আইপিএলে প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে গুজরাট
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৫তম আসরের ফাইনালে উঠেছে প্রথমবারের মত অংশ নেওয়া গুজরাট টাইটান্স। যে দলকে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাজি ধরার লোক ছিলেন না, সেই গুজরাটই প্রথম ফাইনালিস্ট হিসেবে নাম লিখিয়েছে।
আসরের প্রথম কোয়ালিফায়ারে জমজমাট লড়াইয়ে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। গত ৩ ম্যাচে মলিন থাকা জস বাটলার এই ম্যাচে আবার জ্বলে উঠলেও তার ইনিংস ম্লান হয়ে গেছে ডেভিড মিলারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে দর্শকে ভরপুর ভেন্যুতে টস জিতে গুজরাট এদিন প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। হাই ভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান জড়ো করে রাজস্থান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন জস বাটলার, ৫৬ বলের মোকাবেলায়। তার ইনিংস সাজান ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কায়।
এছাড়া অধিনায়ক স্যাঞ্জু স্যামসন ২৬ বলে ৪৭ ও দেবদূত পাড়িকাল ২০ বলে ২৮ রান করেন। গুজরাটের পক্ষে একটি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ শামি, যশ ধূল, রবিশ্রীনিবাসস সাই কিশোর ও অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। রশিদ খান কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে গুজরাটের শুরুটা ভালো হয়নি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জড়ো করার আগেই দলটি হারিয়ে ফেলে ঋদ্ধিমান সাহাকে। এরপর ৭২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন শুবমান গিল ও ম্যাথু ওয়েড। দুজনই ৩৫ রান করে ধরেন সাজঘরের পথ।
ম্যাচ কিছুটা কঠিন হয়ে উঠলে রাজস্থানের বোলারদের ওপর চড়াও হন হার্দিক পান্ডিয়া ও ডেভিড মিলার। শেষপর্যন্ত দুজনের ১০৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গুজরাটকে ৩ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। মিলারই ছিলেন জয়ের মূল নায়ক, যিনি ৩৮ বলের মোকাবেলায় ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া ২৭ বলে ৫টি চারে ৪০ রান করেন হার্দিক। রাজস্থানের পক্ষে একটি করে উইকেট শিকার করেন ট্রেন্ট বোল্ট ও ওবেদ ম্যাকয়।
এই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় রাজস্থানকে ফাইনালে ওঠার জন্য খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মধ্যকার এলিমিনেটর ম্যাচের জয়ী দল রাজস্থানের বিপক্ষে খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। প্রসঙ্গত, প্লে-অফের এবারের দলগুলোর মধ্যে রাজস্থানই একমাত্র দল যাদের অতীতে আইপিএল জেতার রেকর্ড আছে।


আপনার মতামত লিখুন