খুঁজুন
, ,

রিয়ালের ১৪ তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 29 May, 2022, 10:51 am
রিয়ালের ১৪ তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়

মোহামেদ সালাহর বিধ্বংসী আক্রমণ, সাদিও মানের বুলেট গতির শটে জেরবার অবস্থা। কিন্তু থিবো কোর্তোয়া অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় শুধু পোস্ট আগলে রাখলেন না, যেন ধরে রাখলেন রিয়াল মাদ্রিদের হাল। এর মাঝেই আচমকা এক প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান গড়ে দিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ব্যস, আসর জুড়ে দুর্দান্ত সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা কার্লো আনচেলত্তির দল সাফল্যের রঙ-তুলি দিয়ে আঁকল চেনা ছবি। ইউরোপ সেরার মুকুট আবারও উঠল তাদের মাথায়।

ফ্রান্সের প্যারিসে শনিবার রাতের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে রেকর্ড ১৪তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল মাদ্রিদের দলটি।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে রিয়ালের এবারের সাফল্যকে অবিশ্বাস্য বললেও বুঝি কম বলা হয়। নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপেই তারা পড়েছিল ছিটকে পড়ার দ্বারপ্রান্তে এবং হার না মানা, হাল না ছাড়া মানসিকতায় প্রতিবারই খাদের কিনারা থেকে দুর্দান্ত সব ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে দলটি।

ফাইনালের মঞ্চে অবশ্য তেমন কোনো গল্প বা মহাকাব্য নয়, বরং প্রতিপক্ষের টানা আক্রমণের মুখে ঘর সামলাতেই ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। তবে, এত চাপে একটুর জন্যও দিক হারায়নি দলটি। রক্ষণ জমাট রেখে কাটিয়ে দেয় সময় আর বিশ্বস্ত প্রহরীর মতো পোস্ট আগলে রাখলেন কোর্তোয়া।

মাঠে আক্রমণের হিসেবে লিভারপুলের দাপট কতটা ছিল, তা ম্যাচ পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ফুটে উঠছে। গোলের উদ্দেশ্যে ২৪টি শট নেয় তারা, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। সেখানে রিয়াল নিতে পারে মোটে চার শট, লক্ষ্যে মাত্র দুটি।

‘হিসাব চুকানোর আছে, নেওয়ার আছে প্রতিশোধ’-এই শব্দগুলো ফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি যার মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে সেই মোহামেদ সালাহ ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে প্রথম নিশ্চিত সুযোগ পান। ছয় গজ বক্সে জটলার মধ্যে ঠিকমতো তিনি শট নিতে না পারলেও বল ছিল লক্ষ্যে, শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে ফেরান কোর্তোয়া।
পরক্ষণেই আরেকটি সুযোগ পায় লিভারপুল; এবার অবশ্য থিয়াগো আলকান্তারার শট যায় কোর্তোয়া বরাবর। এক মিনিট পর আবারও ভীতি ছড়ান সালাহ। তবে তিনিও শট নিয়ে বসেন কোর্তোয়ার সোজা।

চাপ ধরে রেখে ২১তম মিনিটে সেরা সুযোগটি পায় লিভারপুল। তবে কোর্তোয়ার নৈপুন্যে ও ভাগ্যের ছোঁয়ায় বেঁচে যায় রিয়াল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে সাদিও মানের জোরাল নিচু শটে ঝাঁপিয়ে কোনোমতে আটকান গোলরক্ষক, তার হাতে লেগে বল বাধা পায় পোস্টে।

একচেটিয়া আক্রমণে প্রথম ২৮ মিনিটে মোট ছয়টি শট নেয় লিভারপুল, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে। এই সময়ে রিয়াল কোনো শটই নিতে পারেনি। এরপর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও পারছিল না তারা। উল্টো ৩৪তম মিনিটে আবারও ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান সালাহ। যদিও আবারও গোলরক্ষক সোজা হেড করে নিয়ে হতাশ করেন তিনি।

৪৩তম মিনিটে ঘটে প্রথমার্ধের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি। মাঝমাঠের কাছ থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়েও গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় শট নেওয়ার জায়গা পাননি বেনজেমা। বল হারিয়েও ফেলেন তিনি, অবশ্য আলিসন ও ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতের ভুলে লিভারপুলও পারেনি বল ক্লিয়ার করতে।

ফাবিনিয়ো ও কোনাতের থেকে বল কাড়তে ছুটে যান ফেদে ভালভেরদে, পারেননি তিনিও। তবে তাদের বল কাড়াকাড়ির মাঝেই ফাঁকায় পেয়ে যান বেনজেমা। এবার আর জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। ভিএআর অনেক সময় নিয়ে দেখে অফসাইডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। শেষবার বেনজেমা বল পাওয়ার সময় শেষ খেলেয়াড় হিসেবে তার পেছনে ছিলেন অ্যান্ড্রু রাবার্টসন।

বিরতির পরও একইরকম আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে লিভারপুল। তবে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ৫৯তম মিনিটে তাদের হতভম্ব করে দেয় রিয়াল। ডি-বক্সে ডান দিক থেকে ভালভেরদে অসাধারণ এক কোনাকুনি পাস বাড়ান গোলমুখে। ওখান থেকে বিনা বাধায় বল জালে পাঠাতে ভিনিসিউসের কেবল একটা ছোঁয়ারই দরকার ছিল।

গোলের উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্যে এটা ছিল রিয়ালের দ্বিতীয় শট। যেখানে ওই সময়ের মধ্যে লিভারপুলের ১০ শটের ৫টি ছিল লক্ষ্যে। মৌসুমে জুড়ে দুর্দান্ত খেলা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল হলো চারটি।

একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করলেন ২০০০ সালের ১২ জুলাই জন্ম নেওয়া ভিনিসিউস।

অধিকাংশ সময় আধিপত্য ধরে রেখেও এভাবে গোল হজম করাটা বড় ধাক্কাই বটে। তবে খেই হারায়নি লিভারপুল। ৬৪তম মিনিটে তো গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল দলটি; কিন্তু পারেনি কোর্তোয়ার দেয়াল ভাঙতে। ডি-বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে বাঁ দিকে বল পায়ে কিছুটা আড়াআড়ি গিয়ে দূরের পোস্টে চমৎকার বাঁকানো শট নেন সালাহ, অসাধারণ নৈপুণ্যে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

গোলপোস্টে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটানো কোর্তোয়া পাঁচ মিনিট পর আবারও রিয়ালের ত্রাতা। একেবারের গোলমুখে সালাহর প্রচেষ্টা কোনোমতে পা দিয়ে আটকান তিনি। খানিক পর গোলমুখে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও নিরাশ করেন কাসেমিরো। প্রথম সুযোগে শট নিয়েই ভুলটা করেন তিনি, বলও হারিয়ে ফেলেন।

৮২তম মিনিটে আবারও লিভারপুলের হানা এবং যথারীতি কোর্তোয়ার প্রাচীরে মুখ থুবড়ে পড়ল তা। এবার সালাহর কোনাকুনি শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে ঠেকান তিনি।

বাকি সময়ে লিভারপুল কেবল আক্রমণই শানিয়েছে, কিন্তু সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আর। আসরে সর্বোচ্চ ১৫ গোল করা এবং মৌসুমে রিয়ালের সব সাফল্যের মূল নায়ক বেনজেমা শেষে গোল করে মুহুর্তটা আরও রাঙানোর সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে কাজে লাগাতে পারেননি।

তবে ক্ষণিকের সেই ব্যর্থতা ম্লান হয়ে গেছে শিরোপা হাসির কাছে। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের পর শেষের বাঁশি বাজতেই সেই চেনা দৃশ্য; হতাশায় মুখ ঢেকে নুয়ে পড়লেন লিভারপুলের অনেকে। আর পাশেই উল্লাসে ফেটে পড়ল রিয়ালের কোচ, খেলোয়াড় এবং গ্যালারির দর্শকরা।

২০১৭-১৮ আসরের ফাইনালে এই লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ত্রয়োদশ শিরোপা জিতেছিল রিয়াল। তাদেরকেই কাঁদিয়ে সংখ্যাটা ১৪-তে উন্নীত করল মাদ্রিদের দলটি।

লিভারপুল প্রতিশোধ নিতে পারল না। কিছুদিন আগেও দলটির আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল কোয়াড্রপল জয়ের স্বপ্ন। গত সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ডে জিতেও ভেস্তে যায় শিরোপা সম্ভাবনা। তারপরও টিকে ছিল ট্রেবল জয়ের আশা। সেই আশাও নিভে গেল এবার। শেষ পর্যন্ত ওই লিগ কাপ ও এফএ কাপ জয়েই শেষ হলো তাদের দারুণ এক মৌসুম।

বরং প্রতিশোধ নিল রিয়াল; ১৯৮১ সালে এই প্যারিসেই ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে ‘অল রেড’ খ্যাত দলটির বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।

লিভারপুলের বিপক্ষে তাদের সবশেষ হারের স্মৃতিও ওটাই। এরপর থেকে এই নিয়ে আরও ছয়বার মুখোমুখি হয়ে রিয়াল জিতল পাঁচবার, অন্যটি ড্র।

আক্রমণভাগে পরীক্ষিত শক্তির ঘাটতি, রক্ষণে নতুন মুখ, মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কিন্তু ‘বুড়ো’ হতে বসা তারকা-সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে রিয়ালকে নিয়ে বাজি ধরার লোক খুব বেশি কি ছিল? উত্তরটা যাই হোক, শেষের হাসি তাদের এতটাই চওড়া যে, শুরুর কথা এখন কেই-বা মনে রাখে!

মাদ্রিদে সময়টা যে এখন আনন্দে ভাসার, উৎসবে মেতে ওঠার।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।