খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে জালাল উদ্দিন হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদন্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে জালাল উদ্দিন হত্যায় দুইজনের মৃত্যুদন্ড

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের নভেম্বরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন সুলতানকে। ৩১ জুলাই (রোববার) এ খুনের ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদন্ড এবং অন্য দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শরিফুল আলম ভুঁইয়া’র আদালত।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন – কামাল হোসেন ও মো. রাসেল। আর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে লিলু আক্তার রিনা ও সুরমা আক্তারের। তাদের মধ্যে কামাল হোসেনের স্ত্রী লিলু আক্তার পলাতক। বাকি তিন আসামিকে রায় ঘোষণার পর কারাগারে পাঠানো হয়।

২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর ডবলমুরিং থানার সিডিএ আবাসিক এলাকায় জালাল উদ্দিন সুলতান নামের এক ব্যবসায়ীকে শ্বাস রোধের হত্যার পর এ মামলা দায়ের করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নোমান চৌধুরী বলেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জালাল উদ্দিনকে শ্বাসরোধে এবং শারীরিকভাবে জখম করে হত্যা করে। তারপর আগ্রাবাদ সিডিএ বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনির সামনে নালার পাশে লাশ ফেলে দেয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুইজনকে মৃত্যুদন্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি লাশ গুমের অভিযোগে আসামিদের প্রত্যেককে ২০১ ধারায় ৫ বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পিপি নোমান চৌধুরী বলেন, ভিকটিমকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল আসামিরা। উনি টাকা দিতে শুরুতে অস্বীকার করেন। পরে তিনি টাকা দিতে রাজি হলেও নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয়।

আসামিরা সবাই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনা কীভাবে ঘটিয়েছে তা তারাই জানিয়েছে। আমরা ২২ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দিয়েছেন আদালত।

দুই আসামি নারী হওয়ায় বিচারক তাদের মৃত্যুদন্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী নোমান।

নিহত জালাল উদ্দিন সুলতানের ছেলে ইমাজ উদ্দিন সুলতান ফরহাদ বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ মে চারজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

সেখানে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর সকালে আগ্রাবাদে জামান হোটেলের পঞ্চম তলায় নিজের অফিসে যাওয়ার জন্য পশ্চিম গোসাইলডাঙ্গা এলাকার সুলতান আহমদ মঞ্জিলের বাসা থেকে বের হন জালাল উদ্দিন সুলতান।

দুপুরে ছেলে ইমাজ উদ্দিন বাবার নম্বরে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। সেদিন দুপুর ২টার দিকে জালাম উদ্দিনের নম্বর থেকে একটি এসএমএস আসে ছেলের ফোনে। তাতে লেখা ছিল- আমি একটু কাজে আছি।

এতে সন্দেহ হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করে পরিবার। পরদিন সকালে সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৯ নম্বর রোডে ব্যাংক কলোনির উত্তর গেইট সংলগ্ন নালার উপর বস্তাবন্দি লাশ পড়ে থাকার খবর শুনে সেখানে গিয়ে জালাল উদ্দিনকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি কামাল হোসেনের সাথে জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে কামাল ফোন করে জালাল উদ্দিনকে মাদারবাড়ির ২ নম্বর রোডে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

সেখানে জালাল উদ্দিন আসামি সুরমা আক্তারের সাথে কিছু অন্তরঙ্গ সময় কাটায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে এ ঘটনাকে পুঁজি করে কামাল হোসেন টাকা দাবি করে। শুরুতে টাকা দিতে রাজি না হলেও, ছেড়ে দিলে পরে টাকা দেবেন এ শর্তে রাজি হন জালাল উদ্দিন।

কিন্তু ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষতি হতে পারে এ আশঙ্কায় আসামিরা শ্বাস রোধ ও আঘাত করে জালাল উদ্দিনকে হত্যা করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে পুলিশ।

এরপর গুমের জন্য রিকশা ভ্যানে করে বস্তাবন্দি লাশ নিয়ে যাচ্ছিল তারা। কিন্তু ব্যাংক কলোনির সামনে নালার উপর ভ্যান উল্টে পড়লে সেখানেই লাশ ফেলে আসামিরা পালিয়ে যান বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান।

জে-আর

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।