার পর প্রশাসনে এটিই প্রথম বড় পদোন্নতি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।

পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।

পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আরও ৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একদিনে মোট ১৭৯ জন এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো।

বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।

‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।