খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৫২৭ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৫২৭ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫২৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ২৭৩ জনে। মোট শনাক্ত ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জন।

এ সময়ে সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ১৫ লাখ ৬০ হাজার ছয়জন করোনা থেকে সুস্থ হলো। তবে দৈনিক শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬০টি ল্যাবে ৪৯ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৪৯ হাজার ২৭৫টি।

মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও নারী চারজন। এদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিনজন।

একদিনে ঢাকা বিভাগে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এ বিভাগে করোনায় মারা গেছে ১০ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে চারজন, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে। এদের মধ্যে ১২ জন সরকারি হাসপাতালে ও সাতজন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে।

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এন-কে

Feb2

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইরানকে রুখে দিলো নিউজিল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইরানকে রুখে দিলো নিউজিল্যান্ড

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নিউজিল্যান্ড কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে ইরানের। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সমতা নিয়ে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ করেছে ইরান। ‘জি’গ্রুপের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন এলিজা জাস্ট। পিছিয়ে পড়লেও ইরানের হয়ে গোল দুটি শোধ করেন রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেবি।

ম্যাচে ৫৩ শতাংশ বল দখল করে এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। ৪৭ শতাংশ বল ছিল ইরানের দখলে। তবে ১৭টি আক্রমণ করেছে ইরান আর নিউজিল্যান্ড ১৩টি। ইরানের লক্ষ্যে রাখা ৪ শটের দ্বিগুণ ৮টি লক্ষ্যে রাখে নিউজিল্যান্ড।

দলগত আক্রমণে প্রথম গোলের দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। নিজেদের প্রান্ত থেকে গোলরক্ষকের ক্লিয়ারেন্স ইরানের প্রান্তে নিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণে নেন অধিনায়ক ক্রিস উড। তার কাছ থেকে বল পেয়ে যান এলিজা জাস্ট। তিনি দ্রুত বল বাড়ান পাস বাড়ান সারপ্রিত সিংয়ের কাছে।

চিপ শটে আবারও উডের কাছে বল ফেরত পাঠান সিং। বক্সে থাকা জাস্ট আরেকবার বল পেয়ে যান উডের কাছ থেকে। এবার বল পেয়ে জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। আর তাতেই সপ্তম মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় নিউজিল্যান্ড।

অস্বস্তি নিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচে খেলতে নামা ইরান যেন আরও চাপে পড়ে যায় গোল হজম করে। যদিও সেটি তারা বুঝতে দিচ্ছিল না। চেষ্টা চালায় ম্যাচে ফিরে আসার। চালিয়ে যায় একের পর এক আক্রমণ। সেই আক্রমণের সফলতা ধরা দেয় ৩২ মিনিটে। ম্যাচে সমতা ফেরায় ইরান।

বক্সের বাইরে বল পান সালমান গহদ্দোস। দারুণ থ্রু পাস বাড়ান শাহরিয়ার মগহানলৌয়ের দিকে। তিনি দারুণ শট নিলেও নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার সারম্যান সেটি ব্লক করে দিলেও ভাগ্যক্রমে ইরানের রামিন রেজাইয়ানের সামনে গিয়ে পড়ে বল। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইরানের হয়ে সমতা ফেরান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিউজিল্যান্ডের অর্ধে একটি ফ্রি-কিক পায় ইরান। রামিন দারুণ এক ক্রসে বল তুলে দেন বক্সে। সেখানে থাকা নেমাতি বল জালে পাঠিয়ে উল্লাস শুরু করেন।

তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করে ইরান। ফলে ১-১ সমতাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে ফিরলে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন এলিজা। ইরানকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে লিড নেয় নিউজিল্যান্ড। ক্রিস উডের কাছ থেকে পাস পেয়ে বক্সে ঢুকেন এলিজা জাস্ট। ইরানের গোলরক্ষককে পয়াস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ইরানকে হতাশ করেন এলিজা জাস্ট।

যদিও মিনিট দশেকের বেশি লিড ধরে রাখতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ডান প্রান্তে বল পান আগের গোলদাতা রামিন রেজাইয়ান। দুর্দান্ত ক্রসে তিনি বল ভাসিয়ে দেন বক্সে। সেখানে দারুণভাবে উঠে হেড করেন মোহাম্মদ মোহেবি। নিখুঁত সেই হেড পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে জালে জড়িয়ে যায় ৬৪ মিনিটে। ফলে ম্যাচে আবারও সমতা ফেরায় ইরান।

এরপর একাধিক চেষ্টা চালায় দুই দলই। কিন্তু কেউই কোনো গোল করতে না পারায় ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। আগামী ২২ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ইরান। একইদিন মিশরের বিপক্ষে খেলবে নিউজিল্যান্ড।

যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন

গত বছরের ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সদর ইউনিয়নের যুবদলের নেতা মো. ইব্রাহিমকে দোকানে ডেকে নিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে দিদারুল আলমকে শনাক্ত করে পুলিশ। অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। মামলাটিতে উচ্চ আদালত থেকে ওই বছরের ২০ অক্টোবর জামিন পান দিদারুল। তার আগেও ২০২৪ সালে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বেরিয়ে যান দিদারুল।

গত ১৩ জুন রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে দিদারুলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় পুলিশ।

জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে দিদারুলের বিরুদ্ধে অন্তত ৯টি মামলা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়া থানার হত্যা এবং বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও চুরির মামলা পাওয়া গেছে। প্রতিবারই এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দ্রুত সময়ে কারামুক্ত হন তিনি।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, রাউজানের যুবদল নেতা ইব্রাহিম হত্যা মামলায় দিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসে জামিনে বেরিয়ে যান।

