খুঁজুন
, ,

আজ যুবলীগের কংগ্রেস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 23 November, 2019, 7:39 am
আজ যুবলীগের কংগ্রেস

.jpg

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস আজ সকালে শুরু হবে। সাম্প্রতিক ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততায় দারুণ ইমেজ সংকটে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংকট-বিপর্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখা দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনটি। যুবলীগ নেতাদের অধঃপতনে বিব্রত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই কংগ্রেসের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থাকবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন যুবলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি চয়ন ইসলাম।

কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন বসবে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। সেখানেই যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে।

প্রায় সাত বছর পর হতে যাওয়া কংগ্রেসকে ঘিরে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে।

কংগ্রেসকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা আগ্রহ। কে হচ্ছেন যুবলীগের পরবর্তী চেয়ারম্যান-সাধারণ সম্পাদক— এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে টং দোকানের চায়ের টেবিলে। তবে এর এর উত্তর জানতে হলে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

যদিও এরই মধ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির পুত্র শেখ ফজলে শামস পরশের নাম বেশ জোরে-শোরেই আলোচনা হচ্ছে। যুবলীগকে সংশোধন করে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা তাঁর ভাতিজা পরশের ওপরই আস্থা রাখতে চাইছেন-এমনটাই জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে।

তবে শীর্ষ দুটি পদে আসীন হতে আলোচনায় আছেন যুবলীগের বর্তমানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান আতা, বেলাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, মঞ্জুরুল আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলুসহ বেশ কয়েকজন।

এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, বাহাদুর ব্যাপারীসহ কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নামও আছে নেতা-কর্মীদের গুঞ্জনে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাসিনোকাণ্ডের কারণে সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে যুবলীগের। তাই ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে কাজ করা হচ্ছে। কংগ্রেসে চমক থাকবে। চমক হিসেবে বর্তমান কমিটির বাইরে থেকেও নেতৃত্ব আসতে পারে।

যুবলীগ নেতারা বলছেন, এবারের কংগ্রেস হচ্ছে বৈরি এক পরিবেশে। ক্যাসিনোকাণ্ডে বিব্রত যুবলীগের হাই কমান্ড। তাই সংগঠনটিকে নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্বয়ং আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেই নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি তদারকি করছেন।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে যুবলীগের পূর্বনির্ধারিত বয়সসীমা ৫৫ বছরই বহাল থাকছে। সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবেন দলটির কাউন্সিলররাই। নেত্রীর সাথে আলোচনা করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সরকারের মেগা প্রজেক্ট পদ্মা সেতুর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ।

কংগ্রেস ভেন্যু ও তার আশপাশের এলাকা যুবলীগ নেতাদের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারেও ছেয়ে গেছে।

জানা গেছে, কংগ্রেসে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে ২২শ কাউন্সিলর ঢাকায় আসছেন।

জানতে চাইলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য চয়ন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছি। আমাদের সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে। বাদ পড়বেন বিতর্কিতরা।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন।

Feb2
Feb2

দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 11:38 pm
দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:58 pm
বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।

পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।

জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।

এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:41 pm
এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

একটি বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক। কারও হাতে মোবাইল, কেউ ব্যস্ত ল্যাপটপে। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আবাসিক বাড়ি মনে হলেও ভেতরে চলছিল সংঘবদ্ধ অনলাইন কার্যক্রম। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে ৬৩ জন গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এক দুবাইপ্রবাসীর কাছ থেকে। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের সংখ্যাও বেশ বড়— ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ। এর সঙ্গে ছিল ট্যাব, পেনড্রাইভ, সিমকার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক একসঙ্গে চট্টগ্রামে এসে কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন এবং দেড় মাস ধরে সেখানে অবস্থান করলেন? তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক, আশপাশের বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন? আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, কে বা কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা।

অভিযানে উদ্ধার করা ডিভাইসের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক কাজের জন্য একটি সংগঠিত সেটআপ ছিল। ৬৩ জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় দুইটি করে মোবাইল ছিল প্রত্যেকের জন্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৫৭টি ল্যাপটপ।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এতগুলো ডিভাইস কেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

শুধু বিদেশিরা নন, আছে সহযোগীরাও

পুলিশ বলছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু ওই বাড়ির ৬৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তারা।

এই সহযোগীরা কী ধরনের সহায়তা দিতেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। কারণ, এতজন বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

চট্টগ্রাম কেন?

অনলাইন অপরাধের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আনাগোনাও রয়েছে। সেই সুযোগকে অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কিংবা তাদের ভিসার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

তদন্তে সামনে আসবে বড় নেটওয়ার্ক?

একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা, এটিকে নিছক একটি আবাসিক বাড়িতে কয়েকজন বিদেশির অবস্থানের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ রাখছে না। পুলিশের বক্তব্যে দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের তথ্যও এসেছে।

তদন্তে এখন মূল বিষয় হবে এই ৬৩ জনের মধ্যে কে কোন ভূমিকায় ছিলেন, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারা যুক্ত ছিলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণেই এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখলে চক্রটির বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।