খুঁজুন
, ,

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 June, 2022, 9:00 pm
৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব আজ সংসদে পেশ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন। এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

তিনি পাওয়ার পয়েন্টে প্রস্তাবিত বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক, সরকারের পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যন্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ, চলতি বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬.২ শতাংশ।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করার প্রস্তাব করা হয়। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা, এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে আজ দুপুরে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রস্তাবিত বাজেটে অনুস্বাক্ষর করেন।

এছাড়াও, অর্থমন্ত্রী আজ ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট পেশ করেন। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এ মেয়াদের চতুর্থ বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালেরও চতুর্থ বাজেট। আর বাংলাদেশের ৫১তম বাজেট। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দু’টি বাজেটের পর এবার অর্থমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ আকারে বাজেট পেশ করেন। বাজেট পেশের সময় এবার সরকার ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দেন।

অর্থমন্ত্রী বিকেল ৩টায় দিকে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদ, চার জাতীয় নেতা, মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা বোন এবং অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া তিনি বৈশ্বিক মহামারি কোভিড- ১৯ আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদে প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে বাজেট বক্তৃতা শোনেন এবং অধিবেশন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৩ অর্থ বছর ধরে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির আঘাতে দেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অর্থননৈতিক অগ্রযাত্রাকে যেভাবে বাধাগ্রস্ত করছে তা থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জীবন ও জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সরকার দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় করোনা মহামারির ফলে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাশিয়া ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বৈশ্বিকভাবে বিভিন্ন খাতে যে অভিঘাত শুরু হয়েছে তা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে প্রস্তাব করা হয়েছ ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

Feb2
Feb2

৪৫ দিন পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু মঙ্গলবার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 9:22 pm
৪৫ দিন পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু মঙ্গলবার

দীর্ঘ ৪৫ দিন পর পুনরায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা পুনরায় শুরু হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লাইসেন্স পুনর্বহালের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহতাআলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছে। একইসঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর কর্তৃপক্ষ আপিল করে। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে তা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় পরিচালনার অনুমতির সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে সরকার। শর্ত অনুযায়ী, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 9:03 pm
নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

‘নিজেকে ছোট না ভেবে নিজেকে গড়ে তোলো, তাহলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’—নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলেই আমরা ভবিষ্যতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—গ্যালারিতে যে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছ, তোমাদের মধ্য থেকেই এই দেশের ভালো ডাক্তার, ভালো স্থপতি, ভালো প্রকৌশলী, ভালো ক্রিকেটার, ভালো সাঁতারু ও ভালো টেনিস খেলোয়াড় তৈরি হবে।

অর্থাৎ, তোমাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেরা খেলোয়াড় ও গুণী ব্যক্তিত্ব বের হয়ে আসবে। আজ তোমরা সেটিই প্রমাণ করে দেখিয়েছ। তোমাদের মধ্য থেকেই এমন ভালো মানুষ তৈরি হবে, যারা এই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কাজেই নিজেকে কখনো ছোট ভাববে না, নিজেকে বড় করে গড়ে তুলতে হবে। তুমি যত শক্তভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে, তোমার বাংলাদেশকেও তত সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবে।

গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার ভাই যারা এখানে উপস্থিত আছেন—সেটি ইলেকট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়া যাই হোক—আপনাদের এবং আপনাদের সম্পাদকদের কাছে আমার একটি অনুরোধ আছে। আমরা সব সময় দেখি, পত্রিকায় বা খবরে বিভিন্ন বিষয়কে হাইলাইট বা ‘লিড নিউজ’ করা হয়। তবে আজ আপনারা যে ইভেন্টটি দেখে গেলেন, সেটিই মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, যত খবরই থাক না কেন, আগামীকাল আপনাদের পত্রিকা ও সম্প্রচারমাধ্যমে এই শিশুদের খেলার সংবাদটি যেন ‘লিড নিউজ’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। আশা করি, আজকের রাতের সংবাদে ও আগামীকালের পত্রিকায় আমাদের এই ভবিষ্যৎদের সুন্দরভাবে তুলে ধরবেন।

