খুঁজুন
, ,

মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সিরিজ গণহত্যার তথ্য উন্মোচন, নিহত অন্তত ৪০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 December, 2021, 12:01 pm
মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সিরিজ গণহত্যার তথ্য উন্মোচন, নিহত অন্তত ৪০

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সিরিজ গণহত্যার তথ্য উন্মোচন করেছে বিবিসি। গত জুলাইয়ে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং জেলার কানি শহরের চারটি স্থানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে থাকা লোকজন জানিয়েছে, গ্রাম ঘুরে ঘুরে সেনারা পুরুষদের আলাদা করেছে এবং তাদের হত্যা করেছে। সেনাদের দলে ১৭ বছর বয়সি একাধিক কিশোরও ছিল। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে বোঝা গেছে—নিহতদের অনেককে নির্যাতনের পর অগভীর কবরে পুঁতে রাখা হয়।

কানি শহরের ১১ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এবং তাদের দেওয়া মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিবিসি যাচাই করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে। সংস্থাটি মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করে থাকে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সংগৃহীত ভিজ্যুয়াল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার বলা যায়, পুরুষদের বিষেশভাবে টার্গেট করা হয়েছে।’

মিয়ানমারজুড়ে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে সামরিক বাহিনী এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যকার সংঘর্ষকালে পুরুষ গ্রামবাসীকে একসঙ্গে শাস্তি দিতে দেখা গেছে।

গত জুলাইয়ে ইয়িন গ্রামে সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালানো হয়েছে। সেখানে অন্তত ১৪ জনকে নির্যাতন করে অথবা পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের মরদেহ স্থানীয় বনে ফেলে রাখা হয়।

ইয়িন গ্রামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, ‘হত্যা করার আগে লোকজনকে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।’ নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীর নাম গোপন রেখেছে বিবিসি।

এক নারী বলেন, ‘আমরা এগুলো দেখে সহ্য করতে পারছিলাম না, এজন্য মাথা নিচু করে কাঁদছিলাম শুধু।’

ওই নারীর ভাই, ভাতিজা ও দেবরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ওদের না মারতে কাকুতি-মিনতি করেছি, ওরা পরোয়া করেনি। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এদের মধ্যে কি তোমার স্বামী আছে? যদি থেকে থাকে, তাহলে শেষকৃত্য করো গিয়ে।’”

পালিয়ে বেঁচে আসা এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, ‘হত্যার আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভীষিকাময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে লোকজনকে। শক্ত করে বাঁধা ছিলেন তারা, দিনভর পাথর মেরে এবং রাইফেলের বাঁট দিয়ে পেটানো হয় তাদের।’

প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি বলেন, ‘সেনাদের দলে কয়েকজন ছিল একেবারে কমবয়সি, ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সের। তবে, কয়েকজন বয়স্ক লোকও ছিলেন।’

কানি শহরের পৃথক যে চারটি জায়গায় ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোতে জান্তাবিরোধীদের অবস্থান অনেক শক্ত।

বিবিসির পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল জ মিন তুনের কাছে গণহত্যার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি সেনা সদস্যদের চালানো গণহত্যার ঘটনা অস্বীকার করেননি।

জেনারেল জ মিন তুন বলেন, ‘এটা ঘটে থাকতে পারে। তারা যেখানে আমাদের শত্রুজ্ঞান করে, সেখানে আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’

ফেব্রুয়ারির শুরুতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই জান্তাবিরোধী প্রতিবাদ প্রতিরোধে অংশ নিচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

নাটকীয় ড্রয়ের পর অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে ফেরার গল্প লিখল বেলজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 8:34 am
নাটকীয় ড্রয়ের পর অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে ফেরার গল্প লিখল বেলজিয়াম

প্রায় নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফিরে এসে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে সেনেগালকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

সিয়াটলে রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। কিন্তু ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু এবং ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের গোলে ম্যাচে ফিরে বেলজিয়াম। এরপর ২–২ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়, গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে নাটকের চূড়ান্ত মুহূর্ত তৈরি হয়। ডান দিক থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ের নিচু ক্রসের সময় ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করা হয়েছে বলে জোরালো দাবি তোলে বেলজিয়াম। রিপ্লেতে দেখা যায়, সেনেগালের লামিনে কামারা বল স্পর্শ করতে পারেননি। ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

এর কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য ডোডি লুকেবাকিওর সামনে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। গোল থেকে মাত্র ১১ গজ দূরে দাঁড়িয়ে নেওয়া তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার সময় শরীর একটু বেশি পেছনে হেলে যাওয়ায় নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হয় বেলজিয়ামের।

তবে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়নি ইউরোপের দলটিকে। ম্যাচের ১২৫ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন ইউরি টিলেমান্স। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে বেলজিয়ামকে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। আর সেই গোলই নিশ্চিত করে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ও শেষ ষোলোর টিকিট।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার এই ম্যাচটি চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে নাটকীয় লড়াইগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 am
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৭ম মিনিটে দারুণ এক গোলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গার। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার, তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোল হয়।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহাম সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। শূন্যে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল পোস্টের ডান দিকে পাঠান তিনি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ রিফ্লেক্সে বলটি ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করায় হতাশ হতে হয় তাকে। সমতায় ফেরার আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় ইংলিশদের।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়ে যান ইওয়ান উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করে গোলপোস্ট। বল পোস্টে লেগে ফিরে এলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় থ্রি লায়নরা।

এর দুই মিনিট পর ম্যাচে তৈরি হয় বিতর্ক। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল ধরে কঙ্গোর বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন। তাকে থামাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক এমপাসি। দুজনের সংঘর্ষে বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি উল্টো কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান। ফলে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় ডিআর কঙ্গো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বেলিংহামের নিচু হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান এমপাসি। বাঁ দিকের নিচের কোণ থেকে দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বলটিতে হাত লাগালেও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কেইন। ৮৬তম মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১১ মিনিট আগে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কেইনের এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে এনে দেয় মূল্যবান জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এবারের আসরে তার গোল মোট ৫টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।