খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রাম মহানগরকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই:সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 10 April, 2022, 10:12 pm
চট্টগ্রাম মহানগরকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই:সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা রাস্তা, পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে-চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন আমাদের সকল প্রয়াস ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের আগামীদিনের বংশধরদের জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্যময়য়, সুন্দর, সুশৃংখল চট্টগ্রাম গড়ে তোলা । চট্টগ্রামের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব কি তা বলার অপেক্ষা রকে না | কিন্তু জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা অলিগলি, রাস্তাগুলো পরিবেশ ও শব্দ দূষণ ইত্যাদি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে আর মানুষকে করছে হতাশাগ্রস্থ। জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপারগুলি নিয়ে কতটুকু মাথাব্যথা আছে তা জনগণ বুঝতে পারছেন না না। চট্টগ্রাম মহানগরকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই, আর নেই জনগণকে পরিবেশ ও স্বাস্থ সচেতন করার কোনো কর্মকান্ড | এটা বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ | আমরা এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন আযোজন করেছি।

নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন আয়েজিত সংবাদ সমোলনে সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নিয়ে আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, যেমন ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে হরতাল, গণ-অনশন, সেমিনার, মানববন্ধন ইত্যাদি করে এই সমস্যার সমাধানের স্থায়ী দাবিতে চট্টগ্রামবাসীর সমর্থন নিয়ে আমরা সক্রিয় থেকেছি। ১৯৮৯ সাল থেকে পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর খালগুলি উপর থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, জমি হুকুম দখল করে প্রশস্তকরণ, শেখ মুজিব রোড বক্স কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি হয়েছিল ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে এগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার করা হয়নি। অপরদিকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা মাটি এসে খালগুলিকে ভরাট করেছে। এসবকিছুর কারণে সমস্যা পরবর্তীতে ফিরে আসে আরও প্রকট হয়ে। ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে আমরা আবারো জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সোচ্চার হই এবং ফলশ্রুতিতে ১৯১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঐ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ ছিল দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। আমরা ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মেয়র সিডিএ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ৩৪ নং সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক, ওয়াসা , পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জলাবদ্ধতা বিষয়ে বিশেষ কনভেনশন আয়োজন করেছিলাম ২০১৯ সালে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সার্বিক সমন্বয় , গণ সচেতনতা সৃষ্টি এবং সময়মতো কাজ শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিগত কয়েকদিন যাবৎ মেগা প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের পিছনে যে খালটি তা চাক্তাই খালের অংশ, কিন্তু সেটিতে কেন এখনো হাত দেওয়া হয়নি তা বোধগম্য নয় ! সেখানে অনেকাংশে পলিথিন ব্যাগ এবং আবর্জনায ভরাট হয়ে আছে এবং এর উপর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব সার্কেল-২ এর অফিস এখনো বহাল আছে। এতে খালের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং বেআইনি।এটি ভাঙা না হলে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনার জন্য উদ্যোগ নেবো |ব্যারিস্টার মনোয়ার আরো বলেন, অপরদিকে শেখ মুজিব রোড কালভার্ট সংস্কারের কোন সংস্কারের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এটি শত শত কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি সিডিএ এভিনিউ (বিশ্বরোড) এর সম্প্রসারণ কাজ চলছে, কিন্তু এর বাহির অতিরিক্ত ধারণকৃত পানি গুলো দ্রুত গতিতে নিস্কশিত হওয়ার ক্ষেত্রে এই বর্ষাতে প্রবলভাবে বাঁধা পাবে যদিনা বর্ষার আগেই এ সবকিছুর সুরাহা না হয়। অন্যান্য স্থানে আমরা লক্ষ্য করেছি একই পরিস্থিতি। স্লুইস গেটগুলোর নির্মাণ কাজ কতটুকু হয়েছে তাও এখনো জনগণ জানেন না। মুরাদপুর শহীদ জানে আলম সড়কসহ নগরীর বেশিরভাগ গলিতে ড্রেনগুলো মেগা প্রকল্পের আওতায় এনে সংস্কার ও সম্প্রসারণ না করায় এখান থেকে ময়লা পানি জমে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। আমরা এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আসন্ন বর্ষার আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভরাট খাল ও ড্রেন গুলো সংস্কারের জন্য। এই সাথে মেগা প্রকল্প কাজের এ যাবৎ অগ্রগতির ব্যাপারে জন্যগণকে একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার জন্য সিডিএ’র প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন বর্তমান মশার উপদ্রব, ভরাট খাল, নালা, সংস্কার বিহীন অলিগলি, যানজট, শব্দ ও পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি দেখে মনে হয় না এখানে কোনো একটি সিটি কর্পোরেশন বা কতৃপক্ষ রয়েছে। মশার উপদ্রব থেকে জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সিটি কর্পোরেশন। মানুষ অত্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে | ঠিক এই সময়ে সিটি কর্পোরেশন বলেছে সংস্কারকৃত নবনির্মিত ড্রেনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন নেবে না যদি অর্থ আগে না আসে । আমরা মনে করি এসব সিটি কর্পোরেশের এর দায়িত্ব এবং এর জন্য বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক শুনতে নগরবাসী আগ্রহী নয় | নগরীর মেয়র সাহেবের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর এক নাম্বর প্রতিশ্রুতি জলাবদ্ধতার দ্রুত সমাধান এবং তিনি এ থেকে সরে আসবেন না আশা রাখি | আমার সাথে মেয়র সাহেবের ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো এবং তিনি আমার এবং আজকে উপস্থিত সহযোদ্ধা বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী শাহরিয়ার খালেদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা চট্টগ্রামের দুঃখ খ্যাত চাক্তাই খাল আন্দোলনের কমিটিতে তিনি অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি আহ্বান মেয়র সাহেবকে যেন জনগণকে হতাশ না করে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং সিটি কর্পোরেশনকে জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজে লাগান।দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণের ভালোবাসা বঞ্চিত হবেন | আমরা আসন্ন বর্ষার আগেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভরাট খাল ও ড্রেন গুলো সংস্কারের জন্য দাবি যাচ্ছি । এই সাথে মেগা প্রকল্প কাজের এ যাবৎ অগ্রগতির ব্যাপারে জন্যগণকে একটি সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়ার জন্য সিডিএ’র প্রতি দাবি জানাচ্ছি।আজ আমরা সার্বিক বিবেচনা করে ঘোষণা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে নগরীকে মশামুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আমরা গণ-অনশনসহ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব। এই সাথে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন এর কাছে দাবি করছি এ যাবৎ খোলা ড্রেনে পড়ে যারা মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এবং এসব পুনরাবৃত্তি বন্ধে কি করা উচিত তা সংশ্লিটরা জানেন| আর একটিও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নগরবাসী আর নিশ্চুপ থাকবে না।চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো: কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লাইলা বানু গোলাপুর রহমান, মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, আকরাম হোসেন, এড টি আর খান, এ জি এম জাহাঙ্গীর আলম, আধ্যাপক ফরিদ, কানিজ ফাতেমা, এড ইমতিয়াজ, তসলিম খাঁ প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:09 pm
ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র

সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকায় অবস্থিত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে এক হাজার বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রোববার আয়োজিত এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ সময় মেয়র বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এমন সময় ওআইসি সদস্য দেশগুলোর এই আন্তরিক সহযোগিতা দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর এই সহমর্মিতা শুধু ত্রাণ সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সংহতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পানি নিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ দুর্যোগ মোকাবিলাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ঢাকাস্থ দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বলেন, মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ওআইসি সদস্য দেশগুলোর অন্যতম অঙ্গীকার এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এই সহায়তা সেই অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।

ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ঢাকাস্থ দূতাবাস ও হাইকমিশনের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিচালিত এই ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধি ড. খালেদ আবুশাউইশ (Dr. Khaled Abushawish) এবং ড. আবদেলরহমান আলসোরাদি (Dr. Abdelrahman Alsoradi), চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা সহ ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পতেঙ্গায় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের পাশে মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:00 pm
পতেঙ্গায় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের পাশে মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীতে সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পতেঙ্গা থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নগরীর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কাটঘর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল-মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

তিনি এই মানবিক উদ্যোগ সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করা দলীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুল হক, পতেঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, পতেঙ্গা হালিশহর শ্রমিক দলের সভাপতি আবু জাফর, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হারুন কোম্পানি, ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. লোকমান, সদস্য সচিব মনজুর কাদেরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানবতার সেবায় মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 8:39 pm
মানবতার সেবায় মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান

সাম্প্রতিক অতিভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম আরও বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নগর বিএনপির ত্রাণ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। আমি মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক অসহায়, দুস্থ ও বন্যাকবলিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অনেক পরিবার আজ কর্মহীন ও খাদ্যসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কষ্ট লাঘবে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। মানবিক এই উদ্যোগে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে ইনশাআল্লাহ আমরা আরও বেশি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব।

সভায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। এসময় ৫০ লাখ টাকার ত্রাণ তহবিল গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আওতাধীন সকল থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ অবস্থান থেকে ত্রাণ সংগ্রহ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানানো হয়। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ত্রাণ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান গ্রহণ করবেন এবং তা দ্রুত বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু ও আহামেদুল আলম রাসেলসহ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে মহানগর বিএনপির আওতাধীন সকল থানা, ওয়ার্ড এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মানবিক এই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।