খুঁজুন
, ,

বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মাজহারুল হকের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 11 January, 2022, 10:54 pm
বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মাজহারুল হকের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ও ব্যবসায় সমান পার্টনার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে প্রতারনার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি এক ব্যবসায়ী।

সকালে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার সুলতান মার্কেটের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন।

বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল হক এমন প্রতারনা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ব্যবসায়ী জসিম।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি জসিম বলেন, বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুল এবং সুলতান মার্কেটের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ফ্লোরের সমান অংশিদারিত্ব দেয়ার কথা বলে কয়েক দফায় প্রায় তিন কোটি হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ মাজহারুল হক। নিজের ব্যবসায়ীক দোকান ও সহায় সম্বল বিক্রি কওে কয়েক দফায় ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দেয়ার পর হতে গত ১১ বছরে ব্যবসার অংশিদারিত্ব পাওয়া তো দুরের কথা বিনিয়োগকৃত অর্থেও কোন ধরনের লভ্যাংশও পাননি তিনি। বরং বিনিয়োগের মূল অর্থ ফেরত চাওয়ায় বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁকে সেখান থেকে উচ্ছেদসহ প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছেন মাজহারুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে জসিম বলেন, বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় দীর্ঘদিন ব্যবসা করার সুবাধে পূর্ব পরিচয় ছিল অধ্যক্ষ মাজহারের সাথে। ২০১১ সালে বায়েজিদ বোস্তামি দরগাহ শরীফ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি থেকে সুলতান মার্কেটের প্রথম তলা দালানের উপর নিজ খরচে ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ তলা ভবন নির্মানের চুক্তি করেন অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল হক। চুক্তি অনুযায়ী উক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বায়েজিদ ফ্রি ক্যাডেট স্কুল পরিচালনা এবং বাকী ফ্লোর গুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করবেন। ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটির সাথে এটি ছিল মূলত একটি ভাড়ার চুক্তি।

এসময় পূর্ব পরিচয়রের সুত্র ধরে অধ্যক্ষ মাজহারুল হক উক্ত ভবনে ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ তলা ভবন নির্মান এবং স্কুল পরিচালনাসহ বানিজ্যিক দোকান পরিচালনার জন্য জসিমকে পার্টনার হওয়ার প্রস্তাব করেন। মাজহারুল হকের কাছে তখন ভবন নির্মান করার জন্য টাকা না থাকায় তিনি এখাতে টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব করেন। এ জন্য তিনি তার পূর্ব পরিচিতি দুইজন ব্যক্তি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আনিছুর রহমান মিঞা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও উন্নয়ন) মো. খালেদ মামুন চৌধুরী নামে দুই ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। কথিত এই দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমাকে মাজহারুল হক তাদের আত্মীয় দাবী করে তার সাথে টাকা বিনিয়োগে পরামর্শ দেন। একাজে বায়েজিদ এলাকার ব্যবসায়ী ইলিয়াছ হোসেনও মাজহারের পক্ষ নিয়ে টাকা বিনিয়োগের জন্য জসিমকে সুপারিশ করেন। সকলের কথায় সরল বিশ্বাসে ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগে সম্মত হন জসিম। কথা অনুযায়ী প্রথমে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের অংশ থেকে ২০১১ সালের ২ জুন ৬ লাখ টাকা মাজহারুল হককে চেক মুলে প্রদান করা হয়। এসময় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ বাবদ প্রথম কিস্তির একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র লেখা হয় যাতে উল্লেখ করা হয় জসিমের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ এ টাকা নিচ্ছে। এ প্রাপ্তি স্বীকার পত্রে উক্ত কথিত দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছও স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এর পর জসিম তাকে বিভিন্ন তারিখে চেক মুলে দফায় দফায় সর্বমোট ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। জসিমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাজহারুল উক্ত ভবনে স্কুল ও দোকান নির্মান করেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালের জানুয়ারী মাসে মাজহারুল হক জসিমকে ২য় তলার ফ্লোর বুঝিয়ে দেয়ার সময় ভবনের মূল মালিক পক্ষের সাথে চুক্তিপত্র করতে হবে বলে কয়েটি অলিখিত স্টাম্পে জসিমের স্বাক্ষর করিয়ে নেন। বিনিয়োগের সমান অংশিদারিত্বের চুক্তি মতে ২য় তলার ফ্লোরে ১৯টি দোকান ঘর নির্ধারন করে সেখানে আমার নিজ প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা দোকানের সার্টার, পার্টিশান ওয়াল নির্মান ও ফ্লোওে টাইলস লাগানো, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে ৮ টি দোকান বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জসিমের মাধ্যমে লাগিয়ত করে টাকা গুলো মাজহারুল হক নিয়ে যান। ভবনের ২য় তলার ফ্লোর বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকে অধ্যক্ষ মাজহারুল হক ১৯ টি দোকানের মালিকানা ভাড়া বাবদ ২০১৩ সালের নভেম্বর হতে ২০২১ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত বিনা রশিদে ৩০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা গ্রহন করেন।

সরল বিশ্বাসে বিপুল পরিমাণ এসব অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও জসিমের সাথে লিখিত কোন চুক্তিপত্র করেননি ধূর্ত মাজহার। চুক্তির কথা বললে মাজহার বলতেন শেয়ার হোল্ডার নেয়া হয়েছে জানলে ভবনের মূল মালিক তথা ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ ইজারা বাতিল করবে। তাই সব কিছু গোপন রাখতে হবে । কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে মাজহারুল হকের আসল রুপ ধরা পড়ে। তখন জসিম তাঁর বিনিয়োগকৃত টাকার সমান ভাগ এবং স্কুলের বিগত সময়ের আয় ব্যায়ের হিসাব চাইলে তিনি আজ দেবেন কাল দেবেন বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে।

সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর কোন ধরনের চুক্তিপত্র দেয়াসহ বিনিয়োগকৃত টাকা ও লভ্যাংশ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। উল্টো প্রশাসনের মাধ্যমে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদের হুমকি প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে জসিমকে বায়েজিদ থানা পুলিশ কোন প্রকার মামলা ছাড়া আটক করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে আটকে রেখে থানার ওসি কামরুজ্জামান ও দারোগা রবিউল জসিমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালি করে দোকানের দখল ছেড়ে দিতে বলে। পরের দিন ওসির নির্দেশে পুলিশ মার্কেটে এসে ভাড়াটিয়াদেরকে জসিমকে দোকানের ভাড়া না দিতে বলে যান।

বর্তমানে অধ্যক্ষ মাজহারুল হক পুলিশের সহায়তায় জসিমকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

সরল বিশ্বাসে অর্ধেক শেয়ারের অংশ পাওয়ার আশায় প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন অনেকটা নিঃস্ব জসিম। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চাওয়ায় প্রাননাশের হুমকিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে মাজহার।

এ দিকে এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারী মাননীয় সিনিয়র সহকারী জজ ৫ম এর আদালতে একটি চিরস্থাীয় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানী শেষে বিবাদীর প্রতি সমন জারি করেছে।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।