খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের শিশুরা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মে, ২০২২, ১:২০ অপরাহ্ণ
ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের শিশুরা: প্রধানমন্ত্রী

ডিভাইস-নির্ভর হয়ে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাটে বসবাসরত শিশুরা দিনে দিনে ‘ফার্মের মুরগি’ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য তাদের মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে মা-বাবা, অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ থাকা ‘একান্তভাবে প্রয়োজন’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই মাঠ করে দেয়া হচ্ছে।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার সকালে ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮৫ সংগঠক ও ক্রীড়াবিদের মাঝে ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, ঢাকা শহরে খেলাধুলার জায়গা সবচেয়ে কম। ইতোমধ্যে আমরা কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছি, প্রতিটি এলাকায় যেন খেলার মাঠ থাকে। আমাদের শিশুরা এখন তো সবাই ফ্ল্যাটে বাস করে, ফ্ল্যাটে বাস করে করে ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে।

‘এখন তো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড এগুলো ব্যবহার করে সারাক্ষণ ওর মধ্যে পড়ে থাকা, এটা আসলে মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে সুস্থতার লক্ষণ নয়। সে জন্যই বাবা-মা, যারা গার্ডিয়ান, অভিভাবক, তাদের আমি অনুরোধ করব কিছু সময়ের জন্য হলেও ছেলেমেয়েরা যাতে হাত-পা ছোঁড়ে খেলতে পারে, সেটা আপনাদের উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকায় খেলার মাঠ থাকা একান্তভাবে প্রয়োজন। ইতোমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে খালি জায়গা পাচ্ছি, খেলার মাঠ করে দিচ্ছি।’

প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ

দেশের প্রতিটি উপজেলায় ছোটো পরিসরে খেলার মাঠ নির্মাণে সরকারের নেয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নির্মাণকাজে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ, সেই খেলার মাঠগুলো খুব বড় স্টেডিয়াম না, ছোটো করে, মিনি স্টেডিয়াম আমি নাম দিয়েছি। কাজেই সেটার নির্মাণকাজ চলছে। এটা সময় নিচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আরও দ্রুত শেষ করা দরকার। এ পর্যন্ত ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।’

আরও ১৭১টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তবে আমি মনে করি, এ ব্যাপারে যথেষ্ট সময় নেয়া হচ্ছে, যাতে আর সময় নেয়া না হয়, সেটা দেখতে হবে।’

প্রতি জেলায় জেলায় স্টেডিয়ামগুলোকে শুধু ক্রিকেটের জন্য নির্দিষ্ট না করে, সব খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই স্টেডিয়ামগুলো সব খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ক্রিকেটের জন্য পিচ তৈরি থাকবে, সেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

‘স্টেডিয়ামগুলো যদি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, শুধু ক্রিকেট নয় সব ধরনের খেলাধুলা, স্পোর্টস সেখানে চলবে, নইলে ওটা পড়ে থাকে, নইলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। সেটা যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে খেলাধুলার দিকে আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি আগ্রহী হবে।’

খেলাধুলাকে এক ধরনের শরীরচর্চা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে শারীরিক, মানসিকভাবেও আমাদের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট উন্নত হবে।’

মাঠে নামতে হবে জয়ের মানসিকতা নিয়ে

প্রতিটি খেলায় জয়ের মানসিকতা নিয়ে ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামতে খেলোয়াড়দের প্রতি পরামর্শ রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের প্রতিটি খেলোয়াড়, সংগঠক, যারা আনুষঙ্গিক থাকেন, প্রত্যেকেই যদি মনে মনে সব সময় এই চিন্তাটা করেন যে আমরা যুদ্ধে বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা কখনো পরাজিত হব না, পরাজয় মেনে নেব না।

‘আমাদের জয়ী হতেই হবে। এই আত্মবিশ্বাসটা নিয়ে যদি মাঠে থাকা যায় যেকোনো খেলায়, যেকোনো ইসে আমরা জয়ী হতে পারি। কাজেই আমাদের মাঝে সেই আত্মবিশ্বাসটা সব সময় থাকতে হবে। সেটাই আমার আহ্বান।’

২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথা উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

ক্রীড়া খাতে দেশের নারীরাও পিছিয়ে নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পোর্টস মিনিস্টারকে বলতে পারি, ফুটবল-ক্রিকেট সব ক্ষেত্রে নারীরা, কিন্তু অনেক পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। তাদের একটু বেশি করে সুযোগ দিতে হবে এবং আরো উৎসাহিত করতে হবে।’

বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য আলাদা মাঠ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সংসদ ভবনের পাশে যে মাঠ, সেটা আমরা নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করেছি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা সেখানে খেলাধুলা করবে। সেখানে তাদের জন্য একটা অ্যাকাডেমি আমরা তৈরি করে দিচ্ছি।’

তাদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কারণ তারাই সব থেকে বেশি সম্মান আমাদের জন্য নিয়ে এসেছে। তারা তাদের যথেষ্ট পারদর্শিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে।’

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২১৬টি স্বর্ণ, ১০৯টি রৌপ্য ও ৮৪টি ব্রোঞ্জ পদক দেশের জন্য জিতেছেন বলে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘তারা কিন্তু তাদের পারদর্শিতা আরও বেশি দেখাচ্ছে। আমাদের যারা সুস্থ, তারা যা পারছেন না, এরা কিন্তু আরও বেশি পারে। এটাই আমার ধারণা, আমি দেখতে পাচ্ছি।’

রক্ষা করতে হবে গ্রামীণ খেলা

দেশীয় ও গ্রামীণ জনপদের খেলাগুলোকে সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতেও তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে অনেক খেলা আছে। গ্রামীণ খেলাগুলো কিছুটা চালু করা হয়েছে। সেগুলো সচল করতে হবে। যেগুলো খুব বেশি খরচ লাগে না, তারা নিজেরা খেলবে।

‘স্কুল প্রতিযোগিতা, আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা- এই প্রতিযোগিতাগুলো যাতে ব্যাপকভাবে চলে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছি। যা যা প্রয়োজন সব করে দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশীয় খেলাগুলো ডাংগুলি থেকে শুরু করে সাত ছাড়া থেকে শুরু করে হাডুডু- সব খেলাই তো আমাদের দেশে ছিল। স্কুলে স্কুলে খেলা হতো। সেই খেলাগুলো এবং আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা এগুলো করতে হবে।’

আহত ও অসচ্ছ্বল ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী আইন ২০১৫ প্রণয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা অসচ্ছল বা কেউ খেলতে গিয়ে আহত হন বা অসুস্থ হন তাদের যেভাবেই হোক আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং যতক্ষণ আমি আছি সেটা দিয়ে যাব। কিন্তু একটা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ব্যবস্থায় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা করতে চাই।’

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।