ভাত খাওয়ার অপকারিতা জানলে চমকে উঠবেন আপনিও!
ভাত না খাওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারেন না অনেকে। কারণ, বাঙালির প্রধান খাদ্যই হলো ভাত। কিন্তু আপনি কি জানেন, নিয়মিত ভাত খাওয়ার অভ্যাস একাধিক অসুখের কারণ হতে পারে।
ভাত একধরনের শস্যজাতীয় খাবার। এটি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার প্রধান উৎস। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ভাতের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাতই শরীরের নানা রোগের কারণ হয়ে উঠছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাতে ডাইজেসটিভ ফাইবার নেই। ফলে এটি শরীরে তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের বারবার খিদে পায়। বারবার খাওয়ার এই প্রবণতাই শরীরের ওজনকে বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই।
ভাত রক্তে সুগার লেভেল দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৫০ গ্রাম ভাতে ২০০ ক্যালরি থাকে। পেটে চর্বি জমার অন্যতম কারণ হিসেবেও দায়ী করা হচ্ছে এই ভাতকে। তাই প্রয়োজনের বেশি ভাত খাওয়ায় রাশ টানতে না পারলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরে বাসা বাঁধবে নানান রোগ।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, প্রতিদিন সাদা ভাত খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভাত থেকে নিঃসরিত গ্লুকোজ আমাদের রক্তে দ্রুত মিশে যায়। যদি আপনি ভাত খেয়েই ঘুমাতে যান, তবে আপনি নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাতের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমাতে অন্তত ঘুমাতে যাওয়ার চার ঘণ্টা আগে ভাত খেয়ে নিতে পারেন।
অনেকেই মনে করে ব্রাউন রাইস খেলে এসব ভয় নেই। তাদের জেনে রাখা ভালো ব্রাউন বা বাদামি রঙের চালে আর্সেনিকের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই প্রকার চালেই কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরির মাত্রা সমান। ব্রাউন রাইসে খোসা থাকায় তাতে প্রোটিন, ফাইবার ও আয়রন বেশি থাকে। তবে এতে অপকারিতার পরিমাণ কমে না।
গবেষকরা বলছেন, ৩০ বছরের পর থেকে মানব শরীরে বেসাল মেটাবলিক রেট কমতে শুরু করে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও নিচে নামতে থাকে। যাদের সারা দিনে একাধিকবার ভাত খাওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের মধ্যেই ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। তাই ভাত খাওয়ার অপকারিতা থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের ডায়েটে ভাতের পরিমাণকে কমিয়ে এনে এর তিন গুণ পুষ্টিকর সবজি, তরকারি আর রঙিন ফলমূল রাখুন।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন