টিকটিক ভিডিও বানিয় তরুণীদের ফাঁদে ফেলে দেহ ব্যবসা, সীতাকুণ্ডে গ্রেফতার স্বামী
বিয়ে করাই নেশা যেন শারফিন পরানের (২২)।নেশা বললে ভুল হবে, বিয়ে করা পেশা তার। কেননা বিয়ে করেই স্ত্রীদের দেহ ব্যবসায় নামিয়ে দিতেন তিনি। অবশেষে এক স্ত্রীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তার স্ত্রী শিমা আক্তার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ। মামলার বাদী আরেফিনের চতুর্থ স্ত্রী জানান, শাহ আরেফিন টিকটক ভিডিও বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন।
আবার অনেক সময় ফাঁদে ফেলে তাঁদের বিয়ে যৌতুক দাবি করেন। এর আগে শাহ আরেফিন ফাঁদে ফেলে তিন তরুণীকে বিয়ে করেছেন। পরে যৌতুক দাবি করে নির্যাতনের কারণে আগের তিন স্ত্রীর সঙ্গে শাহ আরেফিনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ের সময় শ্বশুর থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার যৌতুক নেন আরেফিন। তবুও বিয়ের পর থেকে আরো টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন। বাবার কাছ থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা এনেও দেন স্ত্রী। এরপর থেকে টাকার জন্য আরও বেশি চাপ দিতে থাকে। ঘরে বসে নেশাও করতেন আরেফিন। স্ত্রীকেও তার সাথে নেশা করতে বলতেন। এক সময় স্ত্রীকে দেহ ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজ করতে চাপ দেন আরেফিন। এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নানাভাবে চলত নির্যাতন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল বেলা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে স্ত্রীকে মোবাইল চার্জারের তার ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন আরেফিন। এ সময় স্ত্রীর চিৎকারে তার বাবা ও এলাকার লোকজন এসে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত সুমন বণিক। শাহ আরেফিন ওরফে পরানের বাড়ি কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার এলাহিপুর গ্রামে হলেও তিনি সীতাকুণ্ডের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় থাকতেন।


আপনার মতামত লিখুন