১৩ জুন গুলিতে নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই। আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ লক্ষ্যেই এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর খুব কাছের লোক ছিলেন মাকসুদুল। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও স্থানীয়ভাবে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বাজার-সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এলাকার একটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন নিহত মাকসুদুল। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীপাড়ের আরেকটি বালুমহালও তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, খুনের তদন্তে বালুমহাল সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাকসুদের ওপর হামলাকারীরা সবাই সশস্ত্র ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে শটগান এবং তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। গুলির মুখে জীবন বাঁচাতে মাকসুদুল দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীদের দুজন খুব কাছ থেকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এক যুবকের মুখে কালো মুখোশ থাকলেও সিসিটিভি ফুটেজে বাকিদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেছে। ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার সময় তারা স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে আসতে নিষেধ করে এবং দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ অস্ত্রধারীই স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা হলেন- ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম, মো. আফসার, মো. ইউসুফ ও মো. জাবেদ। এছাড়া সহযোগী হিসেবে মিশনে যোগ দেয় মো. আইয়ুব, মোম ইউসুফ ও মো. পারভেজ নামের স্থানীয় দুই সন্ত্রাসী। চিহ্নিতদের মধ্যে শটগান হাতে থাকা ধামা ইলিয়াস ও আফসারের বাড়ি কদলপুর ইউনিয়নে। পিস্তলধারী দিদারুল আলমের বাড়ি নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় এবং মো. ইউসুফের বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সহযোগী পারভেজের বাড়ি গশ্চি ইউনিয়নের নোয়াহাট এবং আইয়ুবের বাড়ি কদলপুর ইউনিয়নে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের দুদিন পার হলেও এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা লিখিত এজাহার দায়ের করতে আসবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছি খুব দ্রুতই মামলা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় জাকির নামে এক ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় ৪-৫ জন অস্ত্রধারী ছিল। জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবার থানায় এলে এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাউজানে সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাটিতে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়। বর্তমানে ফজলে করিম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও তার পতনের পর সৃষ্ট ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রাউজানকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দিন-রাত অস্ত্রের মহড়া, প্রকাশ্যে গুলি, বাড়িতে ঢুকে হত্যা, অপহরণের পর মরদেহ উদ্ধার কিংবা চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা এখন অনেকটাই এ জনপদের নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং পাহাড় ও নদীর বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। আতঙ্কে সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। মাকসুদুলসহ গত ২২ মাসে উপজেলায় অন্তত ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই রাজনৈতিক বিরোধ ও সন্ত্রাসী দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

সবশেষ মাকসুদুল হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল-নেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে থাকে। রাজনীতিবিদদেরও বুঝতে হবে, দাগি সন্ত্রাসীদের বুঝেশুনে কাছে টানতে হবে। আমি সন্ত্রাসীদের পক্ষে নই, আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি।

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি মামলার দুই আসামি পুলিশের দুজন। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান রয়েছেন একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আসামিকে আটক দেখানো হলেও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে থানায় মামলা হলে সাধারণত তদন্তকারী সংস্থা আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযোগের গুরুত্ব, মামলার ধারা এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। আবার কোনো আসামি চাইলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নাঈম হাসানকে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এই দুই প্রক্রিয়ার কোনোটিই দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শুধু বিভাগীয় তদন্তের কথা বলে বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। অথচ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এটি শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নয়; বরং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ।

ঘটনার শুরু হয় শুক্রবার রাতে। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। রাতে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তার বহনকারী সিএনজিটি থামায় কয়েকজন ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স ওই অভিযানে অংশ নেন। বিমানবন্দরে থাকা একটি সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজি থামানো হয়। ওই সিএনজিতে থাকা নাঈমকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়। পরে পরিচয় জানালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

নাঈমের অভিযোগ, তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেননি। ঘটনাস্থলে থাকা এসআই শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এক সোর্সও নাঈমকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি ওসি আরিফুর রহমানকে জানানো হলে তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার পরও নাঈম নিজের পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তাকে হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাঈম। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়। মামলার পর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় সিএমপি। এছাড়া এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল প্রত্যাহার করা হয়। তবে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এছাড়া ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা ওসি আরিফুর রহমানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাঈম নিজে এবং তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নাঈমকে থানায় নেওয়ার নির্দেশ ও পরবর্তী হেনস্তার ঘটনায় ওসির ভূমিকা ছিল। তবে ওসি আরিফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। এসআই শফিকসহ তার টিম নাঈমকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ছেড়ে দেন। তার অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈমের বাসায় গিয়ে বলেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বলেন, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তরা সাসপেন্ড হয়েছে। এটি ডিপার্টমেন্টের বিষয়। ডিপার্টমেন্ট ও আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কোনো ফৌজদারি মামলার বিকল্প হতে পারে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকের মতোই ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হলে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার আসামি হন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু প্রত্যাহার বা বিভাগীয় তদন্ত করে বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, এখানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো— যাদের বিরুদ্ধে মারধর ও বেআইনি আটকের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের একজনকে আটক করা হলেও অন্যরা এখনো বাইরে রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, একই বাহিনীর সদস্য হওয়ায় কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ওসির বিরুদ্ধে যদি তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।