দেশের সমস্যা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করছি না। তবে এই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা দেখছি—বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা জানি, বহু স্কুলে এখনো প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা নেই; অনেক শ্রেণিকক্ষে হয়ত ফ্যানও সঠিকভাবে চলে না। আপনাদের এই সরকার সেসব সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার এই কাজ তখনই সার্থক হবে, যখন গ্যালারি ও সামনের সারিতে বসে থাকা তোমরা নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারবে। আজকের এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইভেন্ট থেকে আমি তোমাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিতে চাই—তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তোলো, তবেই আমরা একযোগে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

‘বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে?’—অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী তাদের জবাব জানতে চান। তিনি বলেন, কারা আমার সঙ্গে আছ, কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাও—হাত তোলো। এ সময় পুরো গ্যালারির হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী একযোগে হাত তুলে সম্মতি জানালে প্রধানমন্ত্রী তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ার সময়ে মন দিয়ে পড়তে হবে, আর খেলার সময় একইভাবে মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় কিশোর-কিশোরীদের সহায়তা কামনা

পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার বিষয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সবার। এই দেশের আলো, বাতাস ও পরিবেশ যদি আমরা সবাই মিলে ঠিক রাখি, তবেই আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে বাঁচতে ও পড়াশোনা করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের কাছে আমার একটি বিশেষ অনুরোধ—রাস্তায় বা বাসার আশপাশে, এমনকি পুকুর-নদীনালায় কাউকে প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা ফেলতে দেখলে তোমরা তাকে বারণ করবে। প্রয়োজন হলে সেই ময়লাটি তোমরা নিজেরা তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলবে।

নদী-পুকুরের পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেন, কেউ জলাশয়ে ময়লা ফেললে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে, যাতে নদী ও পুকুরের পানি পরিচ্ছন্ন থাকে এবং মানুষ তার পাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারে। এছাড়া আমার আরেকটি চাওয়া হলো—তোমরা প্রতিবছর বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। আমরা যদি গাছ লাগাতে পারি, তবে আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হবে এবং আমরা সবাই বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারব।

শিশুদের সার্বিক বিকাশে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের পাশে আছি। তোমরা যারা পড়াশোনা করতে চাও, সরকার থেকে আমরা সেই ব্যবস্থা করব যাতে সবাই ভালোভাবে পড়ালেখা করতে পারো। এছাড়া যারা গান গাইতে, ছবি আঁকতে

আঁকতে কিংবা খেলাধুলা করতে চাও—সরকারের পক্ষ থেকে তোমাদের সব ধরনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, তবে তোমাদের সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের যোগ্য করে তোলো, তবেই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই গড়ার কাজ হয়তো আমরা শুরু করেছি, কিন্তু একে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব তোমাদেরই।

অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে খুদে খেলোয়ারদের অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতায় এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে সন্তানদের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে—সেই বাবা-মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সহায়তাকারী কোচদের আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ফুটবলের ফাইনালে বিজয়ী দল বালকদের মধ্যে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চল। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন এবং প্রতিযোগিদের হাতে ক্রেস্ট –মেডেল ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬ সমাপনি অনুষ্ঠান হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়া অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ছিলেন।

এর আগে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে ধারাবাহিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। জাতীয় পর্বের খেলাগুলো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে।

শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 6:22 pm
শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না, প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ: অর্থমন্ত্রী

শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, উচ্চপ্রযুক্তি ও অন্যান্য বহুমুখী শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি পেয়েছিল, যা ছিল মূলত ঋণনির্ভর। এখন সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। কারণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, চাইনিজরা বিশাল আকারে বাংলাদেশে আসছে। তারা শুধু গার্মেন্টস খাতে নয়, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট থেকে শুরু করে সেলফোন উৎপাদনসহ নানা ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ করছে। শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করলে অর্থনীতি এগোবে না। আমাদের প্রয়োজন বহুমুখী বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন জ্ঞান।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই অঞ্চলে নতুন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, শক্তিশালী হবে সাপ্লাই চেইন, বাড়বে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র পথ বিনিয়োগ। এ কারণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইন, নীতিমালা ও বিধি-বিধানে ব্যাপক সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু চীনের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), দেশীয় বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারে বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহও বাড়ছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশি ও বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। আবার বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও সম্ভব নয়। তাই নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।