খুঁজুন
, ,

আনোয়ারায় স্বামীর লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা নববধূর বাচ্চা নষ্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 June, 2022, 10:43 pm
আনোয়ারায় স্বামীর লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা নববধূর বাচ্চা নষ্ট

আনোয়ারা প্রতিনিধিঃ স্বামী ফোরকানের ফতোয়া ছিল, তাঁর সঙ্গে সংসার করতে হলে ব্যাবসা করতে বাপের বাড়ির থেকে নগদে ২ লাখ টাকা এনে দিতে হবে এবং সন্তান নেওয়া যাবে না। কিন্তু স্বামী সহবাস বন্ধ না করায় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

স্বামী ফোরকান নিদান দিয়েছিলেন, বিয়ে আরেকটি করবে আর ভাড়া বাসায় ২য় বউ রাখবে তাই জান্নাতুল এর সন্তান নেওয়া যাবে না। জান্নাতুল ফেরদৌস তার বাড়িতে বুয়ার কাজ করবে। আর তাকে মাদক সেবনের খরচ জোগাড় করে দিতে হবে। সে নিদান মানেননি স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। তাই তাঁর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি আনোয়ারার ২নং বারশত ইউনিয়ন এর চালিতাতলী এলাকায়। এমন ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত মেয়ের পরিজন থেকে প্রতিবেশীরাও। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই গত ২২জুন বুধবার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে অভিযোগ করলেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০২১সালের নভেম্বর এর ২৬তারিখ মাত্র ৬মাস আগে আনোয়ারা ২নং বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা গফুরের ছেলে ফোরকানের সঙ্গে বিয়ে হয় জান্নাতুলের।বিয়ের সময় ফার্নিচার বাবদ জনসম্মুখে নগদ এক লক্ষ টাকাসহ পাচশত মানুষ বরযাত্রী খাইয়ে ও কানে, হাতে, নাকে, আংগুলে সব মিলিয়ে ১ভরি স্বর্ন বুঝিয়ে দিয়ে ধুমধামে সামাজিকভাবে বিবাহ দেন মেয়ের পরিবার। কিন্তু বিগত ৬ মাসে ছেলের পরিবার প্রায় ৬০০ বারের বেশি মারধর করেছে। এই বিষয় নিয়ে বহুবার সামাজিকভাবে বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষের দুই ওয়ার্ডের মেম্বারগন বসে ছেলে ও ছেলের বাবার থেকে একটি মুচলেকা নেয়া হলেও তারা আজোব্দি ঠিক হয়নি। মুছলেখাতে ২ মাসের মধ্যে মেয়েকে সব কিছু কিনা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় আর নির্যাতন বন্ধ করবে বলে স্বীকারোক্তি দেয় গফুর ও ছেলে ফোরকান।

জান্নাতুল ফেরদৌসের অভিযোগ, বিয়ের পরেই তাঁর স্বামী ফোরকান ও তার পরিবার গায়ের সকল স্বর্ন খুলে নিয়ে বেচে দেয়। স্বর্ন বেচা টাকা দিয়ে বাবা ও ছেলে চোলাই মদ, গাজা ইয়াবা সেবন করেন বাবা ও ছেলে। মাদকাসক্ত হয়ে বাবা গফুর ও ছেলে ফোরকান গভীর রাতে বাসায় ফিরেন।বাবা গফুর দিবালোকেও মদ খেয়ে পাগলামি করেন। আর আমার স্বামী ফোরকান বাসায় না থাকলে আমার শশুর গফুর বিভিন্ন ভাবে আমাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন।বহুবার গায়ে হাত দেন,কাপড় ধরে টানাটানি করেছেন।আমি শশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে বা প্রতিবাদ জানালে স্বামী ফোরকান প্রচন্ড লাথি-ঘুষি মারতে থাকেন।এসময়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও আজেবাজে গালিগালাজ করেন। লাঠি এনে দেন ফোরকান কে। ফোরকানের বোন শাহিদা চুল ধরে টানতে থাকেন। আর আমাকে বেশির ভাগ সময়ে তারা খাবার দেন না। আমাকে ক্ষেতে দেয় পচা-বাশি, নষ্ট খাবার গুলি যেগুলি কুকুর কে দেয়া হয় সেইগুলি তারা আমাকে খেতে দেন। তাছাড়া ফোরকান একাধিক মেয়ের সাথে ফোনে ও সরাসরি যোগাযোগ রেখেই চলেছে। একটি মেয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন সেই মেয়েটির সাথে ফোনে কথা বলার জন্য আমাকে পরামর্শ দেন।আমি তার দেয়া মেয়ের সাথে কথা বলতে অসম্মতি জানালে আমাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি দিতে থাকেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস আরো জানান, বিভিন্ন সময়ে ফোরকান বিভিন্ন ‘ফতোয়া’র কথা জানান। জান্নাতুল ফেরদৌসের কথায়, ‘‘স্বামীর ফতোয়া ছিল, তাঁর সঙ্গে সংসার করলেও সন্তান নেওয়া যাবে না।’’ অন্য দিকে, স্বামী সহবাস বন্ধ না করায় বিয়ের চার মাসের মধ্যে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। আর তাতেই চটে যান স্বামী ফোরকান ও তার শশুর বাড়ির মানুষজন। গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করে দিতে হবে বলে নিদান দেন। এই নিদান না মানায় স্বামী ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির আরও চার সদস্য তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। তবে দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করেও গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করতে চাননি তিনি। তাতেই নাকি রাগ চড়ে যায় ফোরকানের।

গত ১০ জুন মধ্যরাতে প্রচন্ড বাক-বিতণ্ড করে স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মেরে তার গর্ভে থাকা ৩ মাসের সন্তানকে তিনি ‘হত্যা’ করেন বলে অভিযোগ। পেটে অসহ্য যন্ত্রণার পাশাপাশি একটু একটু রক্তক্ষরণও শুরু হয় জান্নাতুলের।কাকতালীয় ভাবে জান্নাতুলের বাবা পরদিন ১২তারিখ সকালে মেয়েকে দেখতে যান।গিয়ে দেখেন মেয়ের অবস্থা খারাপ।তিনি গিয়ে সবার থেকে ভালো ব্যাবহারের পরিবর্তে কুকুরের মত খারাপ ব্যাবহার পান ফোরকানের পরিবারের থেকে। মেয়েকে কি হয়েছে বাবা আবদুর রাজ্জাক জিজ্ঞাসা করতেই তারা জান্নাতুল কে চুলের মুটি ধরে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পরনের এক কাপড়ে বের করে দেয়।মেয়ের বাবা আবদুর রাজ্জাক মেয়ে অসুস্থ জান্নাতুল কে এনে পল্লী চিকিৎসক দেখান।পল্লী চিকিৎসা দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। চমেক হাসপাতালের প্রেগ্ন্যাসির রিপোর্টের মতে বাচ্চার ব্রুন নষ্ট হয়ে যায় বলে জানা যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌসের মা সেলিনা বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা মেয়ে বিয়ে দেই।মেয়ের সুখ আর দেখা হলোনা।‘‘হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও আমার মেয়ের গর্ভে থাকা মৃত তিন মাসের সন্তানকে বার করে কোনও রকম তাকে প্রাণে বাঁচিয়েছেন।’’ আমি তাদের উচিত বিচার চাই। শারীরিকভাবে আমার মেয়ে খুব অসুস্থ।

জান্নাতুল ফেরদৌসের উকিল জানিয়েছে, জান্নাতুল ফেরদৌসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করা হয়েছে।বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমুলে নিয়েছেন।খুব দ্রুত জান্নাতুল ফেরদৌস তার সকল অপুরনীয় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণসহ দাবি করা আসামীর শাস্তি পাবেন বলে আশাবাদী।

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।