খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাউজান থানা হেফাজত থেকে মায়ের বুকে ফিরলো শিশু সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:১১ অপরাহ্ণ
রাউজান থানা হেফাজত থেকে মায়ের বুকে ফিরলো শিশু সুজন

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান প্রতিনিধি : চারদিন রাউজান থানা হেফাজতে ছিল শিশু সুজন। চঞ্চল এই শিশুটি চারদিনেই আপন করে নিয়েছিলেন রাউজান থানার ওসিসহ সকল কর্মকর্তার মন। থানার এ কক্ষ থেকে ও কক্ষে হাসি-আনন্দে মাতিয়ে রাখতেন থানা ভবনটা।

বিশেষ করে থানার নারী পুলিশ সদস্যরা রীতিমতো আপন করে নিয়েছিলেন ছেলেটিকে। তাদের সাথে সারাক্ষণ খুনসুটি আর আনন্দ উল্লাসে সময় কাটাতেন শিশু সুজন। কিন্তু যেই ছেলেটিকে নিয়ে এত আনন্দ কোলাহল তার ঠিকানা জানা ছিলনা কারো। তাই শিশুটির হাসিমুখ সবার মন জয় করলেও রীতিমতো শিশুটিকে নিয়ে টেনশনের কমতি ছিলনা থানার কর্মকর্তাদের।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েত উল্লাহ শিশুটির ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান জানতে চেয়ে একটি পোষ্ট দেন। নিখোঁজ শিশুটিকে নিয়ে পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়। অনেকেই শিশুটির ছবিসহ ফেইসবুকে বিষয়টি শেয়ার করেন।

বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছবি দেখেই তার স্বজনরা পরিচয় শনাক্ত করে ছুটে আসেন রাউজান থানায়। টানা কয়েকদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর মা ছেলের মিলনমেলা যেন হার মানিয়েছে সিনেমার গল্পকে।

১৮ নভেম্বর সোমবার বিকেলে শিশু সুজনকে যখন রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ তার মা চম্পা খাতুনকে হস্তান্তর করছিলেন তখন আনন্দ অশ্রুতে টলমল রাউজান থানার কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

শিশু সুজন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে চম্পা খাতুন ও একই এলাকার সিদ্দীক আলীর তৃতীয় পুত্র।

সুজনের মা চম্পা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, বিগত পাঁচ বছর পূর্বে তাদের ঘর আলোকিত করে সুজন জন্ম নেওয়ার পরই তার পিতা সিদ্দিক আলী পরপারের ডাকে সাড়া দেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই মেয়ে ও এক সন্তানকে নিয়ে সংসারের ভার বইতে গিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে পান চম্পা খাতুন।

সন্তানদের সুখের কথা ভেবে সাত মাস পূর্বেই সিলেট জেলার জজ মিয়ার সাথে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন চর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার করিম ম্যানসনে ভাড়াবাসায় উঠেন। চম্পা খাতুন ভেবেছিলেন হয়তো তার দ্বিতীয় স্বামী পিতৃস্নেহে তার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করবেন। কিন্তু কিছুদিন অতিবাহিত হতেই সংসারে দানা বাঁধে কলহ।

চম্পা খাতুন আরো বলেন, তার সন্তান নিখোঁজের ৩/৪দিন পূর্বে সন্তানকে বিক্রি করার হুমকি দিয়েছিল তার সৎপিতা জজ মিয়া। গত শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বরিশাল বাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু সুজন। সুজন নিখোঁজের পর তার সৎপিতার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা চম্পা খাতুন পাগলের মতো হন্যে হয়ে ছেলের খোঁজ নিতে থাকে।

এদিকে সুজন নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় মাইকিং প্রচারনাও চালানো হয়। টানা কয়েকদিনেও ছেলের খোঁজ না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে চোখের জলে বুক ভাসাতেন মা চম্পা খাতুন। অবশেষে ছেলের ছবিসহ সংবাদ পত্রিকায় দেখে স্বজনদের নিয়ে রাউজান থানায় ছুটে এসে সুজনকে বুকে জড়িয়ে আরেকবার কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।

রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, গত শুক্রবার শিশুটিকে নোয়াপাড়া পথের হাটের জান্নাত হোটেলে পেয়ে স্থানীয়রা লোকজন তাকে নোয়াপাড়া পুলিশকে ক্যাম্পে দিয়ে দেন। সেখান থেকে তাকে রাউজান থানা হেফাজতে রাখা হয়। এই চারদিন শিশুটি সবাইকে আপন করে নিয়েছিল।

থানার নারী সদস্যরা শিশু সুজনকে নতুন জামাও কিনে দিয়েছিলেন। এখন তাকে তার মায়ের বুকে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব খুশি লাগছে। শিশুটি যাওয়ার সময় ওসি কেফায়েত উল্লাহ তার মায়ের হাতে যাতায়াত খরচের জন্য কিছু টাকাও দেন। এ সময় মায়ের কোলে করে শিশুটির চলে যাওয়ার সময় আবেগ সংবরণ করতে পারেনি উপস্থিত সকলে। মা ছেলের মিলনের মাঝেও থানা ভবন চত্বরে বিচ্ছেদের সুর বেজে উঠেছিল।

বুকের মানিক ধনকে ফিরে পেয়ে চম্পা খাতুন বলেন, স্বামীর সাথে আর সংসার করবেননা তিনি। তার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতেই চলে যাবেন তিনি।

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…