আলীনগরে ইয়াসিন বাহিনীর সাম্রাজ্যে প্রথমবারের মতো অভিযান,৩ স্কেভেটর ও ৭ ড্রাম ট্রাক জব্দ
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ সীতাকুণ্ড উপজেলার ১০নং সলিমপুর ইউনিয়ন অপরাধীদের অভয়ারণ্যখ্যাত ‘আলীনগর’। যেখানে ঠাঁই মেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দাগি অপরাধীদের। পাহাড়ি দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে স্থানীয়রা ছাড়া বাইরের কেউ প্রবেশ করতে চাইলে নিতে হয় অনুমতি। এটা দীর্ঘ বহু বছরের নিজের গড়া আইন। আর এই আইনটি তৈরী করেছে এ সাম্রাজ্যের স্বঘোষিত রাজা মোঃ ইয়াসিন।
প্রথমবারের মতো এই সাম্রাজ্যে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলার যৌথ বাহিনী। শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী আলীনগরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, র্যাবের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে দেখা যায়, আলীনগরের সরকারী শত শত একর পাহাড় কাটার দৃশ্য। এসময় দূর্ঘম পাহাড় থেকে মাটি কাটার তিন স্কেভেটর, ৫টি ড্রাম ট্রাক ও দুইটি ট্রাক জব্দ করা হয়। সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম এ অভিযান চালান।
ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ দেখে ভূমি দস্যুরা পালিয়ে গেলেও পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত ৩টি স্কেভেটর ও চারটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর মৌজার বিভিন্ন অংশের সরকারি হাজার হাজার একর পাহাড় দখল শেষে সেসব কেটে প্রতিদিনই নতুন নতুন প্লট তৈরি করে যাচ্ছে প্রভাবশালী ইয়াসিন বাহিনীরসহ ভূমিদস্যুরা।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল আলম, জেলা পরিষদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সীতাকুণ্ড সার্কেল) আশরাফুল করিম, চট্টগ্রাম পরিবেশ উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার, মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ, র্যাবের সহকারী পরিচালক জিন্নাতুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যবৃন্দ।
এব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের দূর্গম এলাকা আলীনগরে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখানে পাহাড় খেকোরা সরকারী শত শত একর পাহাড় কেটে অবৈধভাবে আবাসন গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নয়, এই ম্যাসেজটি আমরা সকল দুষ্কৃতকারীকে দিতে চাই। আমাদের সীতাকুণ্ডের মাটিতে কেউ অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলবে তা আমরা হতে দিব না। সরকার জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে উন্নয়নের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে। খুব শীঘ্রই উচ্ছেদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে (পাশাপাশি প্রকৃত ভূমিহীদের পুনর্বাসন করা হবে)। অভিযানে আমরা ৩ টি স্কেভেটর, ৬ টি ড্রাম ট্রাক ও ১ টি ট্রাক জব্দ করেছি।


আপনার মতামত লিখুন