হাটহাজারীতে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি
হাটহাজারী পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের সময়ের কোন ধারন নেই। এই এলো এই গেলো কি দিনে কি রাতে সর্বোপরি লুকোচুরি খেলা। পুরো উপজেলা জুড়ে চোখের পলকের মত চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। মাসের পর মাস বছরের পর বছর এলাকাবাসীর সহ বিদ্যুৎতের গ্রাহকদের নালিশ সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পরও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে কোন ধরনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এই উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাতার লোকসানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অভাবে উপজেলা সকল শিক্ষা কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়ার কারণে হাটহাজারীতে বর্তমানে সরকারের যুগান্তকারী শিক্ষা নীতি ভেস্তে যেতে বসেছে।
হাটহাজারী উপজেলার একটি পৌরসভা ও একটি সিটি কর্পোরেশনের ১৩ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার ব্যবসায়ী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবেদককে অভিযোগ করে জানান উপজেলার আনুমানিক পাঁচ লাখের উপর মানুষের বসবাস। স্বাধীনতার পর থেকে এই জনপদের জনগণ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যন্ত্রণা ভোগ করে আসছে।
বর্তমান সরকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিদ্যুৎ নিশ্চিত করলেও কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরকারের সাথে জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে তাকে বলে জানান সাধারণ গ্রাহকরা বরং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা কারণে পিডিবি পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজি আরো দ্বিগুণ হয়েছে।
দিনে ২৫ থেকে ৩০ দফা বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে আবার কোন কোন সময় একবার বিদ্যুৎ গেলে কবে নাগাদ ফিরবে তার কোনো হদিস থাকেনা। মূলত ঘরে বাতি জ্বালানোর সময় ও শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে পড়তে বসার সময় পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎতের প্রতিযোগিতামূলক ভাবে লোডশেটিং এর দুরবস্থা দেখা দেয়।
বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো লক্ষ্যমাত্রা ব্যবসা করতে না পারায় প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সারা দিন সারা রাত মিলে কত দফা বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে তার কোনো হদিস নেই। দুই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গ্রাহকরা অভিযোগ দেওয়ার জন্য দুটি ফোন রাখলেও এই ফোনে কল করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে হাটহাজারী ১১ মাইল নামক এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ গ্রীট অফিস রয়েছে এরপরও বিদ্যুৎ এর এ অবস্থা কেনো তা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হাটহাজারী জোনাল অফিসের( ডি জি এম) উপ ব্যবস্থাপক মাহবুবু রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান আমরা বিদ্যুৎ গ্রিট অফিস থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি বিদ্যুৎ লোডশেডিং হলে আমাদেরও অন্ধকারে বসে থাকতে হয় গ্রাহকদের মত। তবে দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ এর এ অবস্থা বